মানুষের আবেগ বুঝতে মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে
· Prothom Alo

কেউ আপনার সামনে মন খারাপ করে বসে আছে। তার মুখের দিকে তাকিয়েই আপনি বুঝতে পারছেন, কিছু একটা হয়েছে। আবার কখনো ফোনে কারও কণ্ঠ শুনেই বুঝে ফেলেন, তার মন ভালো নেই। হয়তো কথার মাঝেই সে কেঁদে ফেলল। তখন আর তার মুখ দেখার দরকার হয় না। কণ্ঠ শুনেই বুঝতে পারেন, সে কষ্ট পাচ্ছে।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, মস্তিষ্ক কীভাবে এসব বোঝে? মুখের অভিব্যক্তি দেখে একভাবে, আর কণ্ঠ শুনে অন্যভাবে? নাকি দুটোই একসঙ্গে মিলিয়ে মানুষের আবেগ বুঝতে চেষ্টা করে মস্তিষ্ক?
Visit casino-promo.biz for more information.
বিজ্ঞানীরা এত দিন মনে করতেন, মুখের অভিব্যক্তি আর কণ্ঠস্বর বোঝার জন্য মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা অংশ কাজ করে। চোখ দিয়ে আমরা যা দেখি, তা প্রক্রিয়াজাত হয় এক জায়গায়। আর কানে যা শুনি, তা নিয়ে কাজ করে অন্য জায়গা। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিষয়টি এত সরল নয়। বরং কারও মুখে দুঃখের ছাপ দেখলে মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেগুলো সাধারণত কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করে। আবার কারও কণ্ঠ শুনলেও মুখের অভিব্যক্তি বোঝার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ, মস্তিষ্ক শুধু চোখে দেখা আর কানে শোনা তথ্য আলাদাভাবে সামলায় না। তথ্যগুলো কোন আবেগ প্রকাশ করছে, সেটিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
মস্তিষ্ক কি নিজেই নিজের ডাক্তারি করতে পারেমাত্তিওনির মতে, বাস্তবে আমরা শুধু একজন দুঃখী মানুষের মুখ দেখি না। একই সঙ্গে তার কান্নার শব্দও শুনতে পাই। তাই নানা ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্য একসঙ্গে সামলানোর মতো করেই মস্তিষ্ক কাজ করে।
মুখ দেখেই কি সব বোঝা যায়
ধরুন, আপনার এক বন্ধু মন খারাপ করে বসে আছে। তার মুখের দিকে তাকিয়ে আপনি বুঝতে পারলেন, সে দুঃখ পেয়েছে। কিন্তু শুধু মুখের অভিব্যক্তি দেখেই কি তার মনের অবস্থা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব?
হয়তো তার চোখে পানি। ঠোঁট কাঁপছে। মুখটা মলিন। এসব দেখে আপনি বুঝতে পারবেন, সে কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু সে কাঁদতে শুরু করলে তার কান্নার শব্দও আপনাকে অনেক কিছু জানাবে। আবার সে যদি কিছু না বলে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সেটিও আপনার কাছে আলাদা অর্থ বহন করতে পারে।
বাস্তব জীবনে আমরা এভাবেই মানুষের আবেগ বোঝার চেষ্টা করি। শুধু মুখ দেখি না, কণ্ঠ শুনি। কথার ধরন খেয়াল করি। কখনো তার নীরবতাও বুঝতে চেষ্টা করি।
বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষক স্তেফানিয়া মাত্তিওনি এই গবেষণার প্রধান লেখক। তাঁর মতে, বাস্তবে আমরা সাধারণত শুধু একজন দুঃখী মানুষের মুখ দেখি না। একই সঙ্গে তার কান্নার শব্দও শুনতে পাই। তাই নানা ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্য একসঙ্গে সামলানোর মতো করেই মস্তিষ্ক কাজ করে।
এই ধারণা থেকেই গবেষকেরা জানতে চেয়েছেন, মুখের অভিব্যক্তি আর কণ্ঠস্বরের মধ্যে এমন কোনো যোগসূত্র আছে কি না, যা মস্তিষ্কের কাজ করার ধরন সম্পর্কে আমাদের পুরোনো ধারণা বদলে দিতে পারে।
মানসিক চাপে থাকলে মস্তিষ্ক শান্ত করতে পারে গানমজার বিষয় হলো, আনন্দ, ঘৃণা ও ভয়ের মতো প্রতিটি আবেগই মুখ ও কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলোকে প্রায় একইভাবে সক্রিয় করেছে।
এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাত্তিওনি ও তাঁর দল ২৪ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে একটি পরীক্ষা করেন। তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য ব্যবহার করা হয় এমআরআই যন্ত্র। গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের অভিনেতাদের অভিনয় করা কিছু ভিডিও দেখান। সেখানে অভিনেতারা নানা ধরনের আবেগ প্রকাশ করছিলেন। যেমন আনন্দ, ঘৃণা ও ভয়। কোনো ভিডিওতে অভিনেতার মুখ দেখা যাচ্ছিল, সঙ্গে শোনা যাচ্ছিল তাঁর কণ্ঠস্বর। আবার কোনো ভিডিওতে শুধু মুখের অভিব্যক্তি দেখা গেছে, কণ্ঠস্বর শোনা যায়নি। অন্য কিছু ক্লিপে ছিল শুধু শব্দ, কোনো মুখ দেখা যায়নি। এভাবে গবেষকেরা আলাদা করে দেখতে চেয়েছেন, শুধু মুখের অভিব্যক্তি দেখলে কিংবা শুধু কণ্ঠস্বর শুনলে মস্তিষ্কের কোন অংশগুলো সক্রিয় হয়।
ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। যখন অংশগ্রহণকারীরা শুধু শব্দ শুনেছেন, তখন তাঁদের মস্তিষ্কের মুখের অভিব্যক্তি প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত কিছু অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আবার যখন শুধু ভিডিও দেখেছেন, তখন সক্রিয় হয়েছে কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত কিছু অংশ।
আরও মজার বিষয় হলো, আনন্দ, ঘৃণা ও ভয়ের মতো প্রতিটি আবেগই মুখ ও কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলোকে প্রায় একইভাবে সক্রিয় করেছে। আবেগটি চোখে দেখানো হয়েছে, নাকি কানে শোনানো হয়েছে, তাতে এই প্রবণতা বদলায়নি।
মাত্তিওনির ব্যাখ্যা, ‘মনে হচ্ছে মস্তিষ্কের এই অংশগুলো শুধু কোন ইন্দ্রিয় থেকে তথ্য আসছে, তার ওপর নির্ভর করে কাজ করে না। তথ্যটি কোন আবেগ প্রকাশ করছে, সেটিও তাদের কাজের ধরনকে প্রভাবিত করে।’
আপনার মস্তিষ্ক কতটা সুস্থ, কীভাবে বুঝবেনমজার বিষয় হলো, আনন্দ, ঘৃণা ও ভয়ের মতো প্রতিটি আবেগই মুখ ও কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলোকে প্রায় একইভাবে সক্রিয় করেছে।
ফোনে কথা বলেও বন্ধুর মন খারাপ বোঝা যায় কেন
এবার ভাবুন, আপনার এক বন্ধু অন্য শহরে থাকে। তার সঙ্গে আপনার ফোনে কথা হচ্ছে। আপনি তাকে দেখতে পাচ্ছেন না। কিন্তু কথা বলতে বলতেই বুঝতে পারলেন, তার মন খারাপ।
কীভাবে বুঝলেন? হয়তো তার কণ্ঠ স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু। কথার গতি ধীর। অথবা সে এমনভাবে কথা বলছে, যাতে বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা তাকে ভাবাচ্ছে। আপনি তার মুখ দেখছেন না, তবু তার আবেগ সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হচ্ছে।
নতুন গবেষণার ফলাফল এ ধরনের অভিজ্ঞতা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। মুখের অভিব্যক্তি বোঝার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলো শুধু চোখে দেখা তথ্য নিয়েই কাজ করে না। কণ্ঠস্বর থেকেও পাওয়া আবেগের সংকেত বুঝতে তারা ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে, কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত অংশগুলোও মুখের অভিব্যক্তি থেকে পাওয়া তথ্যের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে ফোনে কারও কণ্ঠ শুনলেই তার আবেগ সব সময় নির্ভুলভাবে বোঝা সম্ভব। মানুষ কখনো নিজের অনুভূতি লুকায়, কখনো একইভাবে কথা বললেও তার মনের অবস্থা আলাদা হতে পারে। তবে চোখে দেখা আর কানে শোনা তথ্যের মধ্যে মস্তিষ্কের এই যোগসূত্র আমাদের আবেগ বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন কেন সম্ভব নয়মুখের অভিব্যক্তি বোঝার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলো শুধু চোখে দেখা তথ্য নিয়েই কাজ করে না। কণ্ঠস্বর থেকেও পাওয়া আবেগের সংকেত বুঝতে তারা ভূমিকা রাখতে পারে।
