রোজায় মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধির সমস্যায় যা করবেন

· Prothom Alo

রমজান মাস মুসলিমদের জন্য সংযম ও ইবাদতের মাস। তবে ইবাদতের জন্য সুস্থ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। নামাজের রুকু, সিজদা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা মেঝেতে বসা-ওঠার মতো ভঙ্গিগুলো সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য শরীরের জয়েন্ট, মাংসপেশি ও ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে রমজানের আগে ও সময় ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপির ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়-মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধিজনিত (জয়েন্ট) সমস্যা বৃদ্ধি পায়। দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কোমর, হাঁটু ও নিচের পিঠের ব্যথায় ভোগেন। প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো মাংসপেশি কিংবা জয়েন্ট সমস্যায় আক্রান্ত, যা তাঁদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটায়।

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীর খাবার গ্রহণে সতর্কতা

অস্টিওআর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোসিস বা দীর্ঘমেয়াদি কোমরব্যথার মতো সমস্যায় হাঁটু ও কোমরের নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়। অনেকেই নামাজের রুকু বা সিজদায় যেতে কষ্ট পান, কেউ কেউ মেঝেতে বসা-ওঠা করতে অস্বস্তি অনুভব করেন। কেবল ব্যথানাশক ওষুধে সাময়িক উপশম মিললেও স্থায়ী সমাধান আসে না, যদি না জয়েন্টের গতিশীলতা, মাংসপেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য উন্নত করা হয়।

এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি কার্যকর পদ্ধতি। ফিজিওথেরাপি শুধু ব্যথা কমায় না, বরং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। নিয়মিত থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, স্ট্রেচিং, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও কোর স্ট্যাবিলিটি ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠানামা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ও নামাজ আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সঠিক দেহভঙ্গি ও জীবনধারা সম্পর্কে পরামর্শ রোগীর দীর্ঘমেয়াদি উপকারে আসে।

রমজানের সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে ও পানি না পান করে থাকার কারণে শরীরে সাময়িক ক্লান্তি বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। যাঁদের আগে থেকে জয়েন্ট বা মাংসপেশির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও স্পষ্ট হতে পারে। তাই যথেষ্ট পানি পান করতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও আমিষযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।

রোজায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কী করবেন

যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড বেশি, তাঁদের ডালের তৈরি পেঁয়াজু, বেসন, ছোলা, চটপটি ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়া উচিত। বিকল্প আমিষ গ্রহণ করতে হবে। ইফতারের পর হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাহাটিঁ করা ভালো। এতে হাড় ও সন্ধি সচল হয়। প্রয়োজনে ব্যথা ও জড়তা কাটাতে গরম সেঁক নিতে পারেন। যাঁদের হাঁটু ভাঁজ করতে সমস্যা হয়, তাঁরা চেয়ারে বসে ইবাদত করতে পারেন। ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক গ্রহণ করতে পারেন।

বয়স্ক ব্যক্তি, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ বা যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু বা কোমরব্যথায় ভুগছেন, তাঁদের উচিত রমজানের আগে ফিজিওথেরাপিস্টের
পরামর্শ নেওয়া।

এম ইয়াছিন আলী, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

রোজায় প্রোবায়োটিক কেন জরুরি

Read full story at source