তপ্ত রোদের পর সীমান্তের শূন্যরেখায় অনিশ্চিত রাত কাটবে নারী-শিশুসহ ৯ জনের

· Prothom Alo

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলায় ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় ১২ ঘণ্টা ধরে আটকে থাকা নারী-পুরুষ-শিশুসহ ৯ ব্যক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যকার পতাকা বৈঠকে ফলপ্রসু সিদ্ধান্ত আসেনি। এতে আরও দীর্ঘ হচ্ছে ওই ব্যক্তিদের ভোগান্তি।

Visit bettingx.bond for more information.

আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা শিশুসহ ৯ ব্যক্তির বিষয়ে আজ দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিওপি (সীমান্তচৌকি) কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে পুশ ইনের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি–বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বৈঠকের জন্য চিঠি পাঠানো হবে। ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বৈঠকের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

নওগাঁর পোরশা সীমান্ত দিয়ে নয়জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, ঠেকিয়েছে বিজিবি

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বরাতে জানা যায়, ওই ৯ ব্যক্তি আজ ভোরে প্রথমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। তাঁদের দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবিকে জানান। পরে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তাঁদেরকে সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়। দিনভর তপ্ত রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে শিশুসহ ওই ৯ জন আটকে ছিলেন। পতাকা বৈঠকে সিদ্ধান্ত না আসায় তাঁদেরকে সেখানেই আজ রাতও কাটাতে হবে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ ভোর চারটার দিকে নওগাঁর সাপাহারের আদাতলা সীমান্তচৌকি এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশ ইন করেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর আদাতলা সীমান্তচৌকির বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার পর ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই ৯ জনসহ অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাঁদেরকে ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ ব্যাক) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে ৫ জুন ও ৮ জুন নওগাঁর পোরশা ও সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ৪০ ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাঁদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়।

Read full story at source