রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ে জড়িত ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, ৮০ জনকে সতর্কবার্তা

· Prothom Alo

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ১৫ জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারাদেশ এবং ৮০ শিক্ষার্থীকে ‘কঠোর সতর্কবার্তা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া সই জালিয়াতির অভিযোগে আরও তিন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারেরন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Visit freshyourfeel.org for more information.

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৯তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গতকাল বুধবার বিকেলে এসব তথ্য জানা গেছে।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা উপকমিটি অভিযোগের প্রমাণসহ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। পরে সিন্ডিকেট সদস্যরা সেগুলো পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, র‍্যাগিংয়ের দায়ে ১৫ জন, চারুকলা অনুষদের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে একজন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনসহ মোট ১৯ জন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ১৯ জনের আবাসিকতাও বাতিল হবে। ভবিষ্যতে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধা পাবেন না।

অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, শৃঙ্খলা উপকমিটির সদস্যসচিব ও প্রক্টর আমরা ১৭ থেকে ১৮টি বিভাগ থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পেয়েছি। যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ৮০ জন শিক্ষার্থীকে অভিযোগের মাত্রা অনুযায়ী ‘কঠোর সতর্কতামূলক’ চিঠি দেওয়া হবে। তাঁদের পরিবারকেও চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ মে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর পর প্রক্টর দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে ১৭ থেকে ১৮টি বিভাগ থেকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগ তদন্ত করেছে শৃঙ্খলা উপকমিটি।

শৃঙ্খলা উপকমিটির সদস্যসচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ১৭ থেকে ১৮টি বিভাগ থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পেয়েছি। যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগের মাত্রা অনুযায়ী ৮০ শিক্ষার্থীকে সতর্কবার্তা দিয়ে মুচলেকা নেওয়া এবং তাদের পরিবারকেও জানানোর সুপারিশ করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছি। আমরা চিরতরে কারও ছাত্রত্ব বাতিল করিনি। সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি আবাসিক শিক্ষার্থী হয়ে থাকে, তার আবাসিকতাও বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে তার মা–বাবাকে বিষয়টি জানানো হবে। এরপরও তাঁরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।’

Read full story at source