বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়েছে, যোগ দেয়নি জামায়াতসহ বিরোধী দল
· Prothom Alo

জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে আজ রোববার মতবিনিময় শুরু করেছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। জুলাই সনদে সই করা ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অবশ্য বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্য দলগুলো এ মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছে না।
আজ বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নিয়েছেন। অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, এনডিএম, আমজনতার দল, ইসলামী ঐক্যজোট, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণফোরাম ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নিতে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটির সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত আছেন।
Visit saltysenoritaaz.org for more information.
বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের সরকারি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান ১১–দলীয় ঐক্যেরবৈঠকের আলোচ্যসূচির একটি ‘জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সাথে কমিটির মতবিনিময়’। এর আগে বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে দল ও জোটগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। মতবিনিময়ে দল ও জোটের প্রতিনিধিদের সংবিধান সংশোধন বিষয়ে মতামত উপস্থাপন করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
আজ দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়, অংশ নেবে না বিরোধীরাতবে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে বিরোধী দল। এটি গঠন না করায় সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত সরকারি কোনো উদ্যোগের অংশ হতে চায় না তারা। সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দল প্রতিনিধি দেয়নি। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের যেসব শরিক দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তারাও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে অংশ হতে চায় না। এ কারণে এই দলগুলোর মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর বাইরে আরও দু–একটি দল মতবিনিময়ে অংশ না নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি সংবিধানবিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সে সময় আলোচনা হয়েছিল। বাম ধারার চারটি দল সনদে সই করেনি। সব মিলিয়ে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট ওই সনদে সই করে। এর মধ্যে আটটি দল এখন ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত।
জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান–সম্পর্কিত। এগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণভোট হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ওই আদেশ অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারকাজ শেষ করার কথা।
তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। তাদের দলের সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথও নেননি। এর বদলে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচ প্রতিনিধি চাওয়া হলেও তারা নাম দেয়নি। বিরোধী দল ওই কমিটিও প্রত্যাখ্যান করে।