প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেপ্তার ৩ আসামি দুই দিনের রিমান্ডে
· Prothom Alo

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন মো. আকাশ আহমেদ সামির ওরফে আবদুল্লাহ (২৫), মো. শাখাওয়াত হোসেন (৪৮) ও মো. নুর নবী (৩০)।
Visit grenadier.co.za for more information.
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই মো. আবদুর রহিম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমনসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তাঁরা বলেন, ঘটনার দিন কোনো মিছিল বা সমাবেশ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়নি; নিজ নিজ বাসা থেকে ধরা হয়েছে। তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং অতীতে তাঁদের কোনো অপরাধমূলক মামলার রেকর্ড নেই। এজাহারেও তাঁদের নাম নেই। তাই রিমান্ড বাতিল করে তাঁদের জামিন দেওয়া হোক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামিরা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে ককটেল নিক্ষেপ করেছেন। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন এবং মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তাঁদের সর্বোচ্চ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১০ অক্টোবর রাতে রাজধানী থেকে এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে আজ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রেখেছিলেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে তেজগাঁওয়ের জাহাঙ্গীর গেট থেকে আগারগাঁওগামী লিংক রোডের মুখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এজাহারে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ এবং দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই তেজগাঁও থানার এসআই মো. মাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।