অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সময় স্ক্রিনে শেখ হাসিনার ছবি, দুই শিক্ষককে শোকজ
· Prothom Alo

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
Visit catcrossgame.com for more information.
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে তাঁদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে ইউটিউব থেকে নেওয়া একটি ভিডিও চলছিল। ভিডিওটির শেষ দিকে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর ভিডিওটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের আগে ভিডিওটি পুরোটা চালিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। এ কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, অনুষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যানার ও ভিডিও তদারকির দায়িত্বে একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ইউটিউব থেকে বেশি দেখা জাতীয় সংগীতের একটি ভিডিও ডাউনলোড করেছিলেন। ভিডিওটির শেষ ১০ সেকেন্ডে শেখ হাসিনার ছবি ছিল, যা ওই শিক্ষার্থী আগে খেয়াল করেননি। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অডিওতে জাতীয় সংগীত বাজানো হতো। এবার ডিজিটাল স্ক্রিন থাকায় দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষার্থী ইউটিউব থেকে ভিডিওটি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বাজানোর আগে সেটি পুরোটা চালিয়ে দেখা হয়নি। ভিডিওর শেষে এমন কিছু থাকবে, তা কারও জানা ছিল না।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হাছান উদ্দীন বলেন, আয়োজকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের শেষ ১০ সেকেন্ডে ছবিটি দেখা যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগের চেয়ারম্যান ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়কের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তাঁরা ভুল স্বীকার করে এটিকে অনিচ্ছাকৃত ঘটনা বলেছেন।
অধ্যাপক হাছান উদ্দীন বলেন, অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক হওয়ায় এতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিজ্ঞানীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁদের কাছে বিব্রত হতে হয়েছে।