কারখানায় পালা ব্যবস্থা চালু করা যায়
· Prothom Alo

চলমান বিদ্যুৎ–সংকট কাটাতে সরকার স্বল্প মেয়াদে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তার একটি হতে পারে—বন্ধ থাকা ফার্নেস তেলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া। বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের পাওনা পরিশোধেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এতে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারবে।
Visit syntagm.co.za for more information.
বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে তাৎক্ষণিক আরও যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শিল্পকারখানায় পালাভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা চালু করা। যেসব কারখানা রাতে চালানোর সুযোগ রয়েছে, সেগুলো দিনে বন্ধ রাখতে হবে। শিল্পমালিকেরা যাতে আগ্রহী হন, সে জন্য তাঁদের উৎসাহিত করতে হবে। সাধারণত রাত ১২টার পর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে, তাই এলাকা বা শিল্পভেদে যদি পালাব্যবস্থা চালু করা যায়, তাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হতে পারে।
গ্যাস–বিদ্যুৎ খাতে সমস্যা নানামুখী, সমাধানও আছেদেশে গ্যাস–সংকটে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতেও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা কমাতে হবে। তাহলে সংকট কিছুটা হয়তো কমতে পারে।
অজনপ্রিয় হলেও সরকারকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন ব্যাটারিচালিত রিকশা যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করা উচিত। কারণ, এ ধরনের রিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়কেও চাপ তৈরি করছে। তাই ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে সরকারের ত্বরিত সিদ্ধান্ত দরকার।
আগে পায়ে চালিত রিকশা জনপ্রিয় ছিল। তাই ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে চালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এটা ভাবার সুযোগ নেই। তাঁদের জন্য পায়ে চালিত রিকশা থাকবে।
এগুলো স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা। দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সমস্যার সমাধানে এখন ত্বরিত কিছু কার্যকর নীতি–সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেগুলোর বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে খনন করলে কিছু গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। যদি পাওয়া যায়, তা সাময়িকভাবে সংকট কাটাতে সাহায্য করবে।
এর বাইরে জ্বালানিসংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি যেসব ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, তার মধ্যে রয়েছে—স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল বসানো। এ ধরনের টার্মিনালের জন্য জায়গাও ঠিক করা আছে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে। সিঙ্গাপুরের মতো মাতারবাড়ীকে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি হাব বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এই অঞ্চলে মাতারবাড়ীর মতো গভীর সমুদ্রবন্দর আর নেই। তাই আমাদের উচিত মাতারবাড়ীকে জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগকে কাজে লাগানো। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর উদাহরণ হতে পারে।
দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধন বা রিফাইনারি–ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
*আজম জে চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ইস্ট কোস্ট গ্রুপ