সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি দরকার সংকট সমাধানের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ

· Prothom Alo

সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা দরকার। পাশাপাশি বিরোধী দলের উচিত, সংকট সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া। সরকার যাতে এই পরামর্শের আলোকে দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত দুর্বলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

Visit grenadier.co.za for more information.

আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির বিলিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের ১৮০ দিন: সুশাসন, জবাবদিহি ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনার যৌথ আয়োজক সিটিজেনস ফোরাম বাংলাদেশ (সিএফবি) ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস (বিসিএআই)।

বিরোধী দলকে সংসদে গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় সংকট সমাধানের পরিকল্পনায়ও তাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, শুধু সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার মানসিকতা দিয়ে সংসদীয় রাজনীতি টিকিয়ে রাখা যাবে না। সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট পরামর্শও দিতে হবে।

দেশে বিগত সময়ে তৈরি হওয়া সংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতি দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও গ্যাসসহ নিজেদের জ্বালানি সম্পদ উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। বিগত সময়ের এই নীতি শুধু দুর্নীতি বা অর্থের লোভের বিষয় নয়, বরং তা জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণারও অংশ ছিল।

বর্তমান সরকার জ্বালানি আমদানির নতুন উৎস খোঁজার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান জহির উদ্দিন স্বপন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন ‘নারীপক্ষ’–এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক। তিনি বলেন, বাজারে গিয়ে অনেক মানুষকে খালি ব্যাগ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। ১৮০ দিনে একটি সরকারের ভালো-মন্দ পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা না গেলেও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

শিরীন পারভীন হক বলেন, দলীয় নেতা–কর্মীদের চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন শক্তিশালী করা এবং ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানকালে পুলিশি সহিংসতাসহ সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, জনগণের উচ্চাশা পূরণ ও দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও কার্যকর ‘পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট’ ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

অতীতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। একই সঙ্গে সংসদকে কার্যকর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, বর্তমান সরকার পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়নি। তবে প্রশাসনে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক আধিপত্য দূর করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গঠনসহ যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কামরুল আহসান বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল ও চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে পুলিশ বা প্রশাসনে যোগ দেওয়ার প্রবণতা ক্ষমতা ও অর্থের প্রতি আকর্ষণের বহিঃপ্রকাশ। এটি একধরনের সামাজিক ব্যাধি। এই সংকট কাটাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নাগরিক ও নৈতিক শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন।

বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনে বিরোধী দলকে রাস্তায় নামার মতো যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়নি। বিরোধী দলের উচিত সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিকল্প নেই। আইন ও প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাত শক্তিশালী করতে হবে। সংসদীয় কমিটিকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের (আইএফআইএল) পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।

Read full story at source