কেমন কাটল জহির রায়হানের ‘বেহুলা’র জন্মদিন

· Prothom Alo

সাধারণত জন্মদিনে বছরের অন্য দিনের চেয়ে বেশি ফোনকল আসে। অনেকে খুদে বার্তাও পাঠায়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী কোহিনূর আক্তার সুচন্দার ক্ষেত্রে। আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, এবারের জন্মদিন তাঁর কাছে একটু বেশিই ব্যতিক্রমী। গতকাল মধ্যরাত থেকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করছেন পরিচিতজনেরা। অনেকে মেসেজ পাঠাচ্ছেন। সেসবের উত্তর দিতে দিতেই কেটে যাচ্ছে সময়। আবার ফেসবুকে ভক্তরা তাঁর অভিনীত পুরোনো সিনেমার দৃশ্য কেটে, বিভিন্ন ক্লিপ জুড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন—এসবও তাঁর নজরে এসেছে।

কোহিনূর আক্তার সুচন্দা

‘এবারের জন্মদিনটা বেশ ব্যতিক্রম কাটছে’ বললেন সুচন্দা। সময়ের সঙ্গে অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেও মানুষের ভালোবাসা যে একটুও কমেনি, জন্মদিনে আবারও সেটি টের পাচ্ছেন বলে জানালেন সুচন্দা।

Visit betsport.cv for more information.

১৯৪৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে সাতক্ষীরায় জন্ম সুচন্দার। শৈশব যশোরে, তারপর ঢাকায় এসে চলচ্চিত্রে কাজের শুরু। সরকারি চাকরিজীবী বাবা এ এস এম নিজামুদ্দিন আতাইয়ুব ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মা বেগম জাহানারার পরিবারে বড় হয়েছেন তিনি। যশোরের মোমেন গার্লস স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অভিনয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। একবার ‘শকুন্তলা’ চরিত্রে অভিনয়ের পর শহরের মানুষ তাঁকে নাম ধরে নয়, ‘শকুন্তলা’ বলেই ডাকত। চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম সুযোগ আসে পরিচালক কাজী খালেকের মাধ্যমে। পরে পরিচালক সুভাষ দত্ত ‘কাগজের নৌকা’ ছবির জন্য তাঁকে নির্বাচন করেন। প্রথম সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উনি আমাকে দেখে প্রথমেই বললেন, “তোমার এত বড় বড় নখ তো রাখা চলবে না”।’

প্রখ্যাত অভিনেত্রী কোহিনূর আক্তার সুচন্দার শৈশব কেটেছে যশোরে

এরপর জহির রায়হানের ‘বেহুলা’। সেই ছবির শুটিং থেকেই তাঁদের সম্পর্কের শুরু। সুচন্দার মতে, ‘ওনাকে যতটা না আমার ভালো লেগেছে, তার থেকে ওনার কর্মটা দেখে আমি ওনার প্রেমে পড়ে গেছি।’

জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সুচন্দাকে নিয়ে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। সেই ছবিতে রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি হয়ে ওঠেন সময়ের আলোচিত নায়িকা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘আনোয়ারা’, ‘জুলেখা’, ‘দুই ভাই’, ‘সংসার’, ‘কুঁচবরণ কন্যা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’সহ বেশ কিছু ছবিতে রাজ্জাকের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। একই সময়ে জহির রায়হানের পরিচালনাতেও একাধিক ছবিতে কাজ করেন। সুচন্দার মতে, জহির ছিলেন শুধু পরিচালক নন—ক্যামেরা, সম্পাদনা, চিত্রনাট্যসহ সিনেমার নানা কাজেই তাঁর ছিল অসাধারণ দক্ষতা।

চলচ্চিত্রের এই পথেই সুচন্দার ব্যক্তিজীবনের গল্পও জড়িয়ে যায় জহির রায়হানের সঙ্গে। ১৯৬৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, নিজের জন্মদিনেই জহির রায়হানকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়েটিও হয়েছিল অনেকটা গোপনে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁদের দাম্পত্যজীবনে দুই ছেলে—আরাফাত রায়হান অপু ও তপু রায়হান।

যশোর বেড়ানোর এক ফাঁকে ববিতা, সুচন্দা ও চম্পা

সুচন্দার অভিনয়জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নির্মাণ। জহির রায়হানের কাছ থেকেই পরিচালনার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তিনি। পরে নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর নির্মিত ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতিও পেয়েছেন। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারও পেয়েছেন নির্মাতা সুচন্দা।

তবে এত বছর পরও তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন দর্শকের ভালোবাসা। প্রথম আলোকে সুচন্দা বলেছিলেন, দর্শকেরাই তাঁকে ‘কোহিনূর আক্তার থেকে সুচন্দা’ বানিয়েছেন। সেই দর্শকেরাই আজ জন্মদিনে আবার পুরোনো সিনেমার দৃশ্য, ছবি ও স্মৃতি নিয়ে হাজির হচ্ছেন তাঁর কাছে।

Read full story at source