দুস্থদের ত্রাণ পেলেন বিএনপি নেতাসহ সচ্ছল চারজন, সমালোচনার পর ফেরত

· Prothom Alo

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা নেন বিএনপির এক নেতাসহ সচ্ছল পরিবারের চারজন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হওয়ার পর প্রশাসনের নির্দেশনায় তাঁরা সেগুলো ফেরত দিয়েছেন।

ত্রাণের টিন ও টাকা ফেরত দেওয়া চারজন হলেন উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মন, একই ইউনিয়নের দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে শংকর কুমার রায়, মৃত আবদুস সামাদের ছেলে শামসুল হক এবং নৃপেন্দ্র নাথ রায়ের মেয়ে গোলাপী রানী।

Visit freshyourfeel.com for more information.

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই চারজনের মধ্যে দধি প্রসাদ বর্মনের ছাদের বাড়ি আছে। শংকর কুমার রায়ের টিনশেড আধা পাকা দালান এবং অন্যরাও সচ্ছল পরিবারের সদস্য।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসহায়তা পেতে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিনের (বাবুল) কাছে লিখিত আবেদন করেন ওই চারজন। পরে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়।

ভাদাই গ্রামের সচ্ছল শংকর কুমার রায়ের টিন শেড আধপাকা দালানবাড়ি

তালিকায় ১৮ নম্বরে শংকর কুমার রায়, ১৯ নম্বরে শামসুল হক, ২০ নম্বরে দধি প্রসাদ বর্মন এবং ২১ নম্বরে গোলাপী রানীর নাম ছিল। গত রোববার তাঁদের প্রত্যেককে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও তিন হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারজনকে সচ্ছল ব্যক্তি উল্লেখ করে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁরা টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হক।

এ সম্পর্কে দধি প্রসাদ বর্মন বলেন, তাঁর বাড়িতে ছাদপেটানো দালান থাকলেও সেটি তাঁর ছেলের। তাঁর নিজের একটি আধা পাকা টিনশেড ঘর আছে, যার টিন সম্প্রতি শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে তিনি ত্রাণের আবেদন করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘সরকারের মাল সরকারকে ফিরিয়ে দিয়েছি।’ এরপর তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।

শংকর কুমার রায় বলেন, অন্যদের দেখে তিনিও ত্রাণের আবেদন করেছিলেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফেরত দিতে বলায় তিনি তা ফেরত দিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, বাড়ির ভেতরের দিকের টিনের চালের অবস্থা ভালো নয়। পরে তিনি জবাব না দিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

গোলাপী রানী বলেন, প্রশাসনের নির্দেশেই তিনি টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চাননি। শামসুল হকের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইউএনও বিধান কান্তি হালদার বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তালিকা চূড়ান্ত করার আগে একাধিক সূত্রে খোঁজখবর নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হক বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সতর্ক করা হয়েছে।

Read full story at source