ভারতে খ্রিষ্টানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা–নির্যাতন বন্ধের দাবি

· Prothom Alo

ভারতে খ্রিষ্টানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা–নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আজ শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ভারতে খ্রিষ্টানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা–নির্যাতনের নিন্দা–প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

Visit mchezo.co.za for more information.

মানববন্ধনটির আয়োজক ‘বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশন’। ‘অতি সাম্প্রতিক ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গির্জা ও খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার প্রতিবাদ’–এ এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, ‘আমরা ভারত সরকারকে বলতে চাই, যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেটার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশে নির্মল রোজারিও বলেন, তারা যাতে অবিলম্বে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে তাঁদের উদ্বেগের কথা পৌঁছে দেয়। আর ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন যেন এই উদ্বেগের বিষয়টি দেশটির সরকারকে জানিয়ে দেয়। ভারত সরকার যেন অবিলম্বে খ্রিষ্টানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করে।

মানববন্ধনে অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন শাখার নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান। বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ভারতে খ্রিষ্টানদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটার তীব্র নিন্দা জানান তাঁরা। বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা–নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান। পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, সাম্প্রদায়িক উগ্রতা মেনে নেওয়া যায় না।

মানববন্ধনে সংহতি জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা–উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। যে হারে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা রাজ্যটিতে বাড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতীকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বিএনপির আবেদ রাজা বলেন, সম্প্রতি ভারতে ধর্মীয় উগ্রতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই উগ্রবাদীরা যখন সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলা করছে, তখন সেটা সেখানকার সংখ্যালঘুদের মন ভেঙে দিচ্ছে। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিবাদ জানাতে হবে। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশেও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো অত্যাচার হয়, সেটারও প্রতিবাদ জানাতে হবে।

রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চের পাল-পুরোহিত ফাদার আলবার্ট টি রোজারিও বলেন, ‘আমরা তো শান্তিপ্রিয় মানুষ। কিন্তু ভারতে যেভাবে চার্চে হামলা হলো, ক্রুশ ভাঙা হলো, সেটা আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছে।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ‘দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন’–এর সেক্রেটারি মঞ্জু মারীয়া পালমা, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রভাত টুডু প্রমুখ।

Read full story at source