নবীন বন্ধুদের উচ্ছ্বাসে রাঙানো বিকেল

· Prothom Alo

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি হলো নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়, নতুন স্বপ্নের সঙ্গে হাত মেলানো। সেই পথচলাকে আরও রঙিন ও আন্তরিক করে তুলতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা আয়োজন করেছে নবীন বন্ধুবরণ ও মৌসুমি ফল উৎসব। ফুলের শুভেচ্ছা, পরিচয়ের উষ্ণতা, কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশনা আর মৌসুমি ফলের মিষ্টি স্বাদে নবীনদের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

Visit turconews.click for more information.

১০ জুলাই বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এ উৎসব শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে। পরে নবীন সদস্যদের ফুল, শুভেচ্ছা নোট ও স্মারক উপহার দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। পরিচয় পর্বের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, গান, শো ইয়োর ট্যালেন্ট পর্ব, ফল উৎসব এবং প্রবীণ ও নবীনদের প্রাণখোলা আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

ছবি: বন্ধুসভা

নবীনদের স্বাগত জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক বাঁধন রায় বলেন, ‘বন্ধুসভা এমন একটি সংগঠন, যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, দক্ষ, বিবেকবান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক কাজে আত্মনিয়োগের অনুপ্রেরণা জোগায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সঙ্গে তোমাদের এ পথচলা আনন্দময়, সুন্দর ও সার্থক হোক।’

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা সারিকা তাসনিম। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি সেই ২০০৭ সালে। তারপরও বারবার ফিরে আসি বন্ধুসভায়, কারণ, এটি আমার পরিবার। বন্ধুসভা আমাকে দিয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, প্রিয় মানুষ এবং সমাজের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা।’ নবীনদের উদ্দেশে সারিকা তাসনিম বলেন, ‘তোমাদের প্রতি আমার আহ্বান, তোমরাও এ পরিবারের সঙ্গে থেকে নিজেদের দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করো এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাও।’

ছবি: বন্ধুসভা

পরিচয় পর্বের পর নবীন সদস্যদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন অমিত সরকার, মহতাসিন সাখাওয়াত, নাফিস আরাফাত, সৌমিত্র কুমার, মেহেদী হাসান, লামিয়া কেয়া ও প্রিয়াংকা রায়। তাঁরা জানান, বন্ধুসভার অংশ হতে পেরে তাঁরা আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি সমাজের জন্য অর্থবহ কাজ করতে চান।

‘শো ইয়োর ট্যালেন্ট’ পর্বে নবীন সদস্যরা গান, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুকসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার প্রকাশ ঘটান। কেউ কেউ প্রথমবারের মতো মাইক্রোফোন হাতে নেন। পুরোনো সদস্যরাও এ পর্বে অংশ নেন।

পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কবিতা আবৃত্তিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন নাফিস আরাফাত, দ্বিতীয় সৌমিত্র কুমার এবং তৃতীয় হয়েছেন সাবিহা জেবা। গানে প্রথম হয়েছেন মেহেদী হাসান, যৌথভাবে দ্বিতীয় হন লামিয়া কেয়া ও আনিকা ইতি এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তানজিলা সুলতানা।

ছবি: বন্ধুসভা

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সুইটি রানী বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নবীন সদস্যদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো, তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং বন্ধুসভার পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। ভবিষ্যতেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা মানবিক, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল নানা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহসভাপতি আররাফি সিরাজী। শেষে সবাই একসঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং ফল উৎসবের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

সভাপতি, রাবি বন্ধুসভা

Read full story at source