মাথা খারাপ! রস+আলোর সম্পাদক আমি হব? প্রশ্নই আসে না: চঞ্চল চৌধুরী

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বন্ধুদের সঙ্গে যখন আর্জেন্টিনা-মিসরের খেলা দেখছিলেন, সেই সময় আপনার মুখে বেশি শোনা যাচ্ছিল কোন সংলাপ—‘ভামোস আর্জেন্টিনা’ নাকি ‘বোঝো নাই ব্যাপারটা’?

কোনো আওয়াজই বের হচ্ছিল না, কারণ আর্জেন্টিনা পরপর দুইটা গোল খাওয়ার পর, ম্যাক্সিমাম সময় পার হচ্ছে, কিন্তু গোল দিতে পারছে না, ভেতরে ভেতরে মনে হচ্ছিল, খুব ভয় পাইছি রে!

Visit tr-sport.bond for more information.

জীবনের কোন ঘটনার কথা মনে হলে আপন মনে হো হো করে হেসে ওঠেন?

ওই রকম খুব বেশি মনে হয় না। তবে আমি হাসতে পছন্দ করি, মানুষকে হাসাতে পছন্দ করি। যেকোনো সিনেমা দেখলে হাসি, মজার কোনো দৃশ্য দেখলে হো হো করে হাসি।

ছোটবেলায় এমন কোনো দুষ্টুমি করেছিলেন, যা আজও পরিবার আপনাকে মনে করিয়ে দেয়?

আমার নামটা কী? চঞ্চল! কত দুস্ট ছোটবেলায় ছিলাম সেটা বোঝানোর জন্য নামটাই যথেষ্ট। (হাসি)

যদি আপনার আঁকা কোনো স্কেচ হঠাৎ জীবন্ত হয়ে যায়, কোন তারকার স্কেচটা জীবন্ত হোক চাইবেন? কেন?

বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসির দুইটা স্কেচ এঁকেছি। মেসি আমার প্রিয় খেলোয়াড়। যদি জীবন্ত হয়, তাহলে চাইব মেসির স্কেচটাই জীবন্ত হয়ে উঠুক। তাঁকে শুধু আমি না, সারা পৃথিবীর মানুষ অসম্ভব রকম পছন্দ করে। তাঁকে সামনাসামনি দেখতে চাই।

ধরুন, আপনাকে ফুটবল মাঠে নামিয়ে দেওয়া হলো। লিওনেল মেসি বল পাস না দিলে তাঁকে কী বলবেন?

মেসিকে বলব, ভাই বলটা পাস করো, তোমার আরেকটা পোর্ট্রেট করে দেব! (হাসি)

জীবনে সবচেয়ে বেশি কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত?

বেশির ভাগ মানুষ জিজ্ঞেস করে, কই আপনাকে তো আগের মতো আর পর্দায় দেখি না। মানে, তাঁদের পর্দা দেখার খুব বেশি হয়তো সুযোগ হয় না। আমি কম-বেশি পর্দায় তো থাকিই। এই প্রশ্নটার উত্তর বারবার দিতে হয়, (হাসি)। আমিও বলি, একটু ভালো করে দেখেন— এই বছরে তো এতগুলো ছবি মুক্তি পেল, সিরিজ গেল, নাটক—অমুক অমুক প্ল্যাটফর্মে। তখন বলে, ও ও ও!

যদি আপনাকে এক মাস মোবাইল ছাড়া থাকতে বলা হয়, বেশি মিস করবেন মানুষকে, না ফেসবুককে?

মানুষকে মিস করব, ফেসবুককে না। তবে এই প্রশ্নটার মধ্যেও ঘাপলা আছে। কারণ, ফেসবুকের মাধ্যমেই তো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে প্রতিদিন। দর্শকের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগের তো একটাই মাধ্যম, ফেসবুক। পোস্ট দিলে মন্তব্য করে এবং পরিচিতজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এদের সঙ্গে হয়তো মেসেঞ্জারে কথা হয়, তাদের অ্যাকটিভিটিগুলো দেখি—এসব যেহেতু ফেসবুকের মাধ্যমেই দেখি, তাই মানুষকে মিস করব বেশি।

কোনো ভক্ত কি কখনো এমন কিছু আবদার করেছে, যা শুনে আপনি কয়েক সেকেন্ড কথা হারিয়ে ফেলেছিলেন?

