তরুণ নেতাদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে: রিজভী

· Prothom Alo

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে কিছু তরুণ নেতার বক্তব্যে যে ভাষা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র, সভ্যতা কিংবা উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহায়ক নয়। এই ভাষায় শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই রক্তাক্ত: স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

Visit newssport.cv for more information.

রাজনৈতিক ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাতেন। তাঁরা তাঁকে ফ্যাসিস্ট ও খুনি বলেছেন, কিন্তু কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করেননি। রিজভী বলেন, সমাজে ঘৃণার রাজনীতি করে কেউ টিকে থাকতে পারে না। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার পরাজয় হয়েছে। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উচিত আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি পশ্চাৎমুখী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছে, যা রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এই উপদেষ্টা বলেন, যাঁরা তরুণ, রাজনীতি করেন, তাঁদের চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত প্রগতিশীল ও অগ্রগামী। দেশকে নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যয় থেকেই তরুণদের রাজনীতি করা উচিত।

রুহুল কবীর বলেন, শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন, গুলি চালিয়ে, রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে তিনি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবেন। কিন্তু তিনি এ দেশের মানুষের সাহস ও বীরত্বের ইতিহাসকে মূল্যায়ন করতে পারেননি। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালিয়েছেন। ক্ষমতার জন্য নিজের দেশের মানুষের রক্তের ওপর দিয়েও হাঁটতে তার দ্বিধা ছিল না।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাই বিপ্লব ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর দৃঢ় অবস্থান শেখ হাসিনা তাঁকে বিচ্যুত করতে পারেননি।

সম্প্রতি প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ নিয়ে রুহুল কবীর বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন সরকার নিজেদের লোক নিয়োগ দেয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রচলিত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েলস সিস্টেম’-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হাজার হাজার পদে নতুন নিয়োগ হয়। এটি বেআইনি নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশের ইতিহাসে নিয়োগে সবচেয়ে বড় দলীয়করণ ঘটবে।

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির নারীদের হেনস্তা ও সাইবার বুলিং করে আসছে। অথচ এখন তারা নারী সুরক্ষার কথা বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আলাদা “ফিমেল কর্নার” চালু করেছে, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। যারা বিকৃত রুচির পরিচয় দিয়ে ছেলেদের হলে দিনের পর দিন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করে নাছির উদ্দীন বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ধারাবাহিকভাবে দেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে তির্যক ও অশালীন মন্তব্য করে আসছেন। তাঁর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার রুচি আমাদের নেই। তাঁকে অবিলম্বে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে তিনি সুশিক্ষা গ্রহণ করে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারেন।’

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড ও তাঁকে উদ্দেশ করে নাছির উদ্দীন আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন একজন ব্যক্তিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। যিনি পলিসি মেকিংয়ে কাজ না করে বেলচা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। এ রকম যদি আর দু–একবার হুমকি আপনি দিতে থাকেন, তাহলে জনতা একসময় আপনাকে এমন মারবে যে আর পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।’

Read full story at source