‘চার দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি, খুব কষ্টে আছি’
· Prothom Alo

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় টানা বৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সংকটে চার দিনেও জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হরতকিতলা, পূর্ব চন্দনা ছাপরা মসজিদ এলাকা, পূর্ব চান্দরা জোড়া পাম্প এলাকা, বিশ্বাসপাড়া এপেক্স কারখানার পেছনসহ বিভিন্ন স্থানের অন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে।
আজ সকাল পর্যন্ত এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে আছে অনেক বাড়িঘর। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া এবং কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
Visit turconews.click for more information.
গাজীপুরে পানিবন্দী হাজারো পরিবার, খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপনসরেজমিনে দেখা যায়, হরতকিতলা ও পূর্ব চন্দনা ছাপরা মসজিদ এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বাড়ির আঙিনা এবং নিচু বসতঘর পানিতে তলিয়ে আছে। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও কোথাও রান্নাঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। নিরাপদ খাবার পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিয়েও সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা।
হরতকিতলা এলাকার বাসিন্দা ইউছুব আলী বলেন, ‘চার দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি। ছোট ছোট সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ঠিকমতো রান্নাবান্নাও করতে পারছি না। পানি নামারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।’
পূর্ব চন্দনা ছাপরা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, বৃষ্টি হলেই এ এলাকায় পানি জমে। এবার চার দিন পার হলেও পানি নামেনি। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে মালামালের ক্ষতি হয়েছে। রাস্তায় পানি থাকায় ক্রেতারাও আসতে পারছেন না। দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
৩ দিনেও সরেনি বৃষ্টির পানি, পানিবন্দী হাজারো পরিবারে বেড়েছে ভোগান্তিস্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ–ব্যবস্থা, খাল ও পানি চলাচলের পথ দখল এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কথা জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।
তবে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, একসময় যেসব নিচু জায়গা দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো, সেসব স্থান ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। নিচু স্থানে বাড়ি নির্মাণ এবং ড্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা না রাখায় পানি নামতে সময় লাগছে। প্রশাসনের একাধিক দল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, আজ বিকেলের মধ্যে পানি নেমে যাবে।