হরিজন নারীর অধিকার ও কর্মপরিবেশ
· Prothom Alo
সোচ্চার প্রকল্পের আওতায় বাদাবন সংঘের উদ্যোগে ‘হরিজন নারীর অধিকার ও কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।
Visit umafrika.club for more information.
কৃষ্ণ লাল
সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ
অধিকার ও কর্মপরিবেশের প্রশ্নটি হরিজন নারীদের সামগ্রিক জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত। নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হলে পরিবার, বাসস্থান, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো একসঙ্গে দেখতে হবে। ২০১২ সালে সরকার আমাদের জন্য কিছু নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; কিন্তু যাঁর চাকরি আছে, মূলত তাঁরই সুযোগ হয়েছে; চাকরি না থাকলে বাসস্থানের অধিকারও থাকে না। অথচ আমাদের অনেকেরই এই দেশে অন্য কোনো আশ্রয় নেই। নিরাপদ ও স্থায়ী বাসস্থান আমাদের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন।
আউটসোর্সিংয়ের কারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনেকে কাজ হারাচ্ছেন এবং সরকার ঘোষিত বেতনের চেয়ে কম পাচ্ছেন। আমরা চাই, এ সমস্যার সাময়িক নয়, জাতীয়ভাবে স্থায়ী সমাধান হোক। শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের যেন শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে না হয়; যোগ্যতা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের মেধা ও সক্ষমতা বিকাশের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি।
আমাদের পঞ্চায়েতেও পরিবর্তন আসছে। আগে নারীরা দূরে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত শুনতেন, এখন হরিজন ঐক্য পরিষদের নির্বাচনে নারীরা অংশ নিচ্ছেন। আমাদের মেয়েরা পড়াশোনা করছেন, এলএলবি পড়ছেন। একদিন তাঁরাই পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে আসবেন এবং নিজেদের অধিকার ও কমিউনিটির মানুষের অধিকার নিয়ে আরও দৃঢ়ভাবে কথা বলবেন।
লেবু বাসফোর
সভাপতি, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ
বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ ১৯৯৬ সালে যে কাজ শুরু করেছিল, তার মাধ্যমে আজ অনেক পিছিয়ে পড়া দলিত নারীরা সামনে আসতে পেরেছেন। আমরা সব ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি; শুধু দলিত নারী নয়, সব নারীর অধিকার ও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
হরিজন নারীরা এখনো নানা বৈষম্যের শিকার। রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈষম্য এখনো গভীর। অনেক জায়গায় হরিজনদের সাধারণ অধিকারও নিশ্চিত হয় না। ঢাকার মিরনজল্লা, মিরপুর থেকে শুরু করে বগুড়া ও রাজশাহীর বস্তিগুলোতে গিয়ে বাস্তব অবস্থা দেখতে হবে। নারীরা কীভাবে থাকছেন, কাজ করছেন এবং কী ধরনের পরিবেশে জীবন যাপন করছেন, সেই দিকে নজর দিতে হবে।
আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে শুধু সংবাদ প্রকাশ করলেই হবে না, ফলোআপও থাকতে হবে। সমাজের মেধাবী মানুষ ও গণমাধ্যমকে হরিজন নারীদের অধিকার, নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও নেতৃত্বের সুযোগ তৈরিতে পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের নারীরা অনেক দূর এগিয়েছেন, তবে এখনো অনেক জায়গায় তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। আমি সংগঠনে থাকার সময় নারীদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করব, যাতে তাঁরা অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা পান।
সনু রাণী দাস
নির্বাহী পরিচালক, দলিত নারী উন্নয়ন সংস্থা
নারী হিসেবে বৈষম্য তো আছেই, তার সঙ্গে হরিজন পরিচয়ের কারণে আমাদের পথ আরও কঠিন। হরিজন নারী হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। চাকরির আবেদন করার সময় ঠিকানা দেখেই অনেক ক্ষেত্রে আমাদের কমিউনিটি শনাক্ত করা হয় এবং কর্মস্থলে নেওয়া হয় না। যোগ্যতার অজুহাত দেখিয়ে আমাদের উপেক্ষা করা হয়। আমি চাই, আমাদের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদেরও সুযোগ দেওয়া হোক, যাতে আমরা পেশা পরিবর্তন করতে পারি।আমাদের অনেক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন; কিন্তু বিভিন্ন জেলায় তাঁদের লিখিত নিয়োগপত্র নেই, চাকরি হারানোর আগে কোনো নোটিশও দেওয়া হয় না।
