মাউথ অব হেল নামে পরিচিত মাসায়া আগ্নেয়গিরি নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

· Prothom Alo

পৃথিবীর বুক চিরে গোপনে জেগে উঠছে ভয়ানক আগ্নেয়গিরি। নরকের মুখ বা মাউথ অব হেল নামে পরিচিত মাসায়া আগ্নেয়গিরির গভীরে নতুন করে ম্যাগমা জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়ার অন্যতম ভয়ংকর এবং সক্রিয় এই আগ্নেয়গিরি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

Visit esporist.org for more information.

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নরকের মুখ বা মাউথ অব হেল নামে পরিচিত এই আগ্নেয়গিরির ভূগর্ভে দুটি আলাদা ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ বা চেম্বার পূর্ণ হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়ার ২০ লাখ বাসিন্দার বসবাসস্থল থেকে মাত্র ১৩ মাইল দূরে এই আগ্নেয়গিরি অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সান্তিয়াগো ক্রেটার নামের লাভাপূর্ণ এই আগ্নেয়গিরির গহ্বর দেখতে ভিড় করেন। নতুন এক গবেষণায় মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই ভূগর্ভস্থ সক্রিয়তার উদ্বেগজনক লক্ষণ ধরা পড়েছে। এসব সম্ভাব্য বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী লিজ জনসন জানিয়েছেন, মাসায়া আগ্নেয়গিরির ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা চলাচলের স্থান অনেক বেশি জটিল। এই জটিল সুড়ঙ্গ ও রিজার্ভারের নেটওয়ার্ক নিখুঁতভাবে না বুঝলে আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ১৭৭২ সালের পর থেকে এই আগ্নেয়গিরি বড় কোনো লাভা প্রবাহ তৈরি না করলেও এটি থেকে নিয়মিত বিপজ্জনক মাত্রায় সালফার ডাই–অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। গত ৫০ বছরে এখানে একাধিক ছোট বিস্ফোরণ ঘটেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভূমি নিচে নেমে যাওয়ার অর্থ হলো সম্ভবত ম্যাগমা সরে যাচ্ছে। কিন্তু যখন ভূমি আবার ওপরে উঠতে শুরু করে, তখন তার অর্থ হলো নতুন ম্যাগমা ভেতরে প্রবেশ করছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই এলাকার ভূমি আবার ওপরে উঠতে শুরু করে, যা ইঙ্গিত দেয় রিজার্ভার আবার ম্যাগমা দিয়ে পূর্ণ হচ্ছে। তবে সান্তিয়াগো ক্রেটার এবং এর লাভা হ্রদের চারপাশের ভূমি পুরো ছয় বছর ধরে সংকুচিত হয়েছে। এর অর্থ হলো মাটির প্রায় ৬৫৬ ফুট বা ২০০ মিটার গভীরে আরেক অগভীর এবং সক্রিয় রিজার্ভার লুকিয়ে রয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল

Read full story at source