বিল গেটস অবাক: বাংলাদেশি এসব পেশা এআই খেতে পারবে না!

· Prothom Alo

বিল গেটস বলেছেন, কোডার (কম্পিউটারের কোড লেখক), বায়োলজিস্ট (জীববিজ্ঞান গবেষক) আর এনার্জি এক্সপার্টের (জ্বালানি বিশেষজ্ঞ) চাকরি এআই খেতে পারবে না। বাংলাদেশে বাস্তবে আরও কিছু পেশা আছে, যেগুলোয় এআই এখনো প্রবেশ করতে পারেনি। রস+আলোর এআই ও জব এক্সপার্ট হুমায়ুন শরিফ জানাচ্ছেন বাঙালির সেই পেশাগুলোর কথা।

ছিনতাইকারী

Visit sweetbonanza-app.com for more information.

ছিনতাই করতে লাগে সাহস। আরও লাগে অস্ত্র, মরিয়া ভাব, ফেনসিডিল বা ইয়াবার একটুখানি আসক্তি, স্থানীয় মাস্তান, মামা আর থানাওয়ালাদের সঙ্গে সংযোগ। এআই এটা পারবে না।

পকেটমার

পকেট মারতে হয় নরম হাতে, ভিড়ের মধ্যে। এআই পকেটে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করবে, ‘অনুমতি আছে কি?’ পকেটমার জানে কোন পকেটে কী থাকে। এআই সবাইকে স্ক্যান করে, কিন্তু হাত বাড়ায় না।

তেলবাজ

‘স্যার, আপনিই আমাদের একমাত্র ভরসা’—এ কথা মুখ দিয়ে বলতে হয়। এআই সত্যি কথা বলে ফেলবে, ‘আপনার প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি।’ তেলের কাজ শেষ। তেলবাজ জানে কখন হাসতে, কখন চুপ থাকতে হয়। এআই চুপ থাকতে পারে না।

চাঁদাবাজ

চাঁদা আদায় হয় গলার স্বর আর চোখের চাহনিতে। এআই বলবে, ‘দয়া করে মাসিক চাঁদা দিন, না হলে নোটিশ যাবে।’ দোকানদার হাসবে, ‘নোটিশ দিয়ে চাঁদা হয় না।’ চাঁদাবাজ জানে কখন কঠোর হতে হয়, কখন নরম। এআই সব সময় এক সুরে কথা বলে। আর চাঁদাবাজ দরকার পড়লে ভাঙচুর করে, আগুন দেয়। চট্টগ্রামে তো ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে চাঁদাবাজ গোলাগুলিও করেছে।

মব ও হরতাল বাহিনীর সদস্য

মব মানে দল বেঁধে রাস্তায় নামা, চিৎকার করা। এআই একলা। সে একসঙ্গে অনেকজন হতে পারে না। ধর শালারে, ওই যায় দালাল, দোসর বলে দৌড়াতে গেলে এআইয়ের ব্যাটারি শেষ। হরতালে গাড়ি থামাতে গিয়ে সে বলবে, ‘দয়া করে বিকল্প রাস্তা নিন।’ ততক্ষণে চালক হর্ন বাজিয়ে চলে যাবে।

রাজনীতিবিদ বা নেতাগিরি

নেতা হতে হয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সময়মতো ভুলে গিয়ে, প্রয়োজনে রং বদলে। এআই যা বলে, মনে রাখে। ‘গতকালের কথা আজ বদলে গেছে’ বলতে গিয়ে নিজের ডেটাবেজেই আটকে যাবে। মঞ্চে ‘প্রাণ দিতে প্রস্তুত’ বলতে গিয়ে বলবে, ‘আমার প্রাণ নেই।’ শ্রোতারা হতবাক।

দালাল (জমি-বাড়ি-চাকরির)

দালাল দুই পক্ষকে আলাদা কথা বলে। এআই সবাইকে একই তথ্য দেবে। দুই পক্ষই চলে যাবে। দালাল জানে কখন দাম বাড়িয়ে বলা, কখন কমিয়ে, কখন ‘আমি দেখে দিচ্ছি’ বলে সময় নেওয়া। এআই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়।

ঘটক

ঘটক একটু বাড়িয়ে বলে, একটু গোপন করে। এআই সোজাসুজি বলবে, ‘ছেলের আয় এত, মেয়ের যোগ্যতা এত।’ দুই পরিবার রাগ করে চলে যাবে। ঘটক জানে কোন তথ্য বলতে হয়, কোনটা চেপে রাখতে হয়। এআই কিছুই চেপে রাখতে পারে না।

পাড়ার মাস্তান

পাড়ায় একটু দাপট, ঝগড়া মিটানো, কখনো চাঁদা। এআই বলবে, ‘দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য মধ্যস্থতা করছি।’ কেউ শুনবে না। মাস্তানের কাজে লাগে গলার স্বর আর দু-চারজন অনুসারী। এআইয়ের অনুসারী নেই।

টোকাই

রাস্তায় ঘুরে জিনিস কুড়ানো। এআই বলবে, ‘রিসাইক্লিং অ্যাপ ব্যবহার করুন।’ টোকাই জানে কোন গলিতে কী পাওয়া যায়, কোন সময়ে বের হতে হয়। এআই গলিতে ঢুকতে ভয় পায়।

কাবাডি খেলোয়াড়

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি। একজন এগোতে গেলে ১০ জন পেছনে টেনে ধরে। কাবাডিতে লাগে দৌড়, ধরা আর শ্বাস আটকে ‘কাবাডি কাবাডি’ বলা। এআইয়ের শ্বাস নেই। মাঠে নেমে বলবে, ‘আমি এক সেকেন্ডে পার হতে পারি।’ খেলোয়াড়েরা বলবে, ‘তুমি তো নড়ছই না।’

কাজের বুয়া

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্ত বাড়ির ঘর মোছা আর মাথায় তেল মেখে চুল আঁচড়ে দেওয়ার কাজ এআই পারবে না।

এই পেশাগুলোয় এআই সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এআই যদি নিজে করতে যায়; লোকে হাসবে বা বলবে, ‘মেশিনটাকে সরিয়ে নাও।’ তাই এখনো এগুলো বাঙালির একচেটিয়া। এআই হয়তো অনেক কিছু শিখবে, কিন্তু ছিনতাই, পকেট মারা, তেল দেওয়া, চাঁদাবাজি, মববাজি, নেতাগিরি, দালালি, ঘটকালি, মাস্তানি, কাবাডি খেলা, ঘর মোছা—এগুলোয় সে এখনো শিক্ষানবিশ।

বাঙালি ভাই ও বোনেরা, এআই আপনাদের বেকার করতে পারবে না!

আরেকটা আছে। নারকেলগাছ থেকে নারকেল পাড়া, ডাব পাড়া। এআই এটা করবে, সে ভরসা আজও কেউ দিচ্ছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিখ্যাত পাড়ায় পাড়ায় মারামারি, মোহাম্মদপুরের ছিনতাই আর মিরপুরে ক্লিনিক ভেঙে সমান করার মতো কাজগুলো এখনো এআইয়ের সাধ্যাতীত।

** লেখায় এআইয়ের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। **

Read full story at source