যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের ব্র্যান্ডটি কেন ‘ট্রায়াল রুম’ বন্ধ করছে

· Prothom Alo

এক মাপের বা ওয়ান-সাইজের তৈরি পোশাক বিক্রির জন্য বেশ পরিচিত ‘ব্র্যান্ডি মেলভিল’। ব্র্যান্ডটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের বিক্রয়কেন্দ্রে ট্রায়াল বা ফিটিং রুম (পোশাক বদলানোর কক্ষ) স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মী নিশ্চিত করেছেন।

Visit freshyourfeel.org for more information.

ব্র্যান্ডি মেলভিলের এমন সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে ব্র্যান্ডটির নিয়মিত তরুণী ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন ক্রেতা এটিকে ‘ভয়াবহ খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন। আরেক নারী টিকটকে লিখেছেন, ‘এখন আমি কীভাবে বুঝব পোশাকটা আমাকে মানাচ্ছে কি না?!’

মূলত কিশোরীদের লক্ষ্য করে বিপণন করা তৈরি পোশাকের এই ব্র্যান্ড আগেও সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ, ব্র্যান্ডটি সাধারণত ছোট গড়নের শরীরের উপযোগী মাত্র একটি সাইজের পোশাক বিক্রি করে। তাদের বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর শারীরিক সৌন্দর্যবোধ বা ‘বডি ইমেজ’ ধারণা প্রচারের অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি ব্র্যান্ডি মেলভিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ট্রায়াল রুম খুলে ফেলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

অবশ্য নিউইয়র্ক, বোস্টন ও অস্টিনে থাকা ব্র্যান্ডি মেলভিল বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে তাঁদের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ট্রায়াল রুম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনেক ক্রেতা, যাঁরা আগে সাশ্রয়ী মূল্যের সুতি কাপড়ের বেসিক পোশাকের জন্য এই ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করতেন, এখন তাঁরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে তাঁরা নিজেদের আরও উপেক্ষিত মনে করছেন।

টিকটকে এক নারী বলেন, ‘কখনো কখনো পোশাকের ফিটিং অদ্ভুত হয়। আমি সাধারণত কোন পোশাক কিনব, তা ঠিক করার আগে পরে দেখে নিতাম। কিন্তু এখন আর সেটা পারব না।’

আরেকজন ক্রেতা একটি ভিডিওতে বলেন, ‘প্রতিটি ডিজাইনের জন্য মাত্র একটি সাইজ রাখা হয়, আর সেটাও আপনি পরে দেখে নিতে পারবেন না। ফলে ফেরত দেওয়া পণ্যের সংখ্যা হয়তো আকাশছোঁয়া হবে।’

নিউইয়র্ক সিটির গ্রেনিচ ভিলেজ এলাকার একটি ব্র্যান্ডি মেলভিল বিক্রয়কেন্দ্রের একজন কর্মী জানান, খুব সামান্য ব্যাখ্যা দিয়েই কর্মীদের এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বোস্টন ও অস্টিন শহরের বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা বলেন, ট্রায়াল রুম বন্ধ করার পেছনে কারণ হিসেবে ‘ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ক্রেতারা চুইংগাম ব্যবহার করে ফিটিং রুমের পর্দা দেয়ালের সঙ্গে আটকে দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি ছিল, পর্দাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হতো না।

অস্টিনে ব্র্যান্ডি মেলভিলের একটি বিক্রয়কেন্দ্রের একজন কর্মী বলেন, ‘পর্দায় চুইংগাম আটকে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি।’ তিনি আরও জানান, ট্রায়াল রুমের দেয়ালে চুইংগাম লাগিয়ে দেওয়াটা টিকটকের একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল।

আরেকজন কর্মী গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্য একটি শাখার ট্রায়াল রুম খুলে ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডি মেলভিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই সঙ্গে জনপ্রিয়তা ও বিতর্ক—দুটোরই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া এক প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়, এই ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক রোগ (ইটিং ডিজঅর্ডার) উৎসাহিত করে এবং তাদের অল্পবয়সী নারী কর্মীদের যৌন আবেদনময়ভাবে উপস্থাপন করে। তবে প্রামাণ্যচিত্রে উত্থাপিত অভিযোগ কিংবা সীমিত ও এক সাইজের পোশাক বিক্রি নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো জবাব দেয়নি।

Read full story at source