প্রযুক্তির দৌড়ে কে কাকে থামাবে!
· Prothom Alo

প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রযাত্রাকে না থামিয়ে মার্কিন-চীন সমানতালে দৌড়াচ্ছে। পূর্ব-পশ্চিম একে অপরের উদ্ভাবনী শক্তির প্রতিযোগিতায় চোখ ছানাবড়া। সেমিকন্ডাক্টর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি থেকে পরিবেশবান্ধব শক্তি পর্যন্ত—প্রযুক্তি এখন মার্কিন-চীনা প্রতিযোগিতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র এমন এক প্রকৃত সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। সরাসরি প্রযুক্তিগত শক্তি এমন দ্রুতমাত্রায় ভূরাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে যা বিশ্ব বহু বছর দেখেনি।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তাবিষয়ক অত্যন্ত প্রভাবশালী বুদ্ধিভিত্তিক জার্নাল ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’–এ একটি প্রবন্ধে সাবেক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান লিখেছেন, কয়েক দশক ধরে চীনের প্রতি মার্কিন নীতি একটি নীরব-শক্তিশালী অনুমানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। বেইজিং মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মতোই একই দৌড়ে অংশ নিচ্ছিল; কেবল কয়েক কদম পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তিপ্রস্তরগুলোর অনেকগুলোতেই চীন আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছে। এ প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে হলে, ওয়াশিংটনের প্রয়োজন সাফল্যের একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা এবং এটি অর্জনের লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক কৌশল ঠিক করা। চীনকে দেখা হতো একটি ‘নকলনবীশ’ হিসেবে, যারা অনুকরণের কাজে দক্ষ হলেও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে এবং শেষমেশ পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপরই নির্ভরশীল। আমেরিকার এই অগ্রগামিতা টেকসই, এমনকি স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। সে ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়নি। চীন এখন আমেরিকান উদ্ভাবনের অনুসরণ ছাড়িয়ে আরও এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন উদ্ভাবনী সাফল্যের ক্ষেত্রে নিজেদের অগ্রগামিতা বজায় রাখার ওপরই অধিকতর সংকীর্ণভাবে মনোনিবেশ করে চলেছে, এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে যে এসব উদ্ভাবনই স্বাভাবিকভাবে অর্থনৈতিক, সামরিক ও ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সাফল্যের ধারা বয়ে আনবে, এটি মনে করা ভুল হবে। ইউরোপ থেকে এশিয়ায় ছোট-বড় দেশ তাদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন লাভ করতে নানামুখি চিন্তায় এগিয়ে যাচ্ছে।
Visit newsbetting.club for more information.
বৈশ্বিক প্রযুক্তিক্ষেত্রে নেতৃত্ব অর্জন করা এখন চীনা রাষ্ট্রশক্তির একটি মূল সাংগঠনিক নীতিতে পরিণত হয়েছে। বেইজিংয়ের শিল্পনীতি মূলত এ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই বিন্যস্ত এবং তাদের কৌশলটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত। চীনা নেতারা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির প্রয়াস চালাচ্ছেন, যেখানে বিশ্বের বাকি অংশ চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে অথচ চীন থাকবে অন্য সবার প্রভাব থেকে মুক্ত ও স্বাবলম্বী। আর তাদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিক্ষেত্রে শীর্ষ স্থান অধিকার করার প্রয়োজন নেই। বরং তাদের প্রয়োজন কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মূল কেন্দ্রবিন্দুগুলো। যেমন সেসব কাঁচামাল ও ব্যবস্থাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যার ওপর উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো এবং সামরিক বাহিনীগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ভরশীল। যেমন ইতিমধ্যে পরিশোধিত ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ, ওষুধশিল্পের প্রাথমিক উপাদানসমূহ এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির পাশাপাশি তারা রোবোটিকসের মতো অন্য ক্ষেত্রগুলোতেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও চীন এখন অনেক বেশি পারদর্শী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে চীন বিশ্বের ৭০ শতাংশের বেশি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন করছে এবং বৈশ্বিক ব্যাটারি সেল উৎপাদনসক্ষমতার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে তারা জৈবপ্রযুক্তিশিল্পেও একই ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। চীনের এই ব্যাপক কৌশল বাস্তবায়ন তার রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণেই সম্ভব হয়েছে। মহাশক্তিগুলোর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেই সব দেশই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়, যারা পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। এথেন্স (গণতন্ত্র) নিজেকে নিরাপদ করতে শক্তি বাড়িয়েছিল। অপর দিকে স্পার্টা (অলিগার্কি-সামরিক শাসন) সেটাকে হুমকি হিসেবে দেখেছিল। এথেন্স দ্রুত উত্থানশীল শক্তি, স্পার্টা বিদ্যমান প্রভাবশালী শক্তি। ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের মতে, এথেন্সের উত্থান এবং সে কারণে স্পার্টার ভয় যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল এবং তাদের মিত্রশক্তিগুলো প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন ঘটিয়েছিল, যাতে তাদের নৌবাহিনী একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রায় দুই দশক ধরে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশ্বকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে বৃহত্তর সংগ্রামে প্রযুক্তিই মূল রণক্ষেত্র। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে। চীনা গবেষক দা ওয়েইয়ের ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে বেইজিংয়ের জন্য নতুন প্রধান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা হলো ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে এখন একটি গভীর বিভেদ তৈরি হয়েছে, যা কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত। তবে আজকের বিশ্বে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা বেশি,পারমাণবিক অস্ত্র আছে,আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম রয়েছে, তাই এথেন্স-স্পার্টার মতো সরাসরি যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হওয়া অনিবার্য নয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তেল ও গ্যাসের ৮০ শতাংশের বেশি এশিয়ায় যেত। এখন সে মহাদেশের অনেক দেশ গত অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানিসংকটে জর্জরিত। ফলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোকে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানির জোগাড় করতে রাশিয়া ও ইরানের মতো প্রতিপক্ষদের কাছে হাত পাততে হয়েছে। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে তাদের ট্রাম্পের গালিগালাজ সহ্য করতে হয়েছে। কারণ, তারা ইরান যুদ্ধে সানন্দ যোগ দেয়নি। তাদের অনেকেই এখন বেইজিংয়ের সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বারবার ওঠা প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো: এর প্রভাব কতটা স্থায়ী? যুক্তরাষ্ট্র কি তার মিত্রদের সঙ্গে আস্থার এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে?
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
ইউরোপ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত রিজার্ভ মুদ্রার অধিকারী। ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অনির্ভরযোগ্য ও খামখেয়ালি ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপের প্রতি ছুড়ে দেওয়া মাঝেমধ্যেকার অপমানগুলোকে সাধারণত নিত্যনৈমিত্তিক মেজাজ দেখানো হিসেবেই গণ্য করা হতো, যা হোয়াইট হাউস নামক রিয়্যালিটি টিভি শোর একটি অংশ। এক আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ও লেখক ড্যানিয়েল ডেপেট্রিস সম্প্রতি একটি রক্ষণশীল ও (সাধারণত) কট্টর মার্কিনপন্থী পত্রিকা ‘দ্য স্পেকটেটর’-এর যুক্তরাজ্য সংস্করণে লিখেছেন- ‘ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের সুনজরে থাকার জন্য আর নতজানু হয়ে কাকুতি-মিনতি করতে আগ্রহী নন’। ইউরোপ এখন শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কাজে নামছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ/রেডিনেস ২০৩০’ পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরগুলোয় প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯৩৫ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করা হবে। পুরোনো মডেলটি ছিল এই যে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিত এবং ইউরোপীয়রা মার্কিন অস্ত্রের জন্য উদারভাবে অর্থ ব্যয় করত। এখন ইউরোপীয়রা চায় তাদের অর্থের একটি বড় অংশ দেশেই থাকুক, যাতে ইউরোপীয় সংস্থা ও সরবরাহশৃঙ্খল গড়ে ওঠে এবং এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন লাভ করা যায়। ইউরোপীয় পেমেন্টস ইনিশিয়েটিভ ভিসা ও মাস্টারকার্ডের একটি মহাদেশব্যাপী বিকল্প তৈরি করছে। ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সুইফটের বিকল্প খুঁজছে। পেপ্যাল ও অন্যান্য মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্ল্যাটফর্ম। ফ্রান্স তার সোনার মজুত নিউইয়র্ক থেকে প্যারিসে সরিয়ে নিয়েছে, জার্মানি ও ইতালির রাজনীতিবিদেরা বিতর্ক করেছেন যে তাঁদের দেশগুলোরও একই কাজ করা উচিত কি না। ইউরোপীয় সরকারগুলো আমেরিকান সফটওয়্যারের বিকল্প খুঁজছে। তারা আশঙ্কা করছেন যে মার্কিন সংস্থাগুলো একদিন তাদের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। ওয়িাশিংটন পোস্টের তথ্যানুযায়ী যুক্তরাজ্যের নাইজেল ফারাজ, ফ্রান্সের মেরিন লে পেন, ইতালির জর্জিয়া মেলোনি ও জার্মানির এএফডি দলের অনেকের মতো জনতুষ্টিবাদীরা ট্রাম্প ও মার্কিন নীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন।এমনকি কানাডায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন বাজারের ওপর তাঁর দেশের নির্ভরতা কমানোর সুস্পষ্ট উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে ২০টির বেশি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে কানাডিয়ানরা আমেরিকান পণ্য কম কিনছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতেও কম যাচ্ছে। যদিও ইউরোপ ও কানাডা চীনকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। ইউক্রেন-ভর্তুকি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে তাদের গুরুতর বিরোধ রয়েছে।
একের পর এক বিভিন্ন খাতে, আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এমন বহু মৌলিক স্তরে চীন ইতিমধ্যেই নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে কিংবা বর্তমানে তা গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। মার্কিনরা সচরাচর এ প্রতিযোগিতাকে একটি দৌড় প্রতিযোগিতার সমতুল্য মনে করে—এমন একটি লড়াই, যার লক্ষ্য হলো, কোন দেশ সবার আগে পরবর্তী কোনো যুগান্তকারী উদ্ভাবনে পৌঁছাতে পারে, তা যাচাই করা। কিন্তু প্রতিযোগিতার এ দৃষ্টিভঙ্গি বিভ্রান্তিকর এবং হিতে বিপরীত। সালিভান তাঁর প্রবন্ধে এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খোলামেলা কর্মপদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। এতে তিনি দেখান যে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রকৌশলীদের একটি বিশাল অংশই অন্য দেশ থেকে আগত। অত্যন্ত দক্ষ এ বিশাল কর্মী বাহিনী যদি যুক্তরাষ্ট্রেই নিজেদের পেশাজীবন গড়ে তোলেন, তবে তা যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যই হিতকর, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। মার্কিন সরকারের উচিত গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় তহবিলকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা এবং ১৯৬০-এর দশকের সেই ঐতিহাসিক উচ্চপর্যায়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, যা মৌলিক গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ, যেকোনো কেন্দ্রীয় ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি কৌশলগত সুফল বয়ে আনবে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন শক্তি বা ক্লিন এনার্জি প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগ করলে তা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এর ফলে বিদ্যুতের দাম আকাশচুম্বী হওয়া কিংবা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়া ছাড়াই, এআইয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই দ্রুত উদ্ভাবন ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যা বিভিন্ন রণাঙ্গনে আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ওয়াশিংটনকে অবশ্যই এমন একটি গণতান্ত্রিক ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমেরিকান প্রযুক্তিকে প্রধান আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যা উচ্চমানের নিরাপত্তা মানদণ্ড দ্বারা সুরক্ষিত করবে।
প্রযুক্তির এ খেলার কোনো নির্দিষ্ট সমাপ্তি নেই। সাফল্য এমন কোনো একক মুহূর্তের বিজয় হিসেবে ধরা দেবে না, যেখানে কোনো এক পক্ষ নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করবে। কিংবা কেবল একটি নির্দিষ্ট পথে দ্রুতগতিতে ছুটে চলার মাধ্যমেও এ সাফল্য অর্জিত হবে না। বরং, এ প্রতিযোগিতা অনির্দিষ্টকাল ধরে এবং অত্যন্ত বিচিত্র সব খাতের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হতে থাকবে। এখানে কেউ নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণও বলা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিশিল্পের ভিত্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই একটি দ্বিমুখী কৌশলের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নীতি গ্রহণ করতে হবে। সালিভান যুক্তি দেন, এসব উঁচু এলাকা পুনরুদ্ধার করাই একবিংশ শতাব্দীতে আমেরিকান রাষ্ট্রপরিচালনার প্রধান কাজ হতে হবে।