সরকারি কলেজের দুই শিক্ষকের হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে কমিটি
· Prothom Alo

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের দুই শিক্ষকের হাতাহাতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রায় দুই মিনিটের এ ভিডিও ছড়াতে থাকে। ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও এক সহকারী অধ্যাপক কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওটি চলতি বছর ৯ এপ্রিলের। হাতাহাতিতে জড়ানো দুই শিক্ষক হলেন কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ ও সহকারী অধ্যাপক নূরুল হক। এর মধ্যে মামুনুর রশিদ ৩২তম বিসিএস ও অধ্যাপক নূরুল হক ৩৫তম বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন। মামুনুর রশিদ রসায়ন ও নূরুল হক হিসাববিদ্যা বিভাগের শিক্ষক।
Visit newsbetting.bond for more information.
এ ঘটনা তদন্তে গত মঙ্গলবার দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ-৪) মো. ফিরোজ মিয়ার সই করা এক চিঠিতে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলামকে। তাঁকে একজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে পাঁচজন শিক্ষক বসে রয়েছেন। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক নূরুল হকের দিকে তেড়ে যান। পরে তিনি তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তর্কাতর্কি বাড়তে থাকলে দুই শিক্ষকের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে অন্য শিক্ষকেরা এগিয়ে এসে তাঁদের আলাদা করেন।
ঘটনার বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক নূরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, কলেজ ডরমিটরিতে বসবাসকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্থাপিত পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল। বিষয়টি তিনি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানান। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ৯ এপ্রিল শিক্ষক মিলনায়তনে তিনি আবারও বিষয়টি উত্থাপন করলে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
নূরুল হকের দাবি, ‘আমি পানির সমস্যার কথা বলতেই স্যার বলেন, “ফিল্টারই বন্ধ করে দেওয়া হবে।” আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে বেয়াদব বলেন। এরপর চেয়ার থেকে উঠে আমার দিকে তেড়ে আসেন ও ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে তিনি আমার সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হন।’
চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি কবিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের পদ শূন্য হয়। ১ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মামুনুর রশিদ। ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।