ফকল্যান্ডের ছায়া, রসি-রেনেসাঁ এবং ইতালির ‘প্রত্যাবর্তন’

· Prothom Alo

১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওর সেই ধূসর বিকেলে বিশ্বকাপ নামে যে মহাযাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এই যাত্রার কোথাও পেলে-গারিঞ্চার সাম্বার ছন্দ, কোথাও ম্যারাডোনার ঈশ্বরপ্রদত্ত জাদুকরি ছোঁয়া, আবার কোথাও জিনেদিন জিদান কিংবা লিওনেল মেসির অমরত্বের পথে হেঁটে যাওয়া—সব মিলিয়েই তো এই ফুটবল-পুরাণ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে বিশ্বকাপের সব রোমাঞ্চকর স্মৃতি ফেরানোর আয়োজন—ফিরে দেখা বিশ্বকাপ।

Visit syntagm.co.za for more information.

১৯৩৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের সময় পৃথিবী দাঁড়িয়ে ছিল এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধের দোরগোড়ায়। সেই বিশ্বযুদ্ধের গ্রাসে ১২টি বছর বিশ্বকাপ হারিয়ে গিয়েছিল কোন অন্ধকারে! ফুটবলকে হার মানিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধ। কিন্তু ১৯৮২ সালে এসে দেখা গেল উল্টো ছবি। এবার যুদ্ধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠল ফুটবল, কিংবা বলা ভালো ক্রীড়া–বাণিজ্য। স্পেনের মাঠে যা ঘটল, তা ফুটবল ইতিহাসে আগে কখনো দেখেনি কেউ। সেই প্রথম দেখা গেল, দুই দেশ একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ছে, আবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও খেলছে!

ফকল্যান্ডের যুদ্ধ ও মাঠের ফুটবল

১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল। আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা হঠাৎ আক্রমণ করে বসলেন ‘আইলাস মালভিনাস’ বা ফকল্যান্ড দ্বীপে। প্যাটাগোনিয়া থেকে ৫০০ কিলোমিটার পূর্বের এই দ্বীপপুঞ্জ ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে ছিল ব্রিটিশদের দখলে। আর্জেন্টিনা বরাবরই এটাকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে আসছিল। মার্গারেট থ্যাচারের যুক্তরাজ্যও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারা দক্ষিণ আটলান্টিকে পাঠাল বিশাল নৌবহর। শুরু হলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।

৯ শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল ১৪ জুন পর্যন্ত। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক পরদিন আর্জেন্টিনার সশস্ত্র বাহিনী আত্মসমর্পণ করে ইংল্যান্ডের কাছে।

এই যুদ্ধ বিশ্বকাপের আবহটাকেও তপ্ত করে তুলেছিল। অনেকেই দাবি তুলেছিলেন, যুদ্ধরত দেশগুলোকে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ করা হোক। তত দিনে যুক্তরাজ্য থেকে তিনটি দল স্পেনে পৌঁছে গেছে—ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড। মাদ্রিদ থেকে কিংবদন্তি আলফ্রেডো ডি স্টেফানো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, ‘সেখানে মানুষ মালভিনাসে জীবন বাজি রাখছে, আর এখানে মানুষ বিনোদন দেওয়ার জন্য ফুটবল খেলছে—এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না।’

কিন্তু আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না। তারা সাফ জানিয়ে দিল, দল প্রত্যাহার করার কোনো কারণই নেই। ওদিকে লন্ডনের পার্লামেন্টেও দাবি উঠল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বহিষ্কার করার।

১৯৮২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইতালি।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনো দলকেই নিষিদ্ধ করা হয়নি। আটলান্টিকে যেন কিছুই হয়নি—এমন এক ভাব করে দলগুলো মাঠে নেমে পড়ল। তবে ছায়াযুদ্ধ চলল সম্প্রচারে। ব্রিটিশ সরকার আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচ ব্ল্যাকআউট করে দিল। অবশ্য বেলজিয়ামের কাছে আর্জেন্টিনা যে ১-০ গোলে হারবে, তা আগে জানলে ব্রিটিশরা হয়তো পপকর্ন নিয়ে খেলাটা দেখত!

