মা ও দুই বোনের পর মারা গেল কিশোরী ইকরা, গণপিটুনিতে অভিযুক্তেরও মৃত্যু

· Prothom Alo

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আহত ইকরা বেগমেরও (১৭) মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর আগে একই ঘটনায় তার মা ও দুই বোন নিহত হন। আজ দুপুরে রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা–সংলগ্ন এলাকার নদীর পারের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই হত্যায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা আড়াইটার দিকে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

Visit sport-tr.bet for more information.

অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিনি ভাসমান ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মামুনুর রশিদ।

পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ড কী কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। হামলাকারীর সঙ্গে ওই পরিবারের পূর্ব কোনো পরিচয় ছিল না কি না, কী নিয়ে বিরোধ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কোপানোর অভিযোগ ওঠে অন্তর মজুমদারের বিরুদ্ধে। এতে ঘটনাস্থলেই মা শাহীনুর বেগম (৪০) ও মেয়ে সিপা আক্তারের (১০) মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত ছায়মা আক্তারের (২১) মৃত্যু হয় লক্ষ্মীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর। আর আরেক মেয়ে ইকরা বেগম (১৭) তখন গুরুতর আহত ছিল। চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত কলেজছাত্রী ছয়মা আক্তার

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুরের স্বামী উপজেলার মোল্লারহাট এলাকার কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তিনি গ্রামে ঘুরে ঘুরে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর শাহিনুর বেগম তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা এলাকার নদীর পারের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাঁর মেয়ে ইকরা বেগম দ্বাদশ শ্রেণির ও সিপা বেগম চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহত ছায়মা আক্তার ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।

দুপুরে ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা ঘরে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তাঁর মেয়েদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মামুনুর রশিদ জানান, শাহিনুর ও সিপার হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়। ছায়মা আক্তারও গুরুতর জখম নিয়ে হাসপাতালে আনার পর মারা যান। আর ইকরার ঢাকা নেওয়ার পথে কুমিল্লায় মৃত্যু হয়েছে বলে অ্যাম্বুলেন্সের চালক তাঁকে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই যুবকেরও হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত।

Read full story at source