নবাবগঞ্জে নিখোঁজের ৭ দিন পর ধানখেতে মিলল কাঠমিস্ত্রির লাশ

· Prothom Alo

ঢাকার নবাবগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর নারায়ণ সরকার (৫০) নামের এক কাঠমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের নিকরা বিল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

Visit mwafrika.life for more information.

নারায়ণ সরকার উপজেলার বক্সনগর চৌরাহাঁটি এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসী বিলের একটি ধানখেতে লাশটি ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে স্বামীকে হারানোর শোকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্ত্রী চম্পা রানী। পাশে দুই মেয়ে বৈশাখী সরকার ও ঐশী সরকারের আহাজারিতে উপস্থিত লোকজনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা স্বজনেরা।

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী ঐশী সরকার। বারবার মূর্ছা যাওয়ার ফাঁকে সে বলেন, ‘বাবা, তোমাকে কারা মেরে ফেলল? এখন আমাদের কে বাঁচাবে, কে খাওয়াবে, কে লেখাপড়ার খরচ দেবে?’

নারায়ণ সরকারের চাচাতো ভাই বিনয় সরকার বলেন, মাছ ধরতে যাওয়ার সময় বিলের লিজগ্রহীতা নিখিল রাজবংশীর সঙ্গে তাঁর (নারায়ণ) বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ২৭ মে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন নারায়ণ সরকার। পরদিন সকালে চাচাতো ভাই জগদীশ সরকার এবং প্রতিবেশী নিতাই শীল ও পরাণ শীলকে নিয়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে নিকরা বিলে যান। দুপুরে অন্যরা বাড়ি ফিরলেও নারায়ণ আর ফেরেননি।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনার চার দিন পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে তাঁর স্ত্রী থানায় অপহরণের মামলা করেন। ওই মামলায় নিখিল রাজবংশী ও জগদীশ সরকার গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হানিফ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর লাশটি সেখানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অপহরণ মামলার সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Read full story at source