গৃহবধূকে হত্যার পর আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচারের অভিযোগ, স্বামী আটক

· Prothom Alo

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচারের অভিযোগে তাঁর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

Visit betsport24.es for more information.

নিহত গৃহবধূর নাম সুমনা ফেরদৌসী (৩৮)। তিনি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। অভিযুক্ত লিমন মল্লিক চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

লিমন মল্লিককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সময় সুমনার সঙ্গে লিমনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ২০২১ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। এটি লিমনের দ্বিতীয় ও সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন লিমন। সেখানে তাঁর প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকায় পারিবারিক কলহ তৈরি হয়। কিছুদিন পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে চলে যান লিমনের প্রথম স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, সুমনা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন টিকটকে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে সন্দেহ থেকে লিমন ও সুমনার মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। একই বিষয় নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে সুমনার সঙ্গে লিমনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুমনাকে মারধর করেন লিমন। এতে সুমনা রক্তাক্ত হলে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করেন লিমন। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে তাঁর মরদেহটি ঝুলিয়ে রাখেন।

পুলিশের ভাষ্য, অন্য দিনের মতো গতকাল সকাল ১০টার দিকে কাজে চলে যান লিমন। বিকেলে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ সন্দেহজনক আলামত পায়। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগড়া থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, মূলত হত্যার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা সাজাতেই সুমনার মরদেহ আড়ার সঙ্গে ঝোলানো হয়েছিল। ওই নারীর পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Read full story at source