তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে

· Prothom Alo

তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা, সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করা এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার প্রচলিত আইন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের আইনি ব্যবস্থা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।

Visit mchezo.life for more information.

আজ বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে আলোচকেরা এই কথাগুলো বলেন। আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার যে বিধান রাখা আছে, সেটি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক স্টিগমা (কলঙ্ক বা নেতিবাচক ধারণা) আরও বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে না দেখে মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে বলে জানান মুহিত। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে টেলি-কাউন্সেলিং ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ‘ইটস গুড টু টক’ নামে একটি প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

আঁচল ফাউন্ডেশনের লিড সাইকিয়াট্রিস্ট সায়েদুল ইসলাম সাইদ মূল বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আত্মহত্যা বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি বলেন, আত্মহত্যার পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না; বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের সম্মিলিত প্রভাবে একজন ব্যক্তি এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন। কেউ আত্মহত্যার কথা বললেও তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

১০ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস।

‘আইন পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে’

আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা বড় একটি প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেন কেউ বাধার মুখে না পড়েন, সে জন্য বর্তমান আইন পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুন নাহার বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনোভাবেই তাঁদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা বা ক্রিমিনালাইজ করা উচিত নয়। সংকটের সময়ে তাঁদের একা না রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যবহৃত কিছু কঠোর বা আঘাতমূলক শব্দও একজন মানুষকে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন লেখক ও গবেষক গওহর নঈম ওয়ারা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইনসাইট ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নওফল জমির বলেন, আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আইন, নীতি ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এটিএন বাংলার কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর একরামুল হক সায়েমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ তানসেন এবং সমাপনী বক্তব্য দেন এইচআরডিসির সিইও মাহবুল হক।

Read full story at source