আমীরুল ইসলাম: বাংলা শিশুসাহিত্যের ঋদ্ধিমান সন্তান
· Prothom Alo

আমীরুল ইসলাম (১৯৬৪—২০২৬) আধুনিক বাংলা শিশুসাহিত্যের এক গুণী কারিগর। আশির দশকে ছড়া রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করা এই ছড়াকার ঐতিহ্যবাহী লোকজ ছড়ার ছন্দ ও কাঠামোর সঙ্গে আধুনিক নাগরিক জীবনের রূপকল্প যুক্ত করে বাংলা ছড়াসাহিত্যকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছেন। তাঁর ছড়ার মূল শক্তি হলো নিপুণ ছন্দজ্ঞান, সহজ-সরল ভাষা, অনাবিল রসবোধ এবং চমৎকার আত্মব্যঙ্গ। শিশু-কিশোরদের মনস্তত্ত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে তিনি যেমন প্রকৃতি, রূপকথা ও পশুপাখি নিয়ে লিখেছেন, তেমনি সমাজসচেতনতা, কৌতুক ও চমৎকার শ্লেষাত্মক চমক নিয়ে অজস্র ছড়া উপহার দিয়েছেন। শেষের দিকে তিনি ছন্দহীন বেশ কিছু ছড়া লিখলেও তা কেবল গদ্যছড়া প্রচলনের উদ্যোগ হিসেবে থাকবে। তাঁর ছড়াসাহিত্যের বিশাল অবদানের কাছে ম্লান। তিন শতাধিক গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বাংলা শিশুসাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। আমরা তাঁর কয়েকটি ছড়া নিয়ে আলাপ করতে পারি।
Visit playerbros.org for more information.
ছড়াকার আমীরুল ইসলামের ‘মা’ শীর্ষক ছড়াটি বাংলা শিশুসাহিত্যের এক অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও আবেগময় সৃষ্টি। ছড়াটিতে মাতৃস্নেহ, নির্ভরতা এবং কবির জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ে মায়ের উপস্থিতি অমলিন শ্রদ্ধায় চিত্রিত হয়েছে। ছড়াটি এমন—
‘যখন আমার চতুর্দিকে
জ্বলে বিষের আগুন,
কৃষ্ণচূড়ার লালে লালে
যখন আসে ফাগুন।
তখন মায়ের মুখ,
দেয় ভরিয়ে বুক।’
ছড়ার শুরুতে দেখা যায়, পৃথিবীর নানা প্রতিকূলতা, ঘৃণা বা বিষময় পরিস্থিতির মধ্যে মায়ের স্নেহচ্ছায়াই কবির একমাত্র ভরসা। ‘কৃষ্ণচূড়ার লালে লালে যখন আসে ফাগুন’ কিংবা ‘চতুর্দিকে জ্বলে বিষের আগুন’, এমন তীব্র বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মায়ের মুখ স্মরণে কবির হৃদয়ে এক অনন্য শক্তি ও বুকভরা সাহস সঞ্চারিত হয়। কবি সুন্দর এক রূপকের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন, ‘মা মানে তো মাতা/ মাথার ওপর ছাতা’ এবং ‘ভালোবাসার বাড়ি’। এই ছড়ায় মানবিক জীবনবোধের একটি বিশেষ শিক্ষাও ফুটে উঠেছে। যখন কবি নীল হতাশায় কিংবা কষ্টের সাগরে নিমজ্জিত হন, তখন মায়ের নিখাদ ভালোবাসা ও কোলে জড়িয়ে নেওয়ার স্মৃতি তাঁকে সান্ত্বনা দেয়। এমনকি সমাজের নানা আঘাত বা অন্যায়ে চুপ থাকার যে পরম ধৈর্য, তা–ও মায়ের কাছ থেকেই শেখা। মাকে তিনি দেবীর উপমায় কল্পনা করেছেন।
‘মা তো আমার দেবীর মতো
নীল আকাশের পরী—
যখন ছড়া হয় না লেখা
মাকে স্মরণ করি।’
সর্বশেষ চরণে আমীরুল ইসলাম তাঁর কাব্যাশ্রয় হিসেবেও মাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কবি যখন সৃষ্টিশীলতার সংকটে পড়েন বা ছড়া লিখতে পারেন না, তখনো তিনি মায়ের স্মরণেই শক্তি খুঁজে পান। সহজ-সরল ভাষা, নিপুণ স্বরবৃত্ত ছন্দ ও মিলবিন্যাসের মধ্য দিয়ে ছড়াটি মাতৃপ্রেমের এক চিরন্তন প্রামাণ্য দলিল হয়ে উঠেছে।
শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামআমীরুল ইসলামের রচিত ‘ছড়া’ নামের একটি ছড়ায় সমাজের ভণ্ডামি ও কপটতার প্রতি এক তীক্ষ্ণ ও রসাত্মক ব্যঙ্গ প্রতিফলিত হয়েছে। কবি এখানে স্বকীয় রসিকতা ও আত্মব্যঙ্গের মোড়কে সাধারণ মানুষের চারিত্রিক অসংগতিকে উন্মোচিত করেছেন। বাহ্যিক সুস্বাস্থ্য বা ‘শরীর-মোটা তাজা’ অবয়বের পেছনে যে মিথ্যাচার, ছলনা ও প্রতারণার স্বরূপ লুকিয়ে থাকে, তা অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় ও ছন্দময় মিলবিন্যাসে ফুটে উঠেছে। ছড়াটির মূল শক্তি এর স্পষ্টবাদিতা ও সামাজিক ব্যাধির প্রতি তীব্র শ্লেষ, যা পাঠককে হাসানোর পাশাপাশি আত্মোপলব্ধি ও নৈতিক ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করে। ছড়াটি পড়া যেতে পারে।
‘আমরা সবাই মিথ্যা কথার রাজা
শরীর-মোটা তাজা।
আমরা সবাই ভণ্ড প্রতারক
সহজ কথায় ঠক।’
আমীরুল ইসলামের ‘বই’ নামের একটি ছড়ায় সংগ্রাহকের গ্রন্থপ্রীতি এবং ইঁদুরের বাস্তব তাণ্ডবকে অত্যন্ত রসময় ও রসাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কবি একদিকে শখ করে দামি দামি বই সংগ্রহ করে ঘরে সাজিয়ে রাখেন, যা তাঁর বইয়ের প্রতি গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে সেই পরম যত্নে জমানো বইগুলো ঘরের ইঁদুরছানারা খাদ্য বা ‘বিস্কুট’ মনে করে কেটে কুচিকুচি করে ফেলে। কবির গ্রন্থপ্রীতির বিপরীতে ইঁদুরের এই স্বভাবসুলভ উপদ্রব অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষা, হাস্যরস এবং ‘কাটুর কুটুর কুট’ ধ্বন্যাত্মক শব্দের ব্যবহারে চমৎকারভাবে রূপায়িত হয়েছে। এটি একাধারে কৌতুকপ্রদ এবং বইপ্রেমীদের বহুল পরিচিত এক করুণ অথচ রসময় অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।
‘দামি দামি বই কিনেছি
করেছি সংগ্রহ
আর কিছু নয়, আর কিছু নয়,
বইয়ের প্রতি মোহ।
ঘরে অনেক ইঁদুরছানা
কাটুর কুটুর কুট
বইয়ের প্রতি মোহ তাদের
বই যেন বিস্কুট!’
