শৌচাগারের বদনায় মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ

· Prothom Alo

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় শৌচাগারের বদনার পানিতে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

Visit grenadier.co.za for more information.

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সোহেল রানা (৩১)। তিনি আগেও বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে নির্যাতন করেছেন বলে গৃহবধূর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন। দুই মাস আগে থানায় নির্যাতনের অভিযোগ দিলে তিনি পুলিশের উপস্থিতিতে ‘আর নির্যাতন করবেন না’ বলে মুচলেকা দিয়েছিলেন। এই দম্পতির পাঁচ মাস বয়সী একটি ছেলে আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যার পর বদনার পানিতে মরিচের গুঁড়া মেশানো হয়। সন্ধ্যার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে শৌচাগারে যান গৃহবধূ। বদনার পানি ব্যবহারের পর তাঁর অসহনীয় যন্ত্রণা শুরু হয়। একপর্যায়ে যন্ত্রণায় মাটিতে গড়াগড়ি শুরু করেন এবং পুকুরের পানিতে নামেন। প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখে ঠান্ডা পানি ঢেলে তাঁকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন এবং ৯৯৯-এ কল করে ঘটনাটি পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ এসে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফায়সাল আহমেদ বলেন, ওই গৃহবধূকে এখন হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর চোখ ও নাকের ওপরও কালো দাগ আছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা শাহানারা খাতুন বলেন, জামাতা সোহেল রানা মাদকাসক্ত। অকারণে প্রায়ই তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করেন। কয়েক দিন ভালো থাকার পর আবার নির্যাতন শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘কেন এমন করল বুজবের পারিনি। দুই দিন আগেও মারিছিল। কাল প্রথম এই কাজ করেচে।’

এ ঘটনার পর স্ত্রীকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে সটকে পড়েন অভিযুক্ত সোহেল রানা। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘বউ ও শাশুড়ি ভালো না। তাঁদের আচার-ব্যবহারের বিষয়ে সবাই জানে। স্বামীর অধিকার দেয় না। অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে যে শাস্তি দেবেন, সেটাই মেনে নেব।’

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান বাগমারার হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বদনার পানিতে মরিচের গুঁড়া মেশানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। দুই মাস আগে দাম্পত্য কলহের অভিযোগ পাওয়ার পর উভয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল।

মৌখিকভাবে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানান বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম।

Read full story at source