খরার কারণে বদলে যাচ্ছে ব্যাকটেরিয়ার আচরণ
· Prothom Alo

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলা খরা পরিস্থিতি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বা সুপারবাগ তৈরির আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা। সম্প্রতি নেচার মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
Visit newssport.cv for more information.
গবেষকদের তথ্যমতে, মানুষ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার বহু আগে থেকেই মাটির ব্যাকটেরিয়ারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে আসছে। একইভাবে সেই বিষ থেকে বাঁচতে অন্য ব্যাকটেরিয়ারা তৈরি করেছে প্রতিরোধী জিন। এটি প্রকৃতির এক স্বাভাবিক বিবর্তন প্রক্রিয়া। তবে খরা এই চিত্রটি বদলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপের বিভিন্ন বনভূমি, তৃণভূমি এবং আবাদি জমির মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খরার সময় মাটিতে পানির পরিমাণ কমে গেলে সেখানে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর ঘনত্ব অনেক বেড়ে যায়।
গবেষকেরা কৃত্রিম খরা তৈরি করে দেখছেন, মাটি শুকিয়ে গেলে সেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ঘনত্ব বেড়ে যায়। যেসব ব্যাকটেরিয়া আগে থেকেই প্রতিরোধী ছিল, তারা এই শুষ্ক পরিবেশেও টিকে থাকে। কিন্তু যেসব ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সংবেদনশীল, তারা খরার প্রভাবে প্রায় সম্পূর্ণ মারা যায়। এতে মাটির সেই ক্ষুদ্র বাস্তুসংস্থানে কেবল অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনকারী এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বাড়ে।
গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশটি হলো ১১৬টি দেশের হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে স্থানীয় জলবায়ুর তুলনা। গবেষকেরা দেখেছেন, যেসব অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক বা যেখানে খরার প্রকোপ বেশি, সেসব দেশের হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি অনেক বেশি।
অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বাস্তুসংস্থানবিদ টিমোথি ঘালি জানিয়েছেন, ক্লিনিক্যাল রেজিস্ট্যান্স বা চিকিৎসাক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার বিষয়টি একটি বৈশ্বিক পরিবেশগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের জলবায়ু মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এত দিন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সকে মূলত স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো।
কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষ করে তীব্র খরা অণুজীবের বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে, যা শেষ পর্যন্ত মানুষের রোগ নিরাময় ক্ষমতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ু যত অস্থির হবে, অণুজীবের এই বাস্তুসংস্থান তত বেশি পরিবর্তিত হবে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এখন থেকে শুধু ওষুধের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত পরিবর্তনগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট