বয়স বাড়লে খাবার আগের মতো মজা লাগে না কেন
· Prothom Alo

একসময় যে চায়ের স্বাদে সকাল পূর্ণ হয়ে যেত, যে বিরিয়ানির গন্ধে হঠাৎ ক্ষুধা বেড়ে যেত, যে আমের মিষ্টি স্বাদ গ্রীষ্মকে আলাদা করে চিনিয়ে দিত; একসময় এসব কিছুই আর ভালো লাগে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই হঠাৎ খেয়াল করেন, কোনো খাবারই আর আগের মতো মজা লাগছে না!
Visit asg-reflektory.pl for more information.
এটা কি কেবলই নস্টালজিয়া? নাকি সত্যিই বয়সের সঙ্গে স্বাদের অনুভূতি বদলে যায়? বিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে বাস্তব শারীরবৃত্তীয় কারণ রয়েছে।
স্বাদ কীভাবে কাজ করে
আমাদের জিবে থাকে হাজার হাজার টেস্ট বাড বা স্বাদগ্রাহী কোষ। এগুলো মিষ্টি, নোনতা, টক, তিতা ও উমামি—এই মৌলিক স্বাদগুলো শনাক্ত করে। একজন মানুষ জন্মের সময় প্রায় ৯ হাজার টেস্ট বাড নিয়ে জন্মায়। এগুলো নিয়মিত নতুন করে তৈরি হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পুনর্গঠনের গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৫০ বছর বয়সের পর থেকে টেস্ট বাডের সংখ্যা কমতে শুরু করে। যে টেস্ট বাডগুলো অবশিষ্ট থাকে, সেগুলোরও সংবেদনশীলতা কমে যায়; খানিকটা ভোঁতা হয়ে যায়। ফলে খাবারের স্বাদ আর আগের মতো তীব্র লাগে না।
দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যে ৫ খাবার থাকা উচিতএকজন মানুষ জন্মের সময় প্রায় ৯ হাজার টেস্ট বাড নিয়ে জন্মায়। এগুলো নিয়মিত নতুন করে তৈরি হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পুনর্গঠনের গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
শুধু জিব নয়, ঘ্রাণশক্তিও গুরুত্বপূর্ণ
আমরা অনেক সময় ভাবি, স্বাদ শুধু জিভের বিষয়। আসলে খাবারের স্বাদ অনুভব করার বড় অংশই আসে ঘ্রাণ থেকে। খাবার মুখে গেলে তার গন্ধ নাকের ভেতরের অলফ্যাক্টরি রিসেপ্টরে পৌঁছায়। তখনই খাবারের পূর্ণ স্বাদ অনুভব করা যায়। সর্দি লাগলে সেটি বাধাগ্রস্ত হয় বলেই খাবার বিস্বাদ লাগে। আবার বয়স বাড়লেও ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ায় খাবারের ফ্লেভার একঘেয়ে মনে হতে পারে।
বয়স্ক মানুষ কেন বেশি লবণ, মিষ্টি বা টক পছন্দ করেন
স্বাদ কমে গেলে মানুষ সাধারণত এমন স্বাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যেগুলো সহজে অনুভূত হয়। তাই অনেকের মধ্যে বেশি লবণ খাওয়ার প্রবণতা, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ এবং বেশি ঝাল বা টক খাবারের চাহিদা তৈরি হয়। কারণ, তীব্র স্বাদগুলো কমে যাওয়া টেস্ট রেসপন্সকে উদ্দীপিত করে বা জাগিয়ে দেয়। তবে এর ঝুঁকিও আছে। কেননা, অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে জড়িত। অতিরিক্ত চিনির ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বয়সই একমাত্র কারণ নয়
সব মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন সমানভাবে হয় না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও কিছু বিষয় স্বাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন, ধূমপান, কিছু ওষুধ, ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ, দাঁতের সমস্যা, নাকের সমস্যা, পানিশূন্যতা, কোভিড-পরবর্তী ঘ্রাণ হারানো ইত্যাদি।
মজার বিষয় হলো, খাবারের স্বাদে স্মৃতি ও আবেগও কাজ করে। শৈশবের খাবার প্রায়ই বেশি সুস্বাদু মনে হয়। কারণ, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার, নিরাপত্তাবোধ, আবেগ, স্মৃতি ইত্যাদি। তাই অনেক সময় মানুষ ভাবেন, আগের খাবারের স্বাদই আলাদা ছিল। বাস্তবে এর একটি অংশ বায়োলজিক্যাল, আরেকটি ইমোশনাল নস্টালজিয়া।
খাবার নিয়ে কিছু মজার বিজ্ঞানঅনেকের মধ্যে বেশি লবণ খাওয়ার প্রবণতা, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ এবং বেশি ঝাল বা টক খাবারের চাহিদা তৈরি হয়। কারণ, তীব্র স্বাদগুলো কমে যাওয়া টেস্ট রেসপন্সকে উদ্দীপিত করে।
তাহলে কী করা যায়
বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াটি পুরো থামানো না গেলেও কিছু অভ্যাস স্বাদের অনুভূতি ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: লালা বা স্যালাইভা স্বাদ অনুভব করতে সাহায্য করে। পানিশূন্যতা হলে স্বাদ কম লাগতে পারে।
২. ধূমপান এড়িয়ে চলুন: ধূমপান সরাসরি টেস্ট বাডের ক্ষতি করতে পারে।
৩. প্রাকৃতিক ফ্লেভার বাড়ান: খাবারে অতিরিক্ত লবণ না বাড়িয়ে সেখানে লেবু, ভিনেগার, পুদিনা, সরিষা এবং বিভিন্ন ধরনের লতাপাতা ব্যবহার করতে পারেন।
৪. নাক ও দাঁতের যত্ন নিন: কারণ, ঘ্রাণ ও মুখের স্বাস্থ্য স্বাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
লেখক: সাংবাদিকসূত্র: সায়েন্স ফোকাসবিশ্বের সবচেয়ে পুষ্টিকর কয়েকটি খাবার