চোখে দেখা আর কানে শোনা, দুটোই কেন জরুরি
একই মানুষের মুখ দেখা আর তার কণ্ঠ শোনা এক বিষয় নয়। আবার দুটো একসঙ্গে পাওয়া গেলে পরিস্থিতি বুঝতে সুবিধা হতে পারে।
কেউ আপনাকে বলল, ‘আমি খুব ভালো আছি।’ কথাটা শুনে মনে হতে পারে, তার মন ভালো। কিন্তু যদি তার মুখ বিষণ্ন থাকে, কণ্ঠ কাঁপে কিংবা চোখে পানি জমে, তাহলে আপনি হয়তো বুঝতে পারবেন, কথার সঙ্গে তার অনুভূতির মিল নেই।
এখানে মস্তিষ্ককে শুধু শব্দের অর্থ বুঝলেই চলে না। মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বর এবং পরিস্থিতির মধ্যে মিল আছে কি না, সেটিও বুঝতে হয়।
ইতালির ত্রেন্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক স্তেফানিয়া বেনেত্তি এই গবেষণায় অংশ নেননি। তবে তাঁর মতে, অন্যের আবেগ বোঝার সময় মস্তিষ্ক শুধু চোখ ও কান থেকে পাওয়া দুটি তথ্য যোগ করে না। বরং দেখা ও শোনা তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে এমন একটি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে।
এই পদ্ধতির সুবিধাও আছে। বেনেত্তির বলেন, ‘চোখে দেখা আর কানে শোনা তথ্য একসঙ্গে কাজে লাগানো প্রাণীর জন্য বড় সুবিধা। এতে পরিস্থিতি নিয়ে ভুল বোঝার আশঙ্কা কমে। অন্যের আবেগ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে বুঝতেও সুবিধা হয়। বিশেষ করে চারপাশে অনেক শব্দ থাকলে কিংবা পরিবেশ জটিল হলে এই ক্ষমতা কাজে লাগতে পারে।’
যেমন, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কারও কথা শুনছেন। আশপাশে অনেক শব্দ হচ্ছে। সেই অবস্থায় তার কণ্ঠের পাশাপাশি মুখের অভিব্যক্তিও দেখতে পারলে সে কী বলতে চাইছে, তা বোঝা সহজ হতে পারে।
মস্তিষ্ক যেভাবে নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেবেনেত্তির মতে, অন্যের আবেগ বোঝার সময় মস্তিষ্ক শুধু চোখ ও কান থেকে পাওয়া দুটি তথ্য যোগ করে না। বরং দেখা ও শোনা তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে এমন একটি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে।
মস্তিষ্ক কি নিজের কাজের ধরন বদলাতে পারে
এই গবেষণার ফলাফল মস্তিষ্কের আরেকটি পরিচিত বৈশিষ্ট্যের কথাও মনে করিয়ে দেয়। সেটি হলো, মস্তিষ্কের অভিযোজনক্ষমতা বা প্লাস্টিসিটি। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ এবং কাজের ধরন বদলাতে পারে।
আগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের সময় থেকেই যারা বধির, তাদের মস্তিষ্কের কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত কিছু অংশ মুখের অভিব্যক্তি বুঝতে কাজে লাগতে পারে। অন্যদিকে, যারা দৃষ্টিহীন, তাদের মস্তিষ্কের মুখের অভিব্যক্তি প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত কিছু অংশ কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া আবেগ বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
