আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, তুরস্ক, ব্রাজিল: ফুটবল দাঙ্গা আর 'গ্যাং-ওয়ার'-এ সবচেয়ে এগিয়ে কোন ১০টি দেশের দর্শক

· Prothom Alo

উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবলে দর্শকদের মারামারি আর দাঙ্গা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিশ্বের এই ১০টি দেশে এ নিয়ে গ্যাং-ওয়ার আর সংঘাত দেখা যায় বাড়াবাড়ি রকমের।

দ্রুতগতি আর উত্তেজনার খেলা ফুটবল। বিশ্বে এর জনপ্রিয়তার জুড়ি নেই। প্রিয় দলের সমর্থন দিতে গিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবলে দর্শকদের মারামারি আর দাঙ্গা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশে অন্য দেশের সমর্থনে মারামারি, ছুরিকাঘার এমনকি হত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা যায় বিশ্বকাপের সময়। কিন্তু বিশ্বের এই ১০টি দেশে এ নিয়ে গ্যাং-ওয়ার আর সংঘাত দেখা যায় বাড়াবাড়ি রকমের। ইংল্যান্ড আধুনিক ফুটবল হুলিগ্যানিজমের পথিকৃৎ হিসেবে ইতিহাসে পরিচিত এবং আজও আক্রমণাত্মক সমর্থক সংস্কৃতির জন্য ব্যাপকভাবে আলোচিত। তবে সমসাময়িক ফুটবলে ম্যাচের দিন সবচেয়ে তীব্র দাঙ্গা ও সহিংসতার জন্য বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনার বাররা ব্রাভাস কালচার ও তুরস্কের বিগ থ্রি সার্কেল বিশেষভাবে কুখ্যাত। পিছিয়ে নেই ব্রাজিলও তাদের তোরসিদাস অর্গানিজাদাস নামের উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী নিয়ে।

Visit newsbetting.club for more information.

১. আর্জেন্টিনা

বাররাস ব্রাভাস নামে পরিচিত সংগঠিত সমর্থক গোষ্ঠীগুলো অনেক ক্লাবের কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। তাদের আধিপত্যের কারণে চরম সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ গ্যাং সংঘর্ষ এবং এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা প্রায়ই দেখা যায়।

View this post on Instagram

A post shared by Barra Brava (@barrasbrava)

বাররাস ব্রাভাস নামে পরিচিত সংগঠিত সমর্থক গোষ্ঠীগুলো সহিংসতায় অংশ নেয়

বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেটের মধ্যকার বিখ্যাত সুপারক্লাসিকো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থিতিশীল ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

২. তুরস্ক

তুরস্কের সমর্থক সংস্কৃতি ওয়েলকা টু হেল বা নরকে স্বাগতম স্লোগানের জন্য সুপরিচিত। রেফারিকে মারধোরের মতো ঘটনাও ঘটেছে এখানকার ক্লাব লীগ ফুটবলে।

রেফারিকে মারধোরের মতো ঘটনাও ঘটেছে এখানকার ক্লাব লীগ ফুটবলে

ইস্তাম্বুলের বিগ থ্রি অর্থাৎ গালাতাসারাই, ফেনারবাহচে ও বেসিকতাসের মধ্যকার ম্যাচগুলোতে প্রায়ই ব্যাপক দাঙ্গা, শোডাউন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থক গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ঘটে।

৩. ইংল্যান্ড

১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে ইংল্যান্ড থেকেই সংঘাতপূর্ণ ''ফুটবল ফার্ম'' সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী বিস্তার ঘটে। মিলওয়ালের বুশওয়্যাকার্স এবং ওয়েস্ট হ্যামের আইসিএফ -এর মতো কুখ্যাত সমর্থক গোষ্ঠীগুলো সেই সময়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়।