আমীরুল ইসলামের আত্মব্যঙ্গাত্মক বা স্বকীয় ‘আমীরুল’ ছড়াটি তাঁর কবিস্বভাব ও জীবনের নির্মোহ পর্যালোচনার এক চমৎকার উদাহরণ। নিজেকে নিয়ে কৌতুক করা ও শ্লেষাত্মক মন্তব্য ছুড়ে দেওয়া বাংলা ছড়াসাহিত্যে খুব বেশি দেখা যায় না, যা আমীরুল ইসলাম অত্যন্ত নিখুঁত ও প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন।
ছড়াটিতে কবি নিজের ভবঘুরেপনা, ছন্নছাড়া জীবনযাপন এবং অনিয়মকে কোনো প্রকার আড়াল না করে সরাসরি খতিয়ে দেখেছেন। সংসারের বাঁধন এড়িয়ে চলা, প্রাত্যহিক ফুর্তি ও উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ানোকে তিনি মৃদু ভর্ৎসনা ও রসিকতার মোড়কে তুলে ধরেছেন। ‘আমীরুল কথা শোন, আর কত ঘুরবি/ কতোদিন ডালে ডালে ঘুরে ঘুরে উড়বি?/ নিজের আগুনে তুই কতো আর পুড়বি?’ কিংবা ‘টাকা যদি থাকে তবে আকাশেতে উড়তি/ সংসার করলে না, যেন এক মূর্তি/ প্রতিক্ষণ প্রতিদিন করে গেলে ফূর্তি’, এমন কথ্যভঙ্গি ও অনায়াস মিলবিন্যাসে তাঁর জীবনের অন্তর্নিহিত ক্লান্তি ও আক্ষেপ কৌতুকপ্রদভাবে উন্মোচিত হয়েছে। নিজের সময় ও জীবনের ক্ষয়কে অতি সহজের সঙ্গে মেনে নিয়ে তা নিয়ে ছড়া বাঁধার এই দুর্লভ ক্ষমতা তাঁর রসময় ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়। প্রাঞ্জল ভাষা ও ছন্দের গতিতে এই ছড়া আত্মবিশ্লেষণের পাশাপাশি পাঠকের মুখে অনাবিল হাসি ফোটাতে দারুণভাবে সফল। এই আত্মজৈবনিক ছড়ায় তিনি কেবল নিজের আত্মকেন্দ্রিক জীবনের প্রতি ব্যঙ্গ ছড়াননি, বরং একজন শিল্পীর অন্তর্দাহ ও একাকিত্বকেও উন্মোচন করেছেন। সংসারী না হওয়ার সিদ্ধান্ত কিংবা জীবনের অপচয়ের অনুভূতিকে হালকা চালের চপল ছন্দে ফুটিয়ে তুলে তিনি পাঠককে এক গভীর জীবনের মুখোমুখি দাঁড় করান। বাহ্যিক ফুর্তি ও ভবঘুরে স্বভাবের পেছনে যে এক ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষের বিলাপ লুকিয়ে আছে, তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রসাত্মক আবহে রূপায়িত হয়েছে। ফলে ছড়াটি নিছক আত্মব্যঙ্গ না হয়ে একজন সাহিত্যিকের জীবনদর্শনেরও প্রামাণ্য দলিল হয়ে উঠেছে।
আমীরুল ইসলামআমীরুল ইসলামের ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তিতে’ শীর্ষক একটি চপল ও রসাত্মক ছড়াটিতে সাহিত্যিক স্বীকৃতি এবং তার বাস্তব জীবনমূল্যের মধ্যবর্তী ব্যবধানকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ আত্মব্যঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখক বা কবিদের জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার অর্জন এক মহতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রাত্যহিক জীবনের কঠোর বাস্তবতার সামনে তা কতটা অকার্যকর বা মূল্যহীন হয়ে পড়ে, ছড়াটিতে কবি পরম সাহসিকতায় সেই শ্লেষকে প্রকাশ করেছেন।
‘পুরস্কার পাওয়ার পরে/ বুঝতে পারি হায় রে/ এর তো কোনো মূল্যই নাই/ দিন চলে যায় যায় রে!’ এই অনায়াস ও প্রাঞ্জল পঙ্ক্তিগুলোতে আক্ষেপের চেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে নির্ভেজাল রসবোধ ও সামাজিক বাস্তবতা। জীবনের স্বাভাবিক গতি ও বৈষয়িক চাহিদার কাছে ক্ষণিকের সম্মাননা যে দৈনন্দিন সংকট কাটাতে পারে না, সেই সত্য তিনি নিজের প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে কৌতুকের মোড়কে পরিবেশন করেছেন। স্বরবৃত্ত ছন্দের চপল চাল ও চমৎকার মিলবিন্যাসে রচিত সংক্ষিপ্ত ছড়াটি বাংলা সাহিত্যের পুরস্কারকেন্দ্রিক মানসিকতার প্রতিও এক সূক্ষ্ম অথচ গভীর শ্লেষাত্মক মন্তব্য। এরপর তিনি লেখেন,
‘মহাকালের গর্ভে আমার
কী বা এমন মূল্য?
