আমের বিভিন্ন উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

· Prothom Alo

গ্রীষ্মের শেষের এই বৃষ্টিমুখর দিনে পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের লেখা ‘মামার বাড়ি’ ছড়াটা মনে পড়ছে। ‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে/ আম কুড়াতে সুখ, পাখা জামের মধুর রসে/ রঙিন করি মুখ।’ ছড়াটি আজও জীবন্ত হয়ে আছে। এখনো ঝড়বৃষ্টিতে গ্রামের মানুষদের আম কুড়াতে দেখা যায়।

Visit afnews.co.za for more information.

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল হলেও আম হচ্ছে ফলের রাজা। বাংলা বারো মাসেই বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায়। তবে আমের আসল মৌসুম হচ্ছে এখন। গাছে গাছে পাকা আম ঝুলছে।

‎আমের বিভিন্ন নাম ও প্রজাতি‎
ভারতীয় ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের তথ্যমতে, পৃথিবীতে ম্যাঙ্গিফেরা গণের প্রায় ৩৫ প্রজাতির চেয়ে বেশি আম রয়েছে। আবার এই আমের রয়েছে কয়েক শ জাত। যেমন আমাদের সুপরিচিত ফজলি আম হলো ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা (Mangifera indica) প্রজাতির একটি বিশেষ জাত। এ ছাড়া পৃথিবীতে আরও বিভিন্ন জাত ও প্রজাতির আম রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, অরুণা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্ণরেখা, মিসরিদানা, নীলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপুরী, কারাবাউ, কেউই সাউই, গোপালখাস, কেন্ট, সূর্যপুরী, পাহুতান, ত্রিফলা, হাঁড়িভাঙা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী, রুপালি প্রভৃতি।

আম কোথায় ভালো জন্মায়
‎পৃথিবীর উষ্ণপ্রধান জলবায়ু অঞ্চলগুলোতে আমের চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে। এর মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি আম উৎপাদন হয় শুধু ভারতে। এরপর অন্যান্য যেসব দেশ আম উৎপাদন করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা প্রভৃতি দেশ। আম খুব উপকারী ফল। বাংলাদেশের রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষ বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে।

আম রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান‎
‎বিশ্ববাজারে আমের চাহিদা থাকে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। সারা বিশ্বে রপ্তানি হওয়া আমের একটা বড় অংশ ক্রয় করে যুক্তরাষ্ট্র। আমদানিকারকের তালিকার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষ অবস্থানে। এ ছাড়া কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশও রয়েছে শীর্ষস্থানীয় ক্রেতার তালিকায়। মূলত এসব দেশে আম রপ্তানি করে রপ্তানির শীর্ষে আছে মেক্সিকো। বছরে সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম রপ্তানি করে দেশটি।

‎অন্যদিকে আম উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম–অষ্টম। উৎপাদিত আমের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড লিংক ২০২৫ সালে ইউরোপের তিন দেশে ৩৫ টন আম রপ্তানি করেছে, যা এর আগের বছর বা ২০২৪ সালের চেয়ে ২০ টন কম। সে বছর তারা সাত দেশে ৫৫ টন আম রপ্তানি করেছিল। আম রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার পথে। তবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো চীনে আম রপ্তানি শুরু হয়, যা রপ্তানি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আম কাঁচা-পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়

আমের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন, পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি থাকে। এ ছাড়া ২৫ ধরনের ক্যারোটিনয়েড থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং চোখের চারপাশের শুষ্কভাব দূর করে।

কাঁচা আমের তুলনায় আঁশযুক্ত পাকা আম শরীরের জন্য বেশি ভালো। পাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশজাতীয় উপাদান পেকটিন থাকায় পাকস্থলীতে জমে থাকা খাদ্যকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কাঁচা আম দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। লিভারের সমস্যায় কাঁচা আম বেশ উপকারী। এটি বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। আর শরীরে নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

‎আম খেলে ঘুমের প্রভাব তৈরি হয় কেন
‎প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ নাজনীন এস মৌসুমী বলেন, ‘পাকা আমে রয়েছে প্রচুর ট্রিপটোফ্যান, যা নিদ্রাকর্ষক রাসায়নিক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে আম খেলে তন্দ্রাভাব গভীর হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি কারণে আম খাওয়ার পরে ঘুম বেশি হয়।

ইনসুলিন নিঃসরণ: আমে প্রাকৃতিক চিনি বা গ্লুকোজ বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ইনসুলিনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা ঘুমের অনুভূতি সৃষ্টি করে।

‎ক্লান্তি ও অলসতা: অতিরিক্ত আম খেলে শরীরে ক্লান্তি ও অলসতা দেখা দিতে পারে, যার কারণে ঘুম ঘুম ভাব আসতে পারে।

‎হজমে প্রক্রিয়া: আমের মধ্যে রয়েছে ফাইবার নামক হজমশক্তি, যা সহজে হজমের জন্য সাহায্য করে। তবে বেশি পরিমাণে আম খেলে হজম হতে সময় লাগতে পারে। যার কারণে ঘুম চলে আসে।

‎বন্ধু, কক্সবাজার বন্ধুসভা

Read full story at source