কঠোর সরকারি পদক্ষেপে দেশে সহিংসতা অনেক কমলেও বিদেশে ইংলিশ সমর্থকরা এখনো অস্থির ও আক্রমণাত্মক বলে বিবেচিত হয়। হুলিগ্যানিজম সেদেশের ফুটবল কালচারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবস্থিত। একে ইংলিশ ডিজিজ নামে অভিহিত করা হয় আশির দশকে বহু ট্র্যাজিক ঘটনার পরে।

৪. পোল্যান্ড

পোল্যান্ডের হুলিগ্যান গোষ্ঠীগুলোঅত্যন্ত সংগঠিত ও সহিংস হিসেবে পরিচিত

পোল্যান্ডের হুলিগ্যান গোষ্ঠীগুলো (যাদের অনেকেই স্থানীয় আল্ট্রাস গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত) অত্যন্ত সংগঠিত ও সহিংস হিসেবে পরিচিত। উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক সম্পর্ক, নিয়মিত রাস্তায় সংঘর্ষ এবং মার্শাল আর্টে দক্ষতার জন্য তারা কুখ্যাত। হোলি ওয়ার (ভিসলা ক্রাকোভ বনাম ক্রাকোভিয়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায়ই সহিংস সংঘর্ষের জন্ম দেয়।

৫. ব্রাজিল

তোরসিদাস অর্গানিজাদাস নামে পরিচিত উগ্র সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর কারণে ব্রাজিলের ফুটবলে কখনো কখনো ম্যাচের দিন ব্যাপক সহিংসতা, সংঘর্ষ ও প্রতিশোধমূলক দাঙ্গা দেখা যায়। করিন্থিয়ান্স, পালমেইরাস ও ভাস্কো দা গামার মতো ক্লাবগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচে উত্তেজনা ও মারামারি
View this post on Instagram

A post shared by (@hooligansbrazilian)

৬. ইতালি

ইতালির ফুটবলে প্রভাবশালী আল্ট্রাস গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে জড়িত। ছুরিকাঘাত, চরম ডানপন্থী বা বামপন্থী মতাদর্শ এবং সংগঠিত দাঙ্গার কারণে রোম ও মিলান ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

৭. সার্বিয়া

রেড স্টার বেলগ্রেড ও পার্টিজান বেলগ্রেডের মধ্যকার ইটারনাল ডার্বি ইউরোপের সবচেয়ে বৈরিতাপূর্ণ ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি। এখানকার হুলিগান গোষ্ঠীগুলো উগ্র রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং তারা নিয়মিত স্টেডিয়ামে ব্যাপক দাঙ্গা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সার্বিয়ার ইটারনাল ডার্বি রাশিয়ায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত আল্ট্রাস সংস্কৃতি রয়েছে

৮. রাশিয়া

রাশিয়ায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংগঠিত আল্ট্রাস সংস্কৃতি রয়েছে। অনেক হুলিগ্যান গোষ্ঠী রাস্তায় সংঘর্ষ ও শারীরিক শক্তির প্রদর্শনকেই এক ধরনের খেলা হিসেবে দেখে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সমন্বিত হামলার ঘটনায় তারা একাধিকবার বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছে।

৯. ক্রোয়েশিয়া

ইউগোস্লাভিয়ার ভাঙনের পর সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক ও জাতিগত উত্তেজনার প্রভাব এখনো দেশটির ফুটবলে স্পষ্ট। বিশেষ করে দিনামো জাগরেব ও হাইদুক স্প্লিটের ম্যাচগুলো প্রায়ই বড় ধরনের দাঙ্গা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ক্রোয়েশিয়াতে ম্যাচগুলো প্রায়ই বড় ধরনের দাঙ্গা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়২০১২ সালের পোর্ট সাঈদ স্টেডিয়াম দাঙ্গা


১০. মিশর

মিশরের ফুটবল সংস্কৃতিতে বিশাল ও সুসংগঠিত সমর্থক গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সহিংসতার ইতিহাস বহু মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ২০১২ সালের পোর্ট সাঈদ স্টেডিয়াম দাঙ্গা, যেখানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

Read full story at source