ডেঙ্গু ঠেকাতে ঢাকার ৭৫ ওয়ার্ডে অভিযান, বাসিন্দাদের যা করতে বললেন ডিএসসিসি প্রশাসক

· Prothom Alo

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীর প্রতিটি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত এক দিন সবাই নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলে ঢাকা শহর অপরিচ্ছন্ন থাকবে না।

আজ শনিবার ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতি শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়।

Visit newsbetsport.bond for more information.

সকালে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, সরকারের নির্দেশনায় নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিন মাসের এই কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরের রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকবে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমবে।

তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দিয়ে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। এ কর্মসূচিতে স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, নিয়মিত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমছে। তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমে থাকা পানি অপসারণ করা সম্ভব না হলে সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে। করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেই পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।

পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে কর্মসূচির প্রচারের ফলে ইতিমধ্যে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। নাগরিকেরা পুরোপুরি সচেতন হলে এ কর্মসূচি সফল হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সংস্থাটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বা ব্যবসা নয়’

এদিকে শনিবার রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

সেখানে আবদুস সালাম বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি বা ব্যবসা করা উচিত নয়। ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান। মানুষ হিসেবে সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিলে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালামকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ১০ অক্টোবর ২০২৬

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতির কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সব ধর্মেই মানবিকতা, নৈতিকতা ও ভালো কাজের শিক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, শুধু ধর্মীয় বাণী উচ্চারণ করলেই হবে না, ব্যক্তিজীবনেও সেগুলোর চর্চা করতে হবে। সমাজ থেকে অনৈতিকতা, মাদক ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বিকল্প নেই।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

Read full story at source