ইমরানের জন্য আবারও সরব সাবেক অধিনায়করা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবার ২১ জনের চিঠি

· Prothom Alo

১৯৯২ সালের ২৫ মার্চ। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন। ৪৪ বছর বয়সেও কোমরে হাত, চোখে সেই পুরোনো জেদ। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দলকে বলেছিলেন, 'কোণঠাসা বাঘের মতো লড়ো।' পাকিস্তান সেদিন লড়েছিল বাঘের মতোই, আর ইমরান খান হয়ে উঠেছিলেন পুরো দেশের নায়ক।

৩৩ বছর পর সেই মানুষটিই আজ সত্যিকারের কোণঠাসা। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এক নিভৃত কুঠুরিতে। পুরোনো নায়ক আজ বন্দী। আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর স্বাস্থ্য, তাঁর চোখ, তাঁর নীরবতা।

Visit umafrika.club for more information.

আর তাঁর জন্য এবার লড়াইয়ে নামলেন ক্রিকেট মাঠের সেই পুরোনো প্রতিপক্ষরাই, যাঁদের সঙ্গে কখনো তিনি লড়েছেন বাইশ গজে, কখনো হয়েছেন সতীর্থ।

জেলেই মরতে রাজি ইমরান খান, তবু নীতির প্রশ্নে আপস নয়

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানকে নিয়ে আবারও উদ্বেগ জানালেন বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়কেরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একযোগে চিঠি লিখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে। প্রেক্ষাপট, ইমরানকে নিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের দিকে যাওয়ার সড়ক পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের পাশ দিয়ে একটি কারাগারের ভ্যান যাচ্ছে। ইসলামাবাদ, পাকিস্তান, ২০ আগস্ট ২০২৬

চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট করে বলেছেন, আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ইমরান খানকে একটি মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে। সেই বোর্ডে থাকার কথা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং তাঁর বোন ডা. উজমা খানও। পাশাপাশি পরিবারকে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বাইরে তাঁর সমর্থকেরা জড়ো হয়েছেন। ইসলামাবাদ, পাকিস্তান, ২০ আগস্ট ২০২৬

কিন্তু সাবেক অধিনায়কদের দাবি, বাস্তবে যা ঘটেছে, তা সেই নির্দেশের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে তাঁকে রাখা হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তাঁকে পরীক্ষা করেছে রাষ্ট্রনিযুক্ত একটি দল, আদালতের নির্ধারিত বোর্ড নয়। দ্রুত ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে আদিয়ালা কারাগারে। পুরো প্রক্রিয়াই শেষ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

ইমরানকে সসম্মানে চিকিৎসা দিন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে চ্যাপেল–গাভাস্কারদের চিঠি

এই অবস্থায় চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি তুলেছেন তাঁরা।

প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বোর্ডকে স্বাধীনভাবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করতে দিতে হবে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ যেন কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা বিলম্ব ছাড়া নিশ্চিত করা হয়।

তৃতীয়ত, মেডিক্যাল বোর্ড যে চিকিৎসা সুপারিশ করবে, তা যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

ইমরান আজীবন যে ফেয়ার প্লের জয়গান গেয়েছেন, আজ তাঁর সেই অধিকার পাওনা

গত ছয় মাসে এটি সাবেক অধিনায়কদের দ্বিতীয় চিঠি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। এবার সেখানে যোগ হয়েছেন আর সাত অধিনায়ক। তখন ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চোখের সমস্যার কারণে তিনি প্রায় এক চোখে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। কারাগারে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগও ওঠে তখন।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন অন্যভাবে। তাঁরা লিখেছেন, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জায়গা থেকে, সাবেক সহখেলোয়াড় ও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই আবেদন।’ একই সঙ্গে তাঁরা এটাও পরিষ্কার করেছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ তাঁদের উদ্দেশ্য নয়।

চিঠি পাঠানো নামগুলোও কম ভারী নয়। চিঠিতে সই করেছেন মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালিস্টার কুক, মাইক গ্যাটিং, সুনীল গাভাস্কার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, নাসেন হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, দিলীপ ভেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইটের মতো কিংবদন্তিরা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন নারী ক্রিকেটের বেলিন্ডা ক্লার্ক ও অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েলও।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের সাজা পেয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আরেক মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরও আছে এই ঘটনায়। মানবাধিল সংস্থাগুলো তাঁর বিচার প্রক্রিয়া ও কারাবন্দী অবস্থার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ইমরানের ছেলেরা দাবি করেছেন, তাঁকে রাখা হয়েছে ‘ডেথ সেল’-এ, যেখানে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। যদিও পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে।

ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবি ওয়াসিম–ওয়াকারের

Read full story at source