গুগল ছাড়লেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জন জাম্পার

· Prothom Alo

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গবেষণাগার ‘গুগল ডিপমাইন্ড’ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ফেলো জন জাম্পার। গুগল ছেড়ে ক্লড এআই মডেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকে যোগ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী এই বিজ্ঞানী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জন জাম্পার লেখেন, ‘প্রায় ৯ বছর পর, আমি গুগল ডিপমাইন্ড ছেড়ে অ্যানথ্রোপিকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

Visit amunra-online.pl for more information.

২০২৪ সালে গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিসের সঙ্গে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জন জাম্পার। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবজাতির কল্যাণে আলফাফোল্ড তৈরির জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এই যুগান্তকারী এআই সিস্টেমটি ২০ কোটির বেশি প্রোটিনের গঠন নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারে। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জৈবিক গবেষণার সময়কে কয়েক বছর কমিয়ে এনেছে এআই সিস্টেমটি। আর তাই গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সাবেক কর্মীদের মধ্যে জন জাম্পারের বিদায়কে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মেটা, অ্যালফাবেট, অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেরা গবেষকদের নিজেদের দলে টানার এক তীব্র যুদ্ধ চলছে। পরবর্তী প্রজন্মের শক্তিশালী এআই সিস্টেম তৈরির দৌড়ে এই মেধা–যুদ্ধ এখন তুঙ্গে। এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষক গিল লুরিয়া বলেন, এআই গবেষকদের চাহিদা অনেক বেশি। শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগারগুলো গবেষকদের দলে নিতে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। জন জাম্পারের যোগদান ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিককে গুগলের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।

জন জাম্পারের এই আকস্মিক বিদায়ের ঠিক কয়েক দিন আগে গুগলের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা নোয়াম শাজির গুগল ছেড়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। নোয়াম শাজির গুগলের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেমিনাই এআই মডেলের সহ–প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জন জাম্পারের বিদায়ী পোস্টের জবাবে গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস বলেন, ‘আলফাফোল্ডের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি, তা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে। এটি বিজ্ঞান ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনাকে দেখিয়েছে এবং এআই কীভাবে মানবজাতির উপকার করতে পারে, সেই পথকে আলোকিত করেছে।’

সূত্র: রয়টার্স

Read full story at source