পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর ৩৬টি পুশ ইন চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বিজিবি
· Prothom Alo

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৩৬টি পুশ ইন (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশ ইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে বিএসএফের কাছে। আর ১৮৩ জনকে পুশ ব্যাক করা (ফেরত পাঠানো) হয়েছে।
সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন বন্ধসহ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুশ ইন ও চোরাকারবারিদের রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে মামলাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ দেশি নাগরিক হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনগুলোতে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব সময়ই সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে মারত্মক বা প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল ওয়েপন্স) ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়ে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ‘ফ্লাগ মিটিংয়ের’ (পতাকা বৈঠক) মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত সীমান্তে স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার প্রায় ১১ হাজার
কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ মে থেকে দেশব্যাপী মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানে ৮ জুন পর্যন্ত মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ৭ হাজার ৬৮৮টি মামলায় ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ মাকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এই অভিযানে ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারসংক্রান্ত ২৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামালপুর-২ আসনের এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করতে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি (ঢাকা মহানগর পুলিশ) বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের গ্যাংয়ের নামে যেসব ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ এবং টিকটক আইডি অ্যাকাউন্ট চালায়, সেগুলোকে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটর করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, র্যাব-২ এর আওতাধীন মোহাম্মদপুর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১১৯টি ছিনতাইবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে (জুন ২০২৫ হতে মে ২০২৬) ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এই সময়ে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯টি অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬টি ইয়াবা, ৫৫ হাজার ৯০৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৪৬৩ কেজি গাঁজা এবং ১ লাখ ৬ হাজার ৭০৯ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া অত্যন্ত মারাত্মক ও মরণঘাতী ১৫ দশমিক ৫৭৭ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ২ দশমিক শূন্য ৮ কেজি কোকেন এবং ৬২ বোতল এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ১৮৯ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ এবং নারী ২ হাজার ২৯ জন। বিপরীতে আটক আছেন ৭৭ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী ২ হাজার ৭৭ জন।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া/বেটিং সাইট বন্ধ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থা–প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের বিস্তার রোধ এবং এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্ম বন্ধ ও সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে যুবসমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য সরকার ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ রহিতক্রমে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।