বাবা সাইফের হামলাকারীকে কেন ক্ষমা করে দিতে বলেছিল ছোট্ট তৈমুর, কোমলহৃদয় পুত্রের কথা নিজেই জানালেন নবাবপত্নী
· Prothom Alo

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে কারিনা বলেন, আমার ছেলে তৈমুর ও স্বামী সাইফ—দুজনেই মনে করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। আসলে তৈমুরই সাইফকে বলেছিল, “আব্বা, তাকে ক্ষমা করে দাও।”
হাল ফ্যাশন ডেস্ক
২০২৫ সালের জানুয়ারি। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সাইফ আলী খান। গুরুতর সেই ঘটনার পর পরিবারটির জীবনে নেমে এসেছিল উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা। কিন্তু সেই কঠিন সময়েও পরিবারে উঠে এসেছিল ক্ষমার কথা। কারিনা কাপুর জানিয়েছেন, সাইফকে হামলাকারীকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছিল তাঁদের ছেলে তৈমুর।
Visit bettingx.bond for more information.
আসলে তৈমুরই সাইফকে বলেছিল, “আব্বা, তাকে ক্ষমা করে দাও।”সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুরের বড় ছেলে তৈমুরবারখা দত্তের ইউটিউব চ্যানেল ‘মোজো স্টোরি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারিনা বলেন, সবার কাছে ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা এক নয়। আমার ছেলে তৈমুর ও স্বামী সাইফ—দুজনেই মনে করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। আসলে তৈমুরই সাইফকে বলেছিল, “আব্বা, তাকে ক্ষমা করে দাও।”
কেন ক্ষমা করতে বলেছিল তৈমুর?
কারিনা জানান, পুলিশ পরিবারের সদস্যদের বলেছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্থের সন্ধানে ওই বাড়িতে ঢুকেছিল। বাচ্চাদের ন্যানিকেও সে জানিয়েছিল, তার এক কোটি রুপি প্রয়োজন। মায়ের অস্ত্রোপচারের জন্য সেই টাকা দরকার ছিল বলে সে দাবি করেছিল।
হামলাকারীর জন্যও দয়ার্দ্র হয়ে উঠেছে কোমলহৃদয় তৈমুরের মনএই তথ্য জানার পরই তৈমুর বাবাকে ক্ষমা করার কথা বলে। কারিনার ভাষায়, ‘আমরা ভাবছিলাম, পরিস্থিতি যদি এভাবে তৈরি না হতো, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। তখনই তৈমুর বলেছিল, “তাকে ক্ষমা করে দাও।”’
সাইফের কষ্টও ছিল
তৈমুর ক্ষমার কথা বললেও কারিনা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ওই ঘটনায় সাইফকে শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই তাঁর কাছে ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি সহজ ছিল না।
কারিনা বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, সাইফ কষ্ট পেয়েছে। তাহলে এর ন্যায়বিচার কীভাবে হবে? এত দিন ধরে যে কষ্ট আমি অনুভব করেছি, তার কী হবে? বিষয়টি অবশ্যই খুব জটিল।’ ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ভোরে বান্দ্রার বাড়িতে এক অনুপ্রবেশকারী ঢোকার পর সাইফকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আঘাতসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর ক্ষতের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করা হয়। কয়েক দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।
হামলাকারীকে ক্ষমা করতে চেয়েছিলেন সাইফও
এর আগে বারখা দত্তের সঙ্গে কথোপকথনে সাইফও জানিয়েছিলেন, তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা করতে চান। তাঁর ভাষায়, লোকটি ‘বড় একটি ভুল’ করেছে এবং সম্ভবত হত্যা করার উদ্দেশ্যে সেখানে যায়নি।
সাইফ বলেন, ‘আমি ওই লোকটিকেও ক্ষমা করতে চাই। কারণ আমার মনে হয়, সে বড় একটি ভুল করেছে। আমার মনে হয় না, সে আসলে হত্যা করতে এসেছিল। সম্ভবত আমারই উচিত ছিল তার ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়া। আমি হয়তো তার সঙ্গে কথা বলে তাকে বোঝাতে পারতাম। এখন সম্ভবত তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হবে। আমি তাকে ক্ষমা করতে পারলে খুশি হব।’
সাইফ নিজেও ক্ষমা করতে চেয়েছেন হামলাকারীকে। বাবার কাছ থেকেই এমন দয়ালু হয়েছে তৈমুরঘটনাটিকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখেন সাইফ। তাঁর ধারণা, আর্থিক সংকট ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। সাইফ বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি আসলে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। যা ঘটেছে, তা অবশ্যই অন্যায়। আমার মনে হয়, সে হয়তো খাবার বা কিছু টাকা পাওয়ার চেষ্টা করছিল।’ সম্প্রতি ‘বম্বে টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও একই প্রসঙ্গ তুলেছেন সাইফ। তিনি বলেন, অর্থের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা ওই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর বয়ানে, ‘বৈষম্যের কারণেই এসব ঘটনা ঘটে। কেউ যখন টাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমার মনে হয় না, সে কোথায় ছিল বা কী করছিল, তা সে বুঝতে পেরেছিল। বুঝতে পারলে এমনটা ঘটত না। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক,’ বলেন সাইফ।
নিজের আঘাতের ভয়াবহতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিছু সময়ের জন্য আমার পায়ে কোনো অনুভূতিই ছিল না। ছুরিটি আমার মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে আঘাত করেছিল, তবে তা কেটে যায়নি।’
View this post on Instagram
এখনো পুরোপুরি কাটেনি সেই ভয়
ঘটনার পর পরিবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও সেই রাতের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি মুছে যায়নি সাইফের মন থেকে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল আমার স্ত্রীর ওপর। তিনি সাধারণত খুবই সংবেদনশীল মানুষ। আমরা মোটামুটি দ্রুতই বিষয়টি কাটিয়ে উঠেছিলাম। যদিও ঘটনাটি ছিল ভয়ংকর। কিন্তু আমি এখনো পুরোপুরি তা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। কারণ কোনো ছুরি দেখলেই আমার মধ্যে একটা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।’ হামলার কয়েক দিন পর অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শেখজাদকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
ছবি: ইন্সটাগ্রাম