ওদিকে বুয়েনস এইরেসের টিভি চ্যানেলগুলো ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ম্যাচ দেখানোর ঘোষণা দিয়েও শেষ মুহূর্তে প্রচার করল জার্মানি-আলজেরিয়া ম্যাচ। ভাগ্য ভালো, স্পেনের মাটিতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ব্রিটিশ কোনো দলের দেখা হয়নি। মাঠের যুদ্ধটা তাই আর মাঠের মারামারিতে রূপ নেয়নি। মাঠের ভেতরের আসল ফয়সালাটা অবশ্য তুলে রাখা ছিল চার বছর পরের জন্য, মেক্সিকোর মঞ্চে। সেই গল্প অন্য পর্বের জন্য থাক।

ম্যারাডোনার কান্না এবং আর্জেন্টিনার প্রথম মুকুট

বেড়ে গেল দল, এল নতুন নিয়ম

দলের সংখ্যা ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২৪ করা হলো এই বিশ্বকাপে। আর খেলার পদ্ধতিতেও আনা হয়েছিল নতুনত্ব। প্রথম পর্বে চার দলের ছয়টি গ্রুপ করা হয়, যেখান থেকে শীর্ষ দুটি দল যায় পরের পর্বে। দ্বিতীয় পর্বে আবার তিন দলের চারটি গ্রুপ করা হয়। সেই চার গ্রুপের চার বিজয়ী দল খেলে সেমিফাইনাল।

আর এই বিশ্বকাপেই প্রথম চালু হয় টাইব্রেকার। পশ্চিম জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফ্রান্স ৩–১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও রুমেনিগের দুই গোলে সমতা ফিরিয়ে আনে জার্মানরা। ১২০ মিনিট শেষে ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র থাকায় সেটি টাইব্রেকারে। গোলকিপার হ্যারল্ড শুমাখারের বীরত্বে ফরাসিদের কাঁদিয়ে ফাইনালে ওঠে জার্মানরা।

১৯৮২ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জেতেন ইতালির দিনো জফ

জফ ও হোয়াইটসাইডের রেকর্ড

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডটিও এই আসরেই গড়া হয়। এল সালভাদরকে ১০-১ গোলে উড়িয়ে দেয় হাঙ্গেরি। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে লাসলো কিস হাঙ্গেরির প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েন। কিন্তু এত বড় জয়ের পরও হাঙ্গেরি প্রথম পর্বই পার হতে পারেনি।

ইতালির গোলকিপার দিনো জফ ৪০ বছর ৪ মাস বয়সে বিশ্বকাপ জিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়েন। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের নরম্যান হোয়াইটসাইড মাত্র ১৭ বছর ৪১ দিন বয়সে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড নিজের করে নেন।

ডাচদের টোটাল ফুটবল এবং জার্মান-যন্ত্রের জয়

ম্যারাডোনা ও ১০ নম্বর জার্সি

১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ সিজার মেনোত্তি দলের জার্সি নম্বর দিয়েছিলেন নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী। যার ফলে গোলরক্ষক ফিলোল খেলেছিলেন ৫ নম্বর জার্সি পরে, আর আর্দিলেসের পিঠে ছিল ১ নম্বর! ১৯৮২ বিশ্বকাপেও মেনোত্তি একই নিয়মের পুনরাবৃত্তি করতে চাইলেন। সেই হিসেবে তরুণ ডিয়েগো ম্যারাডোনার ভাগ্যে জুটল ১২ নম্বর জার্সি।

১০ নম্বর যাঁর পরিচয়, সে কি আর ১২ পরে শান্তি পায়? ম্যারাডোনা তাঁর এজেন্ট হোর্হে সিটারস্পিলারকে পাঠালেন কোচের কাছে। মেনোত্তি শর্ত দিলেন, ১০ নম্বর জার্সিটা যার পাওয়ার কথা—সেই পাত্রিসিও হার্নান্দেজ যদি রাজি থাকেন, তবেই নম্বর বদল হবে।