এই তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায়, মস্তিষ্কের কোনো অংশের কাজ সব সময় একটি নির্দিষ্ট ইন্দ্রিয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বেনেত্তির মতে, এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, মস্তিষ্কের এসব অংশের মূল কাজ হয়তো শুধু দেখা বা শোনার তথ্য প্রক্রিয়াজাত করা নয়; বরং আবেগ বোঝাও তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী তারা অন্য ধরনের তথ্য নিয়েও কাজ করতে পারে।
তবে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। মস্তিষ্কের কোন অংশ কীভাবে এই কাজ করে, কোন পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা বদলায় এবং মানুষের অভিজ্ঞতা এই প্রক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে আরও অনেক কিছু জানার বাকি আছে।
একটি মাত্র কোষ থেকে কীভাবে তৈরি হয় মস্তিষ্কআগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের সময় থেকেই যারা বধির, তাদের মস্তিষ্কের কণ্ঠস্বর প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত কিছু অংশ মুখের অভিব্যক্তি বুঝতে কাজে লাগতে পারে।
এই গবেষণা আমাদের কী কাজে লাগতে পারে
অন্য মানুষের আবেগ বোঝা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। পরিবার, বন্ধুত্ব, পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্র, সব জায়গাতেই আমাদের অন্যের অনুভূতি বুঝতে হয়। কেউ বিরক্ত, ভয় পেয়েছে, নাকি মন খারাপ করেছে, তা বুঝতে পারলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সহজ হয়।
কিন্তু সবার জন্য বিষয়টি সমান সহজ নয়। কেউ কেউ অন্যের মুখের অভিব্যক্তি কিংবা কণ্ঠস্বর থেকে আবেগ বুঝতে সমস্যায় পড়েন। মস্তিষ্ক কীভাবে এসব সংকেত প্রক্রিয়াজাত করে, তা ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে তাঁদের সাহায্য করার নতুন উপায় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
তবে এই গবেষণা থেকে এখনই কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরি হয়ে গেছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। আপাতত এর গুরুত্ব হলো, মানুষের আবেগ বোঝার পেছনে মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা আরও পরিষ্কার হচ্ছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব নিউরোসায়েন্সে।
মস্তিষ্ক কীভাবে আলাদা শব্দ বুঝতে পারেপরিবার, বন্ধুত্ব, পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্র, সব জায়গাতেই আমাদের অন্যের অনুভূতি বুঝতে হয়। কেউ বিরক্ত, ভয় পেয়েছে, নাকি মন খারাপ করেছে, তা বুঝতে পারলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সহজ হয়।
আমরা যখন কারও মুখের দিকে তাকাই, তখন শুধু তার চোখ, ঠোঁট কিংবা মুখের ভঙ্গি দেখি না। তার কণ্ঠ শুনলেও শুধু শব্দ শুনি না। আমাদের মস্তিষ্ক এসব সংকেতের মধ্যে সম্পর্ক খোঁজে। একটির সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে বোঝার চেষ্টা করে, মানুষটি আসলে কেমন অনুভব করছে।
কেউ হয়তো মুখে হাসছে, কিন্তু কণ্ঠে বিষণ্নতা। কেউ হয়তো কিছুই বলছে না, অথচ তার চোখেই ধরা পড়ছে কষ্ট। মানুষের আবেগ বোঝার জন্য মস্তিষ্ক যে কতভাবে তথ্য মিলিয়ে কাজ করে, নতুন এই গবেষণা তারই একটি আভাস দেয়।
আমরা অন্যের মুখ দেখি, কণ্ঠ শুনি, তারপর তার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু এই সাধারণ অভিজ্ঞতার পেছনে যে মস্তিষ্কের নানা অংশ একসঙ্গে কাজ করছে, তা আমরা সচরাচর টেরই পাই না।
সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকানস্বাভাবিক মস্তিষ্ক বলে কিছু নেই