মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের আরতিতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
· Prothom Alo

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব মানেই ঐতিহ্য আর আনন্দের মেলবন্ধন। প্রতিবছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গাপূজায় ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আরতি দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। আজ শনিবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় তাদের গান ও আরতির পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে কুমুদিনী প্রাঙ্গণ।
Visit biznow.biz for more information.
এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মণ্ডপটিতে দেবীর বোধনের মাধ্যমে পূজা শুরু করেন ভক্তরা।
দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের গান ও আরতির পরিবেশনাআজ সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পূজায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ৮টি গানের মাধ্যমে আরতি পরিবেশন করে। মণ্ডপের সামনে থাকা হাজারো দর্শকের মুহুর্মুহ করতালিতে পুরো মণ্ডপ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টা চলে এ অনুষ্ঠান।
এ সময় কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা, পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক মহাবীর পতি, কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরতি উপভোগ করতে আসা বগুড়া মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক চিন্ময় মালাকার বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল রণদার বাড়ির মণ্ডপের পূজা দেখতে আসব। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে আজ এই মণ্ডপে আসা। রণদার পুরো বাড়িজুড়ে মানুষের যে আনন্দ; মনে হচ্ছে এখানে মা দুর্গা স্বয়ং হাজির হয়েছেন।’
ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক শিক্ষক কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানা বলেন, ‘পুরো কুমুদিনীই মনে হয় আমার প্রাণ। আমার সবকিছুজুড়ে কুমুদিনী জড়িয়ে আছে। প্রতিবছর দুর্গাপূজায় আমরা যে আনন্দ করতাম, তার কোনোটিই ভোলার নয়। আমি এখানে শিক্ষকতা না করলেও আমার নাড়ির টান থেকেই এসেছি। হোমসের ছোট ছোট শিক্ষার্থীর মায়াবী মুখ আমাকে পাগল করে। তাদের পরিবেশনা প্রতিনিয়ত আমার কানে বাজে।’
দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে নৃত্য পরিবেশন এক শিক্ষার্থীরঅনিমেষ ভৌমিক বলেন, ‘দানবীর রণদার আতিথেয়তা তাঁর উত্তরসূরি রাজীব প্রসাদ সাহা ধরে রেখেছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও কুমুদিনী পরিবারের প্রত্যেক সদস্য অতিথিদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত হয়ে আছেন। দেশ-বিদেশের অতিথিরা কুমুদিনী প্রাঙ্গণে পা রাখছেন। তাঁদের পদচারণে পুরো কুমুদিনী ক্যাম্পাস মুখর হয়ে উঠছে। আমরা পূজার আনন্দ আরও বেশি উপভোগ করতে পারছি।’
এদিকে রণদার বাড়ি যেতে লৌহজং নদ পাড়ি দিতে হয়। এ জন্য নদে রাখা হয়েছে বজরা নৌকা। কুমুদিনী চত্বরে আসা অতিথিরা নদের উত্তর পাড় থেকে বজরা নৌকায় চেপে দক্ষিণ পাড়ে রণদার বাড়িতে যাচ্ছেন। নদের ঢালু স্থান সহজেই অতিক্রম করতে বানানো হয়েছে কাঠের সিঁড়ি।