আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের জার্সির পেছনে ১৮৯৩ লেখা কেন

· Prothom Alo

’২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে সহজ জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ দিয়ে তারা নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করল। মাঠে নামার সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের গায়ে ছিল চিরচেনা আকাশি-সাদা রঙের নতুন জার্সি।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনার কারণে আর্জেন্টিনার ভক্তদের গায়ে এখন শুধু প্লেয়ার আর ফ্যান এডিশন জার্সি। রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই বোঝা যায় নতুন এই জার্সি আর্জেন্টিনাপ্রেমীদের কাছে কতটা সাড়া ফেলেছে। আকাশি-সাদা হলেও এবারের জার্সির নকশা কিন্তু অন্যবারের চেয়ে আলাদা।

Visit bettingx.bond for more information.

জার্সির পেছনে ছোট করে লেখা রয়েছে ১৮৯৩ সংখ্যাটি। অনেকের মনেই প্রশ্ন, এই সালটি কেন জার্সিতে দেওয়া হয়েছে। অন্য দলের সমর্থকদের কাছে নিজের দলের জার্সির ইতিহাস না জানলে বেশ বিব্রত হতে হয়। তাই কেউ জিজ্ঞাসা করার আগে জেনে নাও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের জার্সির পেছনে ১৮৯৩ লেখাসহ আরও অজানা কিছু তথ্য।

উরুগুয়ের জার্সিতে কেন চার তারকা

জার্সির সামনে তাকালে প্রথমে চোখে পড়বে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের মূল লোগোটি। আর তার ঠিক ওপরে জ্বলজ্বল করছে তিনটি সোনালি তারকা। এই তারকা তিনটি মূলত আর্জেন্টিনার জেতা ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের তিনটি বিশ্বকাপের প্রতীক।

তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের জার্সির বুকে থাকছে ফিফার একটি বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ ব্যাজ। এটা অনেকটা রেসলিংয়ের চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টের মতো। মাঠের বাকি দলগুলো এই বেল্ট বা ব্যাজটি আর্জেন্টিনার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্যই কিন্তু খেলছে।

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে জার্সির পেছনের অংশটি। শার্টের ঠিক ঘাড়ের নিচে ছোট করে লেখা রয়েছে ১৮৯৩ সংখ্যাটি। আসলে জার্সিতে ১৮৯৩ সংখ্যাটি বসানো হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) প্রতিষ্ঠার বছরটিকে সম্মান জানাতে। আলেকজান্ডার ওয়াটসন হাটন নামের এক ফুটবলপ্রেমী ১৮৯৩ সালে এই অ্যাসোসিয়েশনটি প্রতিষ্ঠা করেন। যাঁকে আর্জেন্টাইন ফুটবলের জনক বলা হয়। মজার ব্যাপার হলো, ইউরোপের বাইরে এটিই ছিল পৃথিবীর প্রথম কোনো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

স্কেটবোর্ডিং শিখতে হলে

আলেকজান্ডার ওয়াটসন হাটন ছিলেন একজন স্কটিশ শিক্ষক ও ক্রীড়াবিদ। ১৮৯৩ সালে তিনি আর্জেন্টাইন অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল লিগ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নামে পরিচিত। তিনি বুয়েনস এইরসে একটি ইংলিশ হাইস্কুল ও অ্যালামনাই নামে একটি ফুটবল ক্লাবও গড়ে তুলেন। এই ক্লাবটি ১৯১১ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগপর্যন্ত ২২টি শিরোপা জিতেছিল, তৎকালীন সময়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সফল ফুটবল দল ছিল সেটি।

নিজেদের ফুটবলের সেই আদি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মনে করাতেই জার্সিতে এই বিশেষ সালটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাধারণত বিশ্বকাপের দলগুলো তাদের জার্সির হাতায় সাদা বা কালো রঙের সাধারণ লোগো ব্যবহার করে। কিন্তু ফিফা এবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য একটি বিশেষ সোনালি রঙের প্যাচ বা লোগো তৈরি করেছে।

এই গোল্ডেন প্যাচটি পরার সুযোগ পাচ্ছে বিশ্বের মাত্র সাতটি দেশ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিও এই প্যাচটি পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু তারা এবারের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারায় এই দারুণ সুযোগটি হারিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জার্সির হাতা বা স্লিভ বেশ জমকালো করে বানানো হয়েছে। কারণ, ফিফা ফুটবলারদের ব্যক্তিগত অর্জনের ওপর ভিত্তি করে কিছু নতুন ব্যাজ চালু করেছে। কারও বিশ্বকাপে অভিষেক হলে বা কেউ আগে গোল্ডেন বুট জিতলে জার্সির হাতায় বিশেষ মেডেলের মতো ব্যাজ যুক্ত করা হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের জার্সিতে এই ব্যাজ রয়েছে।

সবার প্রিয় ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি এখানেও সবার চেয়ে আলাদা। পাঁচ বা তার বেশি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কারণে মেসি জার্সির হাতায় আছে লেগ্যাসি ব্যাজ।

সূত্র: সকার, স্পোর্টস

গ্রুপ বি: কোন দল কতটা শক্তিশালী

Read full story at source