গভর্নর বদল: ভবিষ্যতে যোগ্য লোক এ ধরনের পদে আসতে চাইবেন না

· Prothom Alo

নতুন সরকার এসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অদল–বদল করবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের প্রস্থান যেভাবে হলো, তা ওনার প্রাপ্য ছিল না। তাঁর সম্মানজনক বিদায় হতে পারত।

Visit een-wit.pl for more information.

গত পরশু নতুন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাংলদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর। তখন মনে হচ্ছিল, গভর্নরের ধারাবাহিকতা থাকবে। গতকাল বিদায়ী গভর্নর সংবাদ সস্মেলনও করলেন। এরপর দুপুরের পর জানতে পারলেন, তিনি গভর্নর পদে নেই। আগের দিন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যদি বলা হতো, গভর্নর পরিবর্তন হবে, তাহলে ভালো হতো।

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যান

গভর্নর বদল নিয়ে পুরো ঘটনাপ্রবাহ নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। নতুন সরকার এসে গভর্নর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শোভনীয় হয়নি, আরও মসৃণ হতে পারত।

কারণ, সদ্য বিদায়ী গভর্নরকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তিনি কিছু সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা তাঁর অবদান, এর স্বীকৃতি দেওয়া যেত। তাঁর প্রস্থানের প্রক্রিয়া দুঃখজনক। এটি সংকেত দেয়, ভবিষ্যতে যোগ্য লোক এ ধরনের পদে আসতে চাইবেন না।

আর্থিক খাতে সংস্কারের প্রয়োজনের কথা কেউ অস্বীকার করবেন না। নতুন গভর্নরের কাছে প্রত্যাশা হলো, যে সংস্কার শুরু হয়েছে, এর ধারাবাহিকতা রাখবেন। এ ছাড়া তিনি অপেক্ষমাণ সংস্কারগুলো করবেন। আর্থিক খাত যেন দুর্দশাগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে চলতে পারে, এটা নতুন গভর্নরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যে সংস্কারগুলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির আওতায় চলছে, তা চলমান রাখতে হবে।

সদ্য বিদায়ী গভর্নরকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তিনি কিছু সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা তাঁর অবদান, এর স্বীকৃতি দেওয়া যেত। তাঁর প্রস্থানের প্রক্রিয়া দুঃখজনক। এটি সংকেত দেয়, ভবিষ্যতে যোগ্য লোক এ ধরনের পদে আসতে চাইবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনসহ সংস্কারগুলো চলমান রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন নতুন গভর্নর। এ ছাড়া দুর্বল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত করার বিষয়টি চলমান রাখতে চ্যালেঞ্জ আছে।

এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা নতুন গভর্নরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অবশ্য এ দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একার পক্ষে করা কঠিন।

সার্বিকভাবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিবেচনায় এ দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদটি ‘হট সিট’। তাঁকে সংস্কার করার পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের নানা ধরনের চাপ সামলাতে হয়।

জাহিদ হোসেন

সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়

Read full story at source