শরীর থেকে কী পরিমাণ রক্ত হারালে প্রাণঘাতী হতে পারে

· Prothom Alo

সব মানুষের শরীরে রক্তের পরিমাণ সমান নয়। এটি সাধারণত মানুষের ওজন, বয়স ও লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে। তবে গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ লিটার রক্ত থাকে। অর্থাৎ একজন মানুষের মোট শারীরিক ওজনের প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশই হলো রক্ত। ফলে শারীরিক ওজন যত বেশি হয়, রক্তাধারের ধারণক্ষমতা ও মোট রক্তের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। সাধারণত শারীরিক গঠন ও পেশির ভরের কারণে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের শরীরে রক্তের পরিমাণ (প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার) নারীদের তুলনায় (প্রায় ৪.৫ থেকে ৫ লিটার) কিছুটা বেশি হতে পারে। আবার বয়সের সাথে সাথে শরীরের কোষের গঠন এবং রক্ত তৈরির প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে।

ক্ষত স্থানে রক্ত জমাট বাঁধে কীভাবে
গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ লিটার রক্ত থাকে। অর্থাৎ একজন মানুষের মোট শারীরিক ওজনের প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশই হলো রক্ত।

বয়স অনুযায়ী রক্তের পরিমাণ

১. নবজাতক শিশু: প্রতি কেজি ওজনে প্রায় ৭৫-১০০ মিলিলিটার রক্ত থাকে। জন্মলগ্নে শিশুদের শরীরে শরীরের অনুপাত অনুযায়ী রক্তের ঘনত্ব ও পরিমাণ বেশি থাকে।

Visit fish-roadgame.online for more information.

২. শিশু: শিশুদের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮-৯ শতাংশ রক্ত থাকে। শিশুদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি রক্তের সরবরাহের প্রয়োজন হয়।

৩. প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ: সাধারণত ৪.৫ থেকে ৫.৫ লিটার রক্ত থাকে। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে এই পরিমাণ রক্ত সংরক্ষিত থাকে।

৪. গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় শিশুর বিকাশের জন্য মায়ের শরীরে ৩০-৫০ শতাংশের বেশি রক্ত তৈরি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণের পুষ্টি ও অক্সিজেন নিশ্চিত করতে প্লাজমার পরিমাণ বাড়ে।

রক্তের গ্রুপ কীভাবে আবিষ্কার হলো
শিশুদের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮-৯ শতাংশ রক্ত থাকে। শিশুদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি রক্তের সরবরাহের প্রয়োজন হয়।

রক্ত শরীরে কী কাজ করে

রক্ত আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অস্তিত্বের মূল চালিকাশক্তি হলো রক্ত—যা শরীরের ভেতরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বয়ে চলা এক জাদুকরী জীবনধারা। এটি কেবল একটি লাল তরল নয়, বরং মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এক যোগাযোগব্যবস্থা। আমরা যখন শ্বাস নেই, ফুসফুস থেকে সেই অমূল্য অক্সিজেন রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিন আঁকড়ে ধরে এবং রক্তের তরল স্রোতে ভাসিয়ে পৌঁছে দেয় কোটি কোটি কোষে।

একই সাথে পরিপাকতন্ত্র থেকে শোষিত শক্তি ও পুষ্টি উপাদান—যেমন গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন—কোষে কোষে সরবরাহ করে রক্তই। শুধু যোগান দিয়েই এর কাজ শেষ হয় না; কোষগুলো কাজ করার পর সেখানে যে ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি হয়, রক্ত তা কুড়িয়ে নিয়ে পৌঁছে দেয় ফুসফুস ও কিডনিতে, যা পরবর্তীতে নিঃশ্বাস ও প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

রক্তের নেগেটিভ গ্রুপ কী
আমরা যখন শ্বাস নেই, ফুসফুস থেকে সেই অমূল্য অক্সিজেন রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিন আঁকড়ে ধরে এবং রক্তের তরল স্রোতে ভাসিয়ে পৌঁছে দেয় কোটি কোটি কোষে।

রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও রক্তের ভূমিকা অতুলনীয়। রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা ও অ্যান্টিবডি প্রহরীর মতো সারাক্ষণ পাহারা দেয় এবং বাইরে থেকে আসা ক্ষতিকর ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে শরীরকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি শরীরের থাইরয়েড বা পিটুইটারির মতো বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলোকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য-অঙ্গে পৌঁছে দেওয়াও রক্তের অন্যতম কাজ।

সর্বোপরি, শরীরে পানির পরিমাণ ও এসিড-ক্ষারের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রক্তপ্রবাহের গতি নিয়ন্ত্রণ করে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার কাজটিও রক্তই সম্পন্ন করে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, রক্ত একাধারে আমাদের শরীরের জ্বালানি সরবরাহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বীর সেনানী ও এক নিখুঁত তাপনিয়ন্ত্রক।

মানুষের শরীরে গড়ে প্রায় ৫ লিটার রক্ত থাকে। এই রক্তের একটি নির্দিষ্ট অংশ হারালে শরীর মারাত্মক বিপদের মুখে পড়ে।

রক্ত গবেষক!
রক্তদান করার সময় শরীর থেকে সাধারণত প্রায় ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত নেওয়া হয়, যা মোট রক্তের ১০%-এরও কম। রক্তদানের পর শরীর খুব দ্রুত তা পূরণ করতে শুরু করে।

কতটা রক্ত হারালে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে

সাধারণত একজন মানুষ শরীরের মোট রক্তের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারালেও শরীর নিজে থেকেই তা সামলে নিতে পারে। ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রক্ত হারালে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তখন মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। আর ৪০ শতাংশ বা তার বেশি রক্ত হারালে জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় দ্রুত চিকিৎসা না দেওয়া হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

অর্থাৎ কারও শরীরে যদি প্রায় ৫ লিটার রক্ত থাকে, তবে সেখান থেকে ৫০০ থেকে ৭৫০ মিলিলিটার রক্ত হারালে শরীর সাধারণত তা সামলে নিতে পারে। কিন্তু ২ লিটার বা তার বেশি রক্ত হারালে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

রক্তদান করার সময় শরীর থেকে সাধারণত প্রায় ৪৫০ মিলিলিটার (যা মোট রক্তের ১০%-এরও কম) রক্ত নেওয়া হয়। রক্তদানের পর শরীর খুব দ্রুত তা পূরণ করতে শুরু করে। রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্যদিকে, লোহিত রক্তকণিকা সম্পূর্ণ তৈরি হতে ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে।

লেখক: সাংবাদিকসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথরক্তকণিকা কোথায় তৈরি হয়

Read full story at source