ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি, হরমুজ প্রণালি আসলে কার নিয়ন্ত্রণে
· Prothom Alo

বিশ্ববাণিজ্যের ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির আধা সামরিক বাহিনী বাসিজের নবনিযুক্ত প্রধান। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ দাবি করেন।
বাসিজপ্রধানের এ দাবির ঠিক এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।
Visit bettingx.bond for more information.
বাসিজপ্রধান হোসেইন তায়েব বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি যুদ্ধ বাধিয়ে এই অঞ্চলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের যে জনপ্রিয়তা রয়েছে, তা নস্যাৎ করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের বিমানবাহিনী বা নৌবাহিনী বলতে কিছুই নেই—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির পর তারা আবারও পরাজিত হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে হোসেইন তায়েবকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আজ আপনারা দেখছেন যে হরমুজ প্রণালি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ ইরান সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত জুন মাসে দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছেছিল। এতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং পারস্য উপসাগরে দ্রুত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়। তবে এর কয়েক সপ্তাহ পরই চুক্তিটি ভেস্তে যায়। এ জন্য উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। অথচ আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।
পরে ইরান অভিমুখী ও দেশটির বন্দরগুলো থেকে ছেড়ে আসা জাহাজের চলাচল এবং বন্দরগুলোর ওপর নৌঅবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই প্রণালি দিয়ে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরগুলোয় চলাচলকারী নৌযানগুলোর অবাধ যাতায়াত বা নেভিগেশনের স্বাধীনতা রক্ষা করবে তারা।
‘নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার’ কথা বললেন ইরানি উপদেষ্টা ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে সামরিক কমান্ড উল্লেখ করে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযানের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করা ভিত্তিহীন দাবিগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট ছাড়া আর কিছুই নয়।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযানের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করা ভিত্তিহীন দাবিগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট ছাড়া আর কিছুই নয়।এর আগে গত জুন মাসে দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছেছিল। এতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং পারস্য উপসাগরে দ্রুত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়। তবে এর কয়েক সপ্তাহ পরই চুক্তিটি ভেস্তে যায়। এ জন্য উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত ভেঙে চলাচল করা নৌযানগুলোর ওপর তারা আবারও সীমিত আকারে হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, পারস্য উপসাগরে নৌযানগুলো নিশানা করার ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোয় আবার হামলা শুরু করেছে।
হরমুজ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি শর্ত, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কি আরও ঝুঁকিতে পড়ছেমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হরমুজ প্রণালিগতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার বলেন, তেহরানের শর্তগুলো মানা না হলে মোজতবার কৌশল হবে ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধ’।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল সমন্বয় করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ মোখবার লেখেন, ‘একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সবচেয়ে টেকসই পথ হরমুজ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার বাস্তবায়ন করা, যা ওয়াশিংটনের সামরিক গ্যারান্টির ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।’
গতকাল ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক-রাজনৈতিক কর্মকর্তা রাসুল সানাই-রাদ বলেন, অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় অপর পক্ষ যতক্ষণ না তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে, ততক্ষণ ইরান এ প্রণালি আবার খুলবে না। ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি আরও বলেন, এ জলপথ আবার উন্মুক্ত করা এমন কোনো বিষয় নয়, যা যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে অর্জন করতে পারবে।
আলাদাভাবে গতকাল ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক রাজনৈতিক কর্মকর্তা রাসুল সানাই-রাদ বলেন, অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় অপর পক্ষ যতক্ষণ না তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে, ততক্ষণ ইরান এ প্রণালি আবার খুলবে না। ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি আরও বলেন, এ জলপথ আবার উন্মুক্ত করা এমন কোনো বিষয় নয়, যা যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে অর্জন করতে পারবে।
হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’, দাবি ট্রাম্পের