ভক্তের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম, বেশ কয়েক বছর আগে। তখন আমি বিবাহিত। এটা জানার পরও এক মেয়ে ভক্ত বলেছিল, ‘আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।’ শুনেই চুপ করে ছিলাম। বললাম যে, আমি তো বিবাহিত! তখন বলে যে ‘আপনার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন, আমাকে বিয়ে করেন, আপনাকে আমি অনেক ভালোবাসব।’ এ কথা শুনে তো হতভম্ব! পরে ওখান থেকে কীভাবে চলে আসব, তারই সুযোগ খুঁজছিলাম।

ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় আপনি বেশি চিৎকার করেন নাকি আশপাশের মানুষ বেশি চিৎকার করে আপনাকে বিরক্ত করে?

আমি চিৎকার তখন দিই, যখন একটা গোল হয়। আর যখন মারাত্মক একটা মিস করে, তখনো। এ ছাড়া আমি কমই চিৎকার করি। তবে যাদের সঙ্গে খেলা দেখি, তারা খুব বেশি চিৎকার করেন এবং মাঝেমধ্যে প্রতিটি চিৎকারে সেলফি এবং ছবি তুলতে থাকেন।

ধরুন, একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন সবাই আপনাকে চেনে; কিন্তু কেউ আপনার নাম জানে না। তখন নিজেকে কী পরিচয় দেবেন?

চঞ্চল চৌধুরী, কারণ এটাই আমার পরিচয়। জন্মের পর বাবা-মা এই নামই দিয়েছেন। অতএব এটাই বলব, আমার নাম চঞ্চল চৌধুরী, অন্য কারও নাম ধার করতে চাই না।

‘বোঝো নাই ব্যাপারটা…’—এই সংলাপটি আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিয়েছে নাকি সবচেয়ে বেশি বিব্রত করেছে?

সুবিধা বা বিব্রত নয়, এই ডায়ালগটা অনেক সময় আমি বাস্তব পরিস্থিতিতেও উচ্চারণ করি। এটা নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ট্রল করে—আমি বিরক্ত, বিব্রত কিছুই হই না। একটা ছোট্ট সংলাপ, সবাই জানে। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই সংলাপটা ব্যবহার করে। ভালোই লাগে আমার!

কোনো নায়িকা কি কখনো আপনাকে বলেছে, ‘চঞ্চল ভাই, আপনি অভিনেতা কম, সমস্যা সমাধানকারী বন্ধু বেশি?’

নায়িকা বলব না, অনেক সহকর্মী অভিনেতা–অভিনেত্রী বলেন, আপনার অভিনয়ের চেয়ে গান বেশি ভালো হয়। আমি বন্ধুভাবাপন্ন, সবার সঙ্গে মিশতে পছন্দ করি এবং খুব ফুর্তিবাজ। সে কারণে আমার গুরু মামুনুর রশীদ থেকে আমার ছেলে শুদ্ধ, সবারই আমি বন্ধু।

যদি রস+আলো আপনাকে এক দিনের জন্য সম্পাদক বানায়, কোন বিষয়ে সেই সংখ্যাটা সাজাবেন?

মাথা খারাপ! রস+আলোর সম্পাদক আমি হব? প্রশ্নই আসে না। আমি যে কাজটা করি, অভিনয়—সেটা দিয়েই মানুষের বিনোদন দিতে হিমশিম খাই। যদি অভিনয়ে সেই মজাটা, ভালোলাগা না দিতে পারি, সেই চিন্তাতেই আমার বয়স বেড়ে যাচ্ছে! মাঝেমধ্যে মনে হয়, যদি না পারি তো শেষ! এরপর আবার এক্সট্রা দায়িত্ব, রস+আলো সম্পাদক—প্রশ্নই আসে না!

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের

[এই সাক্ষাৎকারটি কাল্পনিক নয়!]

Read full story at source