অনেক নারী এই কাজটুকুও না পেয়ে দারিদ্র্যের মধ্যে থাকছেন। তাই রাষ্ট্রের কাছে আমার দাবি, হরিজন নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। আমাদের মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক ও পারিবারিক বাধা রয়েছে। তাঁদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে রাষ্ট্র এবং বেসরকারি সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন। নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারলে আমাদের কমিউনিটিতেও পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে ভূমিকা নিতে হবে।
বিমল ডোম
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ
হরিজন নারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আমরা নানা বাধার মুখোমুখি হচ্ছি। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা ডিসি কোর্টে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় আমাদের একজন হরিজন নারী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ পাননি। অথচ তাঁর যোগ্যতা ছিল। আমরা প্রশ্ন তুললেও কোনো সমাধান হয়নি।
ঢাকার হরিজন নারীদের মধ্যে অনেকে এখন পড়াশোনা করছেন; কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পেরে অনেক মেয়েকে বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাই নারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ তৈরিতে আমরা কর্মশালা করার উদ্যোগ নিয়েছি। তাঁদের প্রশিক্ষিত করে সামনে নিয়ে আসতে চাই।
রাজবাড়ীতে নারীদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, কেউ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন; কিন্তু তাঁদের হতাশা হলো কর্মক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ নেই। আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রেও হরিজনদের কাছ থেকে অর্থ চাওয়া হচ্ছে, আবার হরিজন সনদও চাওয়া হচ্ছে।
আমাদের বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যাও রয়েছে। নারীরা উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। আমরা চাই, নারী অধিকার নিয়ে গবেষণা ও উদ্যোগ শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশে বিস্তৃত হোক এবং হরিজন নারীদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
ইলিরা দেওয়ান
সাবেক সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ
হরিজন সম্প্রদায়ই আজ বিপন্নতার মধ্যে আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছেন নারীরা। নারীর অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, লাভ যতটুকুই হোক, আমাদের কথা বলে যেতে হবে। হরিজন সম্প্রদায়ের যে পঞ্চায়েত আছে, সেখানে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কতটুকু, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মিটফোর্ডের আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা বেশি হলেও পঞ্চায়েতে তাঁদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা শহর পরিচ্ছন্ন রাখেন, তাঁদের ময়লার ভাগাড়ের মতো পরিবেশে রাখা হয়েছে, এটি কষ্টের। এ বাস্তবতা পরিবর্তনে আমাদের আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।
শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নয়, হরিজন তরুণ-তরুণীদের অন্য পেশায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। এর জন্য শিক্ষা দরকার। তাঁদের একটি গণ্ডিতে আটকে রাখা যাবে না। হরিজন নারীদেরও যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ ও নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাঁদের মেধা ও সক্ষমতা বিকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
শুধু বৈঠক করে এ বৈষম্যের সমাধান হবে না। আমাদের একসঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের কথা বললে হরিজনদের প্রতি চলমান বৈষম্য ও উচ্ছেদ বন্ধে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নারীদের অধিকার ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে তাঁদের ঘরে বসিয়ে না রেখে আন্দোলনে সামনে আনতে হবে।
লিপি রহমান
নির্বাহী পরিচালক, বাদাবন সংঘ
বাদাবন সংঘ নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে। শুরুটা দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে হলেও এখন আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করছি। নারী ও কিশোরীদের অধিকার, ভূমির অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রবাসী নারীর অধিকার এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ন্যায্যতা আমাদের কাজের মূল বিষয়।
