মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে দুই আসামির জেল আপিল হাইকোর্টে শুনানির তালিকায়
· Prothom Alo

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গঠিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ফেনীর নুসরাত জাহান হত্যা ও মাগুরায় শিশু ধর্ষণ–হত্যা মামলাসহ ২০টি ডেথ রেফারেন্স।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের করা পৃথক জেল আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে।
Visit amunra.help for more information.
বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামীকাল রোববারের কার্যতালিকায় জেল আপিল দুটি রয়েছে। গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য সোহেল রানার করা জেল আপিলটি ৩৪ নম্বরে এবং স্বপ্না আক্তারের আবেদনটি কার্যতালিকার ৩৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে ৭ জুন রায় দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র ৯ জুন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়েছে। এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১১ জুন পৃথক জেল আপিল করেন সোহেল ও স্বপ্না। গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য জেল আপিল দুটি সেদিন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পেপারবুক প্রস্তুত, হাইকোর্টে শুনানি শুরুর অপেক্ষাফেনীর নুসরাত, মাগুরায় শিশু হত্যাসহ ২০ ডেথ রেফারেন্স
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে ১০ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই দ্বৈত বেঞ্চটি ১৪ জুন (আগামীকাল রোববার) থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বেঞ্চটির রোববারের কার্যতালিকায় দেখা যায়, ২০টি পৃথক ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য রয়েছে। সঙ্গে দণ্ডিত আসামিদের পৃথক জেল আপিল ও আপিল রয়েছে। এর মধ্যে ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে আসামিদের আপিল ও জেল আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য বেঞ্চটির কার্যতালিকার ১৯ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। আর এক বছরের বেশি সময় আগে মাগুরায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে আসামির করা আপিল ও জেল আপিল কার্যতালিকার ২০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। এসবের ওপর এখন শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।
এদিকে মাগুরায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গত বছরের ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে, যা ৫৩/২০২৫ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।
অন্যদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ জুলাই হাইকোর্টে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। বিচারিক আদালতের রায়ে তাঁকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়।
হাত–পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছিল শরীরে