কাকতালীয়ভাবে পাত্রিসিও ছিলেন ম্যারাডোনার রুমমেট। পরদিন সকালে ম্যারাডোনা যখন লাজুক মুখে কথাটা তুলতে গেলেন, পাত্রিসিও বাক্য শেষ করতে না দিয়েই বলে উঠলেন, ‘আরে ধুর, এটা তোমারই।’

খুশি হয়ে ম্যারাডোনা তাঁর একটা দামি রত্নখচিত সোনার ঘড়ি উপহার দিতে চেয়েছিলেন বন্ধুকে। কিন্তু পাত্রিসিও তা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘১০ নম্বরের মর্যাদা রাখার অধিকার তুমি অর্জন করেছ, তাই এটা তোমাকে এমনিই দিয়েছি।’

১৯৮২ বিশ্বকাপে অনুরোধ করে দশ নম্বর জার্সি নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। ছবিটি ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের

চোর কি তবে আর্জেন্টিনার?

চিলি দল মাদ্রিদে পা রেখেই পড়ল বিপাকে। তাদের খেলোয়াড়দের টাকা, কাপড়চোপড়সহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেল। চিলির পত্রিকা ‘লা তেরসেরা’র প্রধান শিরোনাম ছিল—‘চিলি দলের মালপত্র সিনেমাটিক কায়দায় চুরি’। বিমানে জায়গা না থাকায় হ্যান্ড ল্যাগেজগুলোও কার্গোতে পাঠাতে হয়েছিল। ব্যস, মাদ্রিদের বারাহাস বিমানবন্দরে নেমে দেখা গেল ক্যামেরা, শেভার সব গায়েব! স্ট্রাইকার হুয়ান কার্লোস লেতেলিয়েরের তো সাড়ে তিন হাজার ডলারই চুরি গেল। চিলির অফিশিয়ালরা কোনো প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করতে চাননি, তবে একটা তথ্য তারা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন—সান্তিয়াগো থেকে মাদ্রিদ আসার পথে বিমানটির একমাত্র স্টপওভার ছিল বুয়েনস এইরেস!

ওয়েম্বলির সেই ‘বিতর্কিত’ গোল এবং ফুটবলের ঘরে ফেরা

ড্রেসিংরুমে ‘ডাইনি’

বাছাইপর্বের সময় কলম্বিয়া দল উরুগুয়ে আর পেরুর সঙ্গে এক গ্রুপে পড়েছিল। কলম্বিয়ার আর্জেন্টাইন কোচ কার্লোস বিলার্দো দলকে জেতাতে এক অদ্ভুত কাণ্ড করলেন। তিনি বেত্রিজ বেসেরা নামের এক ‘ডাইনি’ বা জাদুকরকে ভাড়া করলেন, যার নাকি অলৌকিক ক্ষমতা ছিল! পেরুর বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগে তাকে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যাওয়া হলো দলের পক্ষে মন্ত্রপূত করার জন্য।

ম্যাচের ৪০ মিনিটে কলম্বিয়ার গোলকিপার পেদ্রো জাপে যখন তিওফিলো কুবিলাসের পেনাল্টি আটকে দিলেন, তখন মনে হচ্ছিল ডাইনির জাদু বুঝি খাটছে! ৬৫ মিনিটে কলম্বিয়া গোল করে এগিয়েও গেল। কিন্তু ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার চার মিনিট আগে গোল খেয়ে বসল তারা। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হতেই বিলার্দোর মোহভঙ্গ হলো। ড্রেসিংরুমে ফিরেই তিনি সেই জাদুকরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করলেন! কলম্বিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারায় পরে বিলার্দোও বরখাস্ত হন।

কলঙ্কিত গিজনের ম্যাচ

২৫ জুন গিজনের মাঠে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক ‘লজ্জাজনক’ নাটক দেখল বিশ্ব। আলজেরিয়ার কাছে জার্মানি প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ায় সমীকরণ এমন দাঁড়িয়েছিল যে অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে হারালে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া—দুই দলই পরের রাউন্ডে যাবে, আর কপাল পুড়বে আলজেরিয়ার। মাঠের খেলা শুরু হতেই ১০ মিনিটে হর্স্ট হরুবেশ গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দিলেন। ব্যস, এরপরের ৮০ মিনিট যা হলো, তা ফুটবল নয়—এক চরম প্রহসন। দুই দলের খেলোয়াড়েরা কেবল বল নিয়ে অলস পায়চারি করলেন।