আজকের ‘হরিজন নারীর অধিকার ও কর্মপরিবেশ’ আলোচনা আমাদের ‘সোচ্চার’ প্রকল্পের অংশ। কিংডম অব দ্য নেদারল্যান্ডস ও সেভ দ্য চিলড্রেনকে ধন্যবাদ জানাই। এ প্রকল্পে নয়টি নারী নেতৃত্বাধীন সংস্থা কাজ করছে। আমরা বিভিন্ন সামাজিক পটভূমির তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কাজ করছি, যাদের ‘শিফটারস’ বলা হচ্ছে। হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের নিজেদের এলাকার সমস্যা সমাধান এবং হরিজন নারী ও কিশোরীদের অগ্রগতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরিতে আমরা পাশে আছি।
আমরা চাই, তাঁদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নিজেদের কথা বলার সুযোগ দিতে। কারণ, তাঁদের মুখ থেকে না শুনলে সমস্যার গভীরতা অনেক সময় বোঝা যায় না। হরিজন নারীদের অধিকার, বৈষম্য ও সহিংসতার পাশাপাশি মিরঞ্জিলাসহ বিভিন্ন হরিজন কলোনির মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। আজকের আলোচনায় গবেষক, বিজ্ঞজন এবং হরিজনপল্লি থেকে আসা প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরবেন। শুধু কাজ বা পড়াশোনার সুযোগ নয়, সহায়ক কর্মপরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, এ আলোচনা থেকে আমরা আগামী দিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাব।
সুলেখা ম্রং
নির্বাহী পরিচালক, আচিক মিচিক মহিলা উন্নয়ন সংস্থা
হরিজন, দলিত, গারোসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারীরা নানা বৈষম্যের শিকার। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র আমাদের ডাকে, কিন্তু অধিকার ও ভালো সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কথা মনে রাখা হয় না। নারী হিসেবে আমাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কথা বলার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও দিতে হবে। আমাদের জীবন ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে নীতিনির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মধুপুরের গড় অঞ্চলে ১৯৬২ সাল থেকে আমরা ভূমির জন্য আন্দোলন করছি। ২০০৪ সালে নারী সংগঠন গঠন করি। ২০০৭ সালে ফসল কাটা ও উচ্ছেদের সময় আমরা নারীরা শিশুদের রাস্তায় রেখে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবাদ করেছি। এভাবেই নারী সংগঠন থেকে আমরা আন্দোলন করেছি এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করেছি। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা নিজেদের কথা বলার জায়গা তৈরি করেছি এবং অধিকার আদায়ের পথ খুঁজে নিয়েছি।
এখন আমরা জমির স্বীকৃতি ও আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাই। যেকোনো প্রকল্পে দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও আমরা আরও বঞ্চিত হই। শিক্ষা, কাজ ও সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকি। আমাদের সঙ্গে বৈষম্য বন্ধ করতে হবে। সরকারের মনমানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। নারী হিসেবে আমাদের অধিকার, কাজ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সন্তানদের জন্যও শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন, আমরাও আপনাদের সঙ্গে থাকব।
রাশেদা রওনক খান
সহযোগী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
হরিজন নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে শুধু বৈষম্যের কথা বললে হবে না; তাঁদের নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। কড়াইলের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, নিজেদের অধিকার ও পরিচয়ের দাবিতে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন সম্ভব। হরিজন সম্প্রদায়ের নারীদেরও পঞ্চায়েতে প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে। আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাঁদের অংশগ্রহণ কতটুকু, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
আমি মনে করি, হরিজন নারী-পুরুষকে একটি নির্দিষ্ট পেশা ও গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে তাঁদের অন্য পেশায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। নারীদেরও নিজেদের সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো তাঁদের সেই ক্ষমতা প্রকাশের সুযোগ দেয় না।