কেউ পড়ে না লেখা, আমার
জীবদ্দশায় ভুলল।’
এই চার চরণে একজন লেখকের চরম বিনয়, আত্মোপলব্ধি ও নির্মোহ আত্মমূল্যায়ন ফুটে উঠেছে। সাহিত্যের সুবিশাল ক্যানভাসে নিজেকে অতি সামান্য ও নশ্বর হিসেবে উপস্থাপন করা কবিদের এক দুর্লভ গুণ, যা এই সংক্ষেপিত ছড়ায় অত্যন্ত নিপুণভাবে প্রকাশ পেয়েছে। মহাকালের অসীম ব্যাপ্তির সামনে নিজের সৃষ্টিশীলতার স্থায়িত্ব নিয়ে কবি সন্দিহান। জীবদ্দশাতেই পাঠকদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ না পাওয়ার কিংবা বিস্মৃত হওয়ার যে নীরব কষ্ট, তা তিনি কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভের কণ্ঠে নয়, বরং পরম বিনয় ও সহজ স্বীকারোক্তির মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন। ‘জীবদ্দশায় ভুলল’ চরণটিতে একধরনের মৃদু আক্ষেপ থাকলেও তার অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে এক প্রাজ্ঞ ও নির্লোভ শিল্পীসত্তা। স্বরবৃত্ত ছন্দের সহজ চাল ও নিখুঁত অন্তমিলে রচিত এই ছড়া প্রকাশ করে যে যশ-খ্যাতির মোহ পেরিয়ে একজন খাঁটি সাহিত্যিক কীভাবে নিজের কাজকে মহাকালের বিচারে সঁপে দেন। ছড়াটি আত্মবিশ্লেষণের পাশাপাশি চিরন্তন সাহিত্যভাবনার এক চমৎকার রূপক।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের মতো সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়ে আমীরুল ইসলাম আন্তরিকভাবেই আনন্দিত হয়েছিলেন, কিন্তু নিজের সৃষ্টিশীলতা ও সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সদা বিনয়ী। পুরস্কারপ্রাপ্তির উচ্ছ্বাসকে তিনি কোনো অহংকারে রূপ নিতে দেননি; বরং স্বকীয় রসবোধ ও আত্মব্যঙ্গের মোড়কে তা প্রকাশ করেছেন এই ছড়ায়।
‘পুরস্কার পাওয়ার পরে/ বুঝছো ভায়া বুঝছো/ বুঝতে পারি আমার লেখা/ তুচ্ছ অতি তুচ্ছ’, এই চপল চরণের মাধ্যমে কবি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির মহিমাকে অতি সহজে হালকা করে দিয়েছেন। এটি কেবল কৌতুক নয়, বরং একজন খাঁটি সাহিত্যিকের নির্মোহ আত্মোপলব্ধি। জীবনের পথচলায় বড় কোনো পদক বা পুরস্কার পেলেও নিজের সৃষ্টি যে মহাকালের বিচারে কতটা ক্ষুদ্র ও নগণ্য হতে পারে, সেই গভীর বোধই তিনি চটুল ছন্দে তুলে ধরেছেন।
সহজ কথ্যভঙ্গি ও নিখুঁত অন্তমিলে রচিত এই চার চরণে ফুটে উঠেছে তাঁর চিরচেনা বিনয়। পরম প্রাপ্তির ক্ষণেও নিজেকে এত সহজ ও হালকা চালে বিচার করার এই অনায়াস ক্ষমতা আমীরুল ইসলামকে অন্য ছড়াকারদের থেকে আলাদা ও অনন্য করে তুলেছে।
কিছুদিন আগে ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া চলে গেছেন। সান্ত্বনা নিয়েছি এই ভেবে যে আমাদের মাঝে লুৎফর রহমান রিটন আছেন, আরও আছেন আখতার হুসেন, ফারুক নওয়াজ, রহীম শাহ, সুজন বড়ুয়া, আসলাম সানী, আনজীর লিটন, আমীরুলই ইসলাম। সেখান থেকে অকালেই চলে গেলেন ছড়াকার আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন কালব্যাধিতে ভুগেও তাঁকে পিছিয়ে থাকতে দেখিনি। দুহাতে লিখেছেন, চ্যানেল আই সামলেছেন, আড্ডায় গেছেন, অনুষ্ঠানে গেছেন, সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এত প্রাণবন্ত মানুষকে আর পাব কই? অনেকেই তো মরার আগেই মৃতবৎ বেঁচে আছেন। আর আমীরুল ইসলাম মরে গিয়েও বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। বাংলা শিশুসাহিত্য তার এই অকালপ্রয়াত ঋদ্ধিমান সন্তানকে বুকে তুলে রাখবে চিরকাল।