সামিট পুরোদমে ও এক্সিলারেট আংশিক চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ
· Prothom Alo

টানা ২৫ দিন তীব্র গ্যাস–সংকটের পর কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে আজ শনিবার। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের টার্মিনাল সামিট পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হয়েছে। এতে আজ ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। যদিও গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
Visit truewildslot.com for more information.
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানির কাজটি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আজ ভোর চারটায় সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট ও এক্সিলারেট থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে।
ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে কয়েক সারিতে যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষা। রাজধানীর শ্যামলী এলাকায়, ১৪ আগস্ট ২০২৬পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, দুটো টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে এখন। সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় আর এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সরবরাহ করছে। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ কমায় বেড়ে যায় লোডশেডিং। যানবাহনেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যানবাহন পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় হঠাৎ করে কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় এক্সিলারেট থেকে গ্যাস সরবরাহ। ত্রুটি মেরামতের পর ওই বয়লার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো চালু করা যায়নি। এটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি। আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।
গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না। বিকল্প হিসেবে মাটির চুলায় কাঠ দিয়ে রান্না চলছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায়। সোমবারের ছবি।এদিকে এলএনজি না পেয়ে গত সোমবার সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ভিটলের একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। এটি থেকে সন্ধ্যা সাতটায় সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। খালাসে আট ঘণ্টার মতো সময় লাগে। অবশ্য তার আগে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে টার্মিনালের জমানো মজুত থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে সামিট। শুরুতে সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরারহ করা হয়। ভোররাতে এটি ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।আরও ৭-৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়াতে পারে তারা।
গ্যাস–সংকটে একে একে বন্ধ হচ্ছে নিত্যপণ্যের কারখানাএর আগে বঙ্গোপসাগরে আসা সৌদি আরামকোর এলএনজি জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিয়মিত এলএনজি নিয়ে যেসব জাহাজ আসে, সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের জাহাজটি তেমন ছিল না। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সামঞ্জস্যতা থাকতে হয়, যেটি সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজি জাহাজের ছিল না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই এটি নিয়ে টার্মিনাল থেকে আগেই আপত্তি দেওয়া হলেও আরামকো সেটি পাঠিয়েছে। কয়েক দিন এটি সাগরে অপেক্ষা করলেও ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি।
পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সমুদ্রে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরামকোর জাহাজটি থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি। সমুদ্র শান্ত থাকলে হয়তো ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া যেত। জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরামকোর বদলে আরেকটি এলএনজি জাহাজ পাঠাবে। ভিটল এশিয়ার নতুন জাহাজটি থেকে এলএনজি নিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এসব জাহাজ থেকে নিয়মিত এলএনজি নিতে অভ্যস্ত মহেশখালীর দুই টার্মিনাল।
লাইনে গ্যাস নেই, এলপিজিতে ঝুঁকছে নগরবাসীদেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ৩০০ কোটি ঘনফুট হলেও মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা যায়। যদিও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেট বন্ধের আগে এ হারে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গতকাল বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল। এখন এটি বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখনো দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সেই ঘাটতি পূরণ হতে পারে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। বৃষ্টি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন মিলে দুই দিন ধরে বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। গরম বাড়লে আবার বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বাড়তে পারে লোডশেডিং।
আরও কমেছে গ্যাস সরবরাহ, লোডশেডিং ঢাকায়ও