সরকার বা এনজিও বাইরে থেকে সব পরিবর্তন করে দেবে—এমনটা ভাবলে হবে না। নিজেদের অধিকার আদায়ে নারী-পুরুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পঞ্চায়েত ও তরুণদের নেতৃত্বে নিজেদের শক্তি তৈরি করতে হবে। নারীদের ঘরে আটকে না রেখে তাঁদের সামনে আসার সুযোগ দিতে হবে।
জিনাত আরা হক
প্রধান নির্বাহী, উই ক্যান নেটওয়ার্ক
আমাদের মধ্যে যাঁরা পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন, সেটিকে ছোট কাজ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই কাজ জরুরি, তাই এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের সম্মান, অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। একইভাবে ‘পিছিয়ে পড়া’ নয়, আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়—এটিও স্পষ্টভাবে বলতে হবে।
হরিজন নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বললে সমস্যাগুলোও সুনির্দিষ্ট করতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সহিংসতার বিষয়গুলো আলাদাভাবে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কাছে যেতে হবে। শুধু এনজিওর ওপর নির্ভর করলে হবে না; রাষ্ট্রের কাছে নির্দিষ্ট দাবি জানাতে হবে। সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিন মাস্টাররোলে থাকা কর্মীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
শুধু তরুণ নারী নয়, সব বয়সী হরিজন নারীর প্রয়োজন ও অধিকার বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁদের সহিংসতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ঠিকানাকে পরিচয়ের বাধা না বানিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। গবেষণার সুপারিশগুলো আরও সুনির্দিষ্ট করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে।
বনানী বিশ্বাস
নির্বাহী পরিচালক, অভিযান
অবাঙালি দলিতদের মধ্যে হরিজন নারীরা তৃণমূল পর্যায়ের শোষিত নারী। তাঁরা এমএ, বিএ পাস করেও অন্য পেশায় যেতে পারেন না। তাঁদের মধ্যে এমন একটি মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে কবে সরকারি সুইপিংয়ের কাজ পাবেন। কারণ, পেশার সঙ্গে তাঁদের ঘরের সম্পর্ক তৈরি করে রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষিত হলেও তাঁরা অন্য পেশায় যেতে পারছেন না।
এনজিওগুলো নানা উদ্যোগ নিলেও সরকার ব্যবস্থা উন্মুক্ত না করলে হরিজন নারীদের জীবনে উত্তরণ সম্ভব নয়। আমরা দেখেছি, তাঁদের কর্মপরিবেশ ও পারিবারিক পরিবেশ দুটিই অত্যন্ত কঠিন। সরকার কিশোর-কিশোরী ও নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগে হরিজন-দলিত নারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কর্মপরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকারকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আমি জোর দিয়ে বলব, সরকার এগিয়ে আসুক, দেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি হোক এবং হরিজন নারীরা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাক।
রুমা সুলতানা
কোঅর্ডিনেটর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
প্রজননস্বাস্থ্য, আবাসন, শিক্ষা, সরকারি সেবা ও বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়েছে। হরিজনপল্লির নারীরা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঘিঞ্জি পরিবেশে জীবন যাপন করছেন। নারীদের প্রতি সহিংসতা ও পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রেও তাঁদের যাওয়ার জায়গা সীমিত। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুরুষশাসিত হওয়ায় সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ নেই। ফলে নির্যাতন বা সহিংসতার শিকার হলে বিচার পাওয়ার পথও তাঁদের জন্য সহজ নয়।
আমরা যাঁরা নারী অধিকার নিয়ে কাজ করি, তাঁরাও বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। হরিজন নারী ও কিশোরীরা আরও বেশি বৈষম্যের মুখোমুখি। হরিজন সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করলেও সমস্যার সমাধান তেমন দৃশ্যমান নয়। তাই আজকের আলোচনায় নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। তাঁদের কাছে এসব সমস্যা ও সুপারিশ সরাসরি তুলে ধরা দরকার। পাশাপাশি যার যার ক্ষেত্র থেকে হরিজন নারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করতে হবে।
পারমিতা দাশ
টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ
একবিংশ শতাব্দীতে এসেও একটি জনগোষ্ঠীকে শুধু ভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতির কারণে মৌলিক অধিকার নিয়ে লড়তে হচ্ছে—এটি আমাদের জন্য সুখকর নয়। হরিজন নারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও গভীর। গবেষণায় উঠে আসা ‘বঞ্চনার মধ্যেও বঞ্চনা’ বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছে। তাঁরা বাইরের বৈষম্যের পাশাপাশি নিজেদের কমিউনিটির ভেতর থেকেও নানা বাধার মুখোমুখি হন।
বাদাবন সংঘের তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ছোটবেলা থেকেই তাঁদের মনে গেঁথে দেওয়া হয় যে টিকে থাকতে হলে সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ পেতে হবে। ফলে মেধাবী হয়েও বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ সীমিত। মাথার ওপর ছাদ থাকবে কি না, উচ্ছেদের আশঙ্কা থাকবে কি না—এসব চিন্তার মধ্যে অন্য পেশায় যাওয়ার কথা ভাবাটাই তাঁদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়।
পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। তাই অভ্যন্তরীণ ও কাঠামোগত বাধা দ্রুত ভাঙতে হবে। গ্রাসরুটের সংগঠনগুলো হরিজন নারীদের পাশে থেকে যে কাজ করছে, তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
মো. রহমত উল্লাহ
গবেষক ও শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজ
বাদাবন সংঘের সহায়তায় মিরঞ্জিল্লা হরিজন কমিউনিটিতে করা গবেষণায় তরুণী ও কিশোরীদের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেছি। গবেষণায় দেখেছি, বৈষম্য আগের মতো দৃশ্যমান না হলেও কাঠামোর মধ্যেই তা রয়ে গেছে। কাজের সুযোগ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, আবাসন, শিক্ষা, স্যানিটেশন, চলাফেরার স্বাধীনতা, সেবা পাওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা পিছিয়ে আছেন।
ছোট ঘরে অতিরিক্ত মানুষের বসবাস, অনিরাপদ শৌচাগার, অনিয়মিত পানি ও ঋতুস্রাব ব্যবস্থাপনার অসুবিধা তাঁদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অতিরিক্ত জনাকীর্ণতা, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা, প্রজননস্বাস্থ্যের সিদ্ধান্তে সীমিত অধিকার এবং পুরুষশাসিত অনানুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা নারীদের সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আবার সম্মান, লজ্জা ও লোকনিন্দার ভয়ে তাঁরা অনেক সময় নির্যাতনের কথা বলেন না।
তাই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছ নিয়োগ, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি কমিটি ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে নারী ও তরুণীদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের শুধু কর্মসূচির সুবিধাভোগী নয়, নীতি প্রণয়ন ও পর্যবেক্ষণে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রিয়াংসু কুমার
তরুণ (হরিজন কমিউনিটি)
আমি প্রিয়াংশু কুমার। আমি হরিজন কলোনির একজন ছেলে এবং বাদাবনের একজন শিফটার। আমাকে এই মঞ্চে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের কাজ হলো হরিজন শিফটার হিসেবে সমাজের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা এবং প্রতিটি বিষয় সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
হরিজন নারীদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বলতে চাই, আমাদের সমাজ এমনিতেই বঞ্চিত, আর নারীরা আরও বেশি বঞ্চনার শিকার। ছোট মেয়ে থেকে বড়—স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে বাইরে চাকরি করা পর্যন্ত নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার থেকেই তাদের ওপর চাপ তৈরি হয়। আমি চাই, সবার মানসিকতা বদলাক। হরিজন নারী হোক বা অন্য কোনো নারী, তারা বাইরে কোনো কাজে গেলে তাদের খারাপ দৃষ্টিতে দেখা বা অবহেলা করা যাবে না। ‘তুমি তো মেয়ে, তুমি কিছু করতে পারবে না’—এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিতে হবে। আমরাও মানুষ, আমরাও এগিয়ে যেতে পারি, নারীরাও পারেন। শুধু মুখে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বললে হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি।
নাজমুন নাহার
ইয়ুথ মেন্টর, বাদাবন সংঘ