গিজনের এক পত্রিকা পরদিন এই ম্যাচের খবর খেলার পাতায় না ছেপে ছেপেছিল ‘অপরাধ’ পাতায়! গ্যালারিতে আলজেরিয়ান সমর্থকেরা টাকা দিয়ে ম্যাচ কেনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্প্যানিশ ব্যাংক নোট উঁচিয়ে ধরে।

‘ছোট পাখি’র ডানায় উড়ল ব্রাজিল

শেখের তলোয়ার

আরেক নাটক মঞ্চস্থ হলো ফ্রান্স-কুয়েত ম্যাচে। ফ্রান্স যখন ৩-১ গোলে এগিয়ে, তখন মিশেল প্লাতিনির পাস থেকে আলাঁ জিরেস ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন। কুয়েতের রক্ষণভাগ দাবি করল, তারা গ্যালারির কোনো হুইসেল শুনে রেফারি ভেবে দাঁড়িয়ে পড়েছিল।

এ নিয়ে যখন তুমুল হট্টগোল, তখন কুয়েত ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি শেখ ফাহাদ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহ তাঁর দেহরক্ষী নিয়ে সোজা মাঠে ঢুকে পড়লেন! ইউক্রেনীয় রেফারি মিরোস্লাভ স্তুপারকে রীতিমতো তলোয়ার দেখিয়ে হুমকি দিলেন তিনি। অদ্ভুত ব্যাপার, রেফারি ভয় পেয়ে গোলটি বাতিল করে দিলেন! ফ্রান্স অবশ্য শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলেই জিতেছিল, কিন্তু রেফারির সেই মেরুদণ্ডহীনতার জন্য তাঁকে আর কোনো দিন আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখা যায়নি।

এবং পাওলো রসির ইতালি

কূটনৈতিক টানাপোড়েন একপাশে সরিয়ে রাখলে স্পেনে ফুটবল কিন্তু হয়েছিল দুর্দান্ত। আর শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হলো ইতালি। যদিও টুর্নামেন্টের শুরুতে তাদের বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। প্রথম পর্বে একটা ম্যাচও জিততে পারেনি আজ্জুরিরা! পোল্যান্ডের সঙ্গে ০-০, আর পেরু ও ক্যামেরুনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কোনোমতে দ্বিতীয় পর্বে উঠেছিল তারা। কিন্তু আসল খেলা শুরু হলো সেখানেই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারানোর পর তাদের সামনে ব্রাজিলের সেই ঐশ্বরিক দল, যাদের আজও মনে করা হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। কোচ তেলে সান্তানার অধীনে অধিনায়ক সক্রেটিসের নেতৃত্বে সেই ব্রাজিল দলে ছিলেন সাদা পেলে জিকো, ফ্যালকাও, সেরেজো, অস্কার, জুনিয়রের মতো কিংবদন্তিরা।

সেই ব্রাজিলকে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাওলো রসির হ্যাটট্রিকে ইতালি হারাল ৩-২ ব্যবধানে। সেমিফাইনালে আবার পোল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে ২-০ গোলের জয়, আবার জোড়া গোল রসির। আর মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হয়ে প্রথমার্ধটা ম্যাড়ম্যাড়ে কাটলেও দ্বিতীয়ার্ধে পাওলো রসি, মার্কো তারদেল্লি আর আলেসান্দ্রো আলতোবেলির গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইতালি। ৮৩ মিনিটে পল ব্রাইটনার জার্মানির হয়ে একটা গোল শোধ করলেও ততক্ষণে ইতিহাসের রায় লেখা হয়ে গেছে।

সাত ম্যাচে ৬ গোল করে মারিও কেম্পেসের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের ত্রিমুকুট মাথায় পরেন রসি।

‘দ্য কিং’ পেলের উত্থান এবং ব্রাজিলের প্রথম মুকুট

Read full story at source