মানবতাই হলো মানুষের জীবনের একমাত্র সত্য

· Prothom Alo

বাংলা ১ম পত্র: অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

∎ কবিতা: মানবধর্ম

Visit albergomalica.it for more information.

প্রশ্ন: ‘তসবি’ ও ‘মালা’ দিয়ে জাত ভিন্ন করা যায় না কেন?

উত্তর: মানুষ জন্ম ও মৃত্যুর সময় তসবি ও মালা ধারণ করে না বলে, তা দিয়ে জাত ভিন্ন করা যায় না। ‘মানবধর্ম’ কবিতায় লালন ফকির মানুষের জাত-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ বৃথাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। পৃথিবীতে কেউ তসবি, কেউ মালা ধারণ করে জাতের ভিন্নতা নির্ণয়ের চেষ্টা করে। আদতে জন্ম ও মৃত্যুর সময় কেউ তসবি ও মালা ধারণ করে আসে বা যায় না। তাই তসবি ও মালা দিয়ে জাত ভিন্ন করা যায় না।

প্রশ্ন: লালন মানুষের ধর্ম অভিন্ন মনে করেছেন কেন?

উত্তর: পৃথিবীর সব মানুষকে সমান বিবেচনা করে লালন মানুষের ধর্মকে অভিন্ন বলে ঘোষণা করেছেন।

লালন মানুষে মানুষে জাতিগত ও ধর্মীয় ভেদাভেদে বিশ্বাসী নন। তাঁর মতে, মানবতাই হলো মানুষের জীবনের একমাত্র সত্য, একমাত্র ধর্ম। মানবতার ধর্মেই প্রত্যেক মানুষের জীবন মহীয়ান হয়ে ওঠে। তাই তিনি মানুষের ধর্ম অভিন্ন বলে মনে করেছেন।

প্রশ্ন: জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মানুষের প্রকৃত পরিচয় জাতপাতের ওপর নির্ভর করে না বলে তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

লালন তাঁর জাত সম্পর্কে অজ্ঞ, নিজের জাত কী, তা তিনি জানেন না। তবে জাত যে মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি করে, তা তিনি ভালো করেই জানেন। তিনি মনে করেন, মনুষ্যত্বই মানুষের সবচেয়ে বড়ো পরিচয়। তাই তাঁর মতে, জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

প্রশ্ন: ‘মূলে এক জল, সে যে ভিন্ন নয়’- কেন বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এখানে জলের বিভিন্ন উপাদানের মধ্য দিয়ে অভিন্ন মানবসত্তাকে বোঝানো হয়েছে।

স্থানবিশেষে অবস্থানের কারণে জলের নাম হয় কখনো কূপজল আবার কখনো গঙ্গাজল। মূলে সব জল একই উত্স ও উপাদান থেকে এসেছে। কূপের জলকে প্রাত্যহিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। আর গঙ্গার জলকে পবিত্র মনে করা হয়। কিন্তু ভাবার বিষয় হলো, দুই স্থানের হলেও এদের মূলে যেমন একই উপাদান, তেমনই জাতিধর্মের অন্তরালে পৃথিবীর সব মানুষ একই স্রষ্টার একই উপাদানে সৃষ্টি। তাই অভিন্ন মানবসত্তাকে বোঝাতে কবি আলোচ্য উক্তিটির অবতারণা করেছেন।

প্রশ্ন: কূপজল ও গঙ্গাজল কীভাবে অভিন্ন সত্তা? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: কূপজল ও গঙ্গাজল উভয়েরই মূল উপাদান জল হওয়ায় তারা অভিন্ন সত্তা।

জল কূপে থাকলে তাকে মানুষ কূপজল বলে এবং জল গঙ্গায় থাকলে তাকে গঙ্গাজল বা পবিত্র জল হিসেবে বিচেনা করে। কিন্তু কূপজল ও গঙ্গাজলের মূল উপাদান এক, আর তা হলো জল। এখানে কেবল জলের আধারের ভিন্নতা। তাই জাতপাত-বর্ণ সবকিছুকে ছাপিয়ে জলের পরিচয়ই বড়। কারণ, কূপজল ও গঙ্গাজল উভয়ের মূল উপাদান একই। অর্থাৎ দুটিই অভিন্ন সত্তা।

প্রশ্ন: ‘জেতের ফাতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: ‘মানবধর্ম’ কবিতায় ‘জেতের ফাতা’ বলতে জাতের চিহ্নকে বোঝানো হয়েছে।

মানবধর্মের অনুসারী ফকির লালন শাহ বংশমর্যাদা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিন্নতাকে স্বীকার করেন না। তবে তিনি লক্ষ করেছেন, সমাজে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের নিরিখে মানুষের মধ্যে পার্থক্য করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতের লোকেরা তসবি বা মালার মতো ভিন্ন ভিন্ন চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করে। কবিতাটিতে ‘জেতের ফাতা’ বলতে জাতি নির্দেশক এসব চিহ্নকেই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন: ‘যাওয়া কিংবা আসার বেলায়’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘যাওয়া কিংবা আসার বেলায় বলতে লালন মানুষের জন্ম বা মৃত্যুর সময়কে চিহ্নিত করেছেন। মানুষের সব কর্মকাণ্ড জন্ম ও মৃত্যুর সীমারেখায় আবদ্ধ। সদ্যোজাত মানবশিশু কোনো জাত-পরিচয় বহন করে পৃথিবীতে আসে না, তেমনই মৃত্যুর সময়ও মানুষের কোনো জাত-পরিচয় থাকে না। মানুষের জীবনে জন্ম ও মৃত্যুর চেহারা একরূপ।

  • মাহফুজা হোসনে আরা, প্রভাষক
    ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকা

Read full story at source