কেন রোনালদোকে বদলি করেননি কোচ

· Prothom Alo

মাঠে ছিলেন ৯০ মিনিট। বলে স্পর্শ মাত্র ২৬ বার। তিনটি শট নিয়েছেন, প্রতিটিই লক্ষ্যহীন। দলও ১-১ সমতায় হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

Visit extonnews.click for more information.

বিশ্বকাপে কাল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিনটা বাজে-ই কেটেছে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তাঁর খেলায় আগের ধার আছে কি না, এমন প্রশ্ন ছিল বিশ্বকাপের আগে থেকেই। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালোই হয়েছে।

অনেকেরই প্রশ্ন, যে খেলোয়াড় ম্যাচের শুরু থেকে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন, তাঁকে দ্বিতীয়ার্ধে কেন বদলি করলেন না পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ?

ম্যাচ শেষে এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করেছেনও তাঁকে। সেই প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ বলেছেন, গোল দরকার এমন ম্যাচে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো যুক্তি তিনি দেখেননি।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গোল না পাওয়ায় রোনালদোর বড় টুর্নামেন্টে গোলখরাও আরও দীর্ঘ হয়েছে। বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ ধরে তিনি গোলহীন। ওপেন প্লে থেকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাঁর সর্বশেষ গোলটি এসেছিল ২০২১ সালের ১৯ জুন।

তবে রোনালদোর পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সামগ্রিক খেলা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন মার্তিনেজ। রোনালদো কোনো প্রভাব ফেলতে পারছেন না বোঝার পরও তাঁকে পুরো সময় খেলানো নিয়ে তিনি বলেন, ‘যে ম্যাচে আপনার গোল দরকার, সেখানে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।’

রোনালদো ‘নিখোঁজ’, সেই সুযোগে কঙ্গোর ইতিহাস

মার্তিনেজের মতে, পর্তুগাল ম্যাচের শুরুটা দারুণ করলেও এগিয়ে যাওয়ার পরই ছন্দ হারায় পর্তুগাল। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। কিন্তু এরপর পুরো ম্যাচে দলটি মাত্র ছয়টি শট নিতে পারে। মার্তিনেজ মনে করেন, গোল করার পর দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে বলের দখল ধরে রাখার প্রবণতাই কাল হয়েছে তাদের, ‘সাধারণত গোল করার পর সেই আবেগ দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং দ্বিতীয় গোলের দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। আমরা ঝুঁকি নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। শুধু বলের দখল ধরে রাখতে চেয়েছি।’

হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের শেষে

তবে পর্তুগালের স্প্যানিশ কোচ এখনই বিশ্বকাপের পরের পথচলা নিয়ে আতঙ্কিত নন। বিশ্বকাপের ইতিহাস টেনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুরুটা খারাপ হলেও শেষটা সাফল্যময় হতে পারে, ‘বিশ্বকাপে এমন ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল। ২০১০ সালে স্পেন সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তখন তাদের পারফরম্যান্সও ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়নের মতো মনে হয়নি।’

‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের পরের ম্যাচ ২৩ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা উজবেকরা নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে।

রোনালদো কিংবা এক রোবটের গল্প

Read full story at source