আমরা শিফটারদের নিয়ে কাজ করছি। তবে ‘ভালনারেবল’ আসলে সবাই। আমি নিজেও রাতে বের হতে ভয় পাই—শুধু নারী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও। নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের ঘরের দিকে তাকাতে হবে। ঘরের নারীরা কি অধিকার পাচ্ছেন? জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা কি নেই? রাজশাহী হরিজন কমিউনিটিতে কাজ করার সময় নারীদের ওপর সহিংসতার ভয়াবহতা দেখেছি। তাই নারীর অধিকার নিশ্চিত করার শুরুটা ঘর থেকেই করতে হবে। নারীর অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আমরা সাড়ে ২৯ বছর ধরে কাজ করছি। বাংলাদেশের মতো পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এমনভাবে আলাদা করে রাখার চিত্র অন্য কোথাও দেখিনি। আফগানিস্তানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মান করা হয়। জাপানেও অবসর নেওয়া মানুষ পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত হন এবং ভালো আয় করেন। অথচ আমাদের দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবস্থান ভিন্ন। নারীরা ঘরে-বাইরে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করেন। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
ফারিহা জেসমিন
হেড অফ প্রোগ্রাম, বাদাবন সংঘ
শিক্ষা, স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে হরিজন কমিউনিটি কী ধরনের দৃশ্যমান, অদৃশ্য ও কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, আমরা তা দেখছি। শিফটার মূলত পরিবর্তনকর্মী। হরিজন কমিউনিটির ২০ জন তরুণ পরিবর্তনকর্মী বিভিন্ন সমস্যা, সচেতনতা, অধিকার নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলতে হবে, তা তুলে ধরছেন।
শিফটারদের মধ্যে কিশোরীরাও আছে। তারা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক এবং পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে কমিউনিটিতে সচেতনতা তৈরি করছে। এ গবেষণায় তারাই সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত ছিল এবং গবেষণার মধ্য দিয়েই নিজেদের ও কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সুপারিশ দিয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েতে নারীর অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও তারা জোরালোভাবে তুলে ধরছে। তারা কমিউনিটির নারীদের অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে আনছে। বাদাবন সংঘের এই শিফটাররাই গবেষণা ও হরিজন কমিউনিটির অধিকার নিশ্চিতকরণে কাজ করছে।
সুপারিশ:
হরিজন নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
পঞ্চায়েতসহ স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে হরিজন নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
হরিজন নারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
শিক্ষা, স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদ্যমান দৃশ্যমান, অদৃশ্য ও কাঠামোগত বৈষম্য চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।
হরিজন তরুণ-তরুণীদের পরিবর্তনকর্মী হিসেবে আরও সক্রিয় করে অধিকার ও বৈষম্যের বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে।
অংশগ্রহণকারী:
কৃষ্ণ লাল, সাবেক সভাপতি, সাবেক বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ। লেবু বাসফোর, সভাপতি, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ। সনু রানী দাস, নির্বাহী পরিচালক, দলিত নারী উন্নয়ন সংস্থা। বিমল ডোম, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ। ইলিরা দেওয়ান, সাবেক সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ। লিপি রহমান, নির্বাহী পরিচালক, বাদাবন সংঘ। সুলেখা ম্রং, নির্বাহী পরিচালক, আচিক মিচিক মহিলা উন্নয়ন সংস্থা। রাশেদা রওনক খান, সহযোগী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জিনাত আরা হক, প্রধান নির্বাহী, উই ক্যান নেটওয়ার্ক। বনানী বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক, অভিযান। রুমা সুলতানা, কোঅর্ডিনেটর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। পারমিতা দাশ, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ। মো. রহমত উল্লাহ, গবেষক ও শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজ। প্রিয়াংশু কুমার, তরুণ (হরিজন কমিউনিটি)। নাজমুন নাহার, ইয়ুথ মেন্টর, বাদাবন সংঘ। ফারিহা জেসমিন, হেড অব প্রোগ্রাম, বাদাবন সংঘ। সঞ্চালনা: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো.