ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না, একমত ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দারা

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একমত ছিল যে তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সেন্টারের সাবেক প্রধান জো কেন্ট এই কথা জানিয়েছেন।

Visit sport-tr.bet for more information.

জো কেন্ট গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এই যুদ্ধের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হলো যুদ্ধ শুরুর আগে সিআইএসহ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একমত ছিল যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।’

কেন্ট আরও জানান, মার্কিন গোয়েন্দারা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে ইরানও পাল্টা জবাব দেবে। তারা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করার পর ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছিল।

ইরানের কাছে এখনো ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আছে: সিআইএ

জো কেন্ট বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটাও সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন যে ইরানের নেতাদের ওপর হামলা চালালে সেখানকার শাসকগোষ্ঠী আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। গোয়েন্দাদের পেশাদারত্ব ও নির্ভুল তথ্য থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েল নামের একটি বিদেশি সরকারের ছড়ানো মিথ্যা গল্পই শেষ পর্যন্ত জিতে যায়। আর তারাই যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে আমাদের আর কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটল, তা আমাদের খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার প্রতিবাদে গত ১৭ মার্চ জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সেন্টারের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন জো কেন্ট। তিনি ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করেন, যাদের বিরুদ্ধে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্কে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী বছরগুলোতে ইরাকে হামলা চালানোর মার্কিন সিদ্ধান্তের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির সাদৃশ্য পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কেন্ট মিথ্যা দাবি করছেন, বলছে হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখা একটি চিঠি জো কেন্ট এক্সে শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই প্রশাসনের শুরুর দিকে, উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এবং আমেরিকান গণমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একটি ভুল তথ্যের প্রচারণা চালিয়েছিলেন, যা আপনার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্ল্যাটফর্মকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে উৎসাহিত করার জন্য যুদ্ধপন্থী মনোভাব তৈরি করেছে।’

জো কেন্ট আরও বলেন, ‘একই কথা বারবার পুনরাবৃত্তির কৌশল ব্যবহার করে আপনাকে (ট্রাম্পকে) বোঝানো হয়েছিল যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক আসন্ন হুমকি এবং খুব দ্রুত জয় পেতে আপনার এখনই হামলা করা উচিত। এটি মিথ্যা ছিল এবং ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করে ইসরায়েলিরা আমাদের ইরাকের সেই ভয়াবহ যুদ্ধে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, যে যুদ্ধে আমাদের হাজার হাজার সেরা নারী ও পুরুষ (সেনা) প্রাণ হারিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রে বিরল উদ্যোগ, ইসরায়েলের পরমাণু সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চান কংগ্রেস সদস্যরা

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, কেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ডাহা মিথ্যায় ভরা। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে জঘন্য মিথ্যা দাবি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা রাষ্ট্রটি (ইরান) নাকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না! আর ইসরায়েল নাকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরু করতে বাধ্য করেছিল!’ তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোরালো প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিরাট হুমকি এবং তারা আমেরিকানদের ওপর আগে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ইরানও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা থেকে কোনো চুক্তি হতে পারেনি। পরে ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এর ফলে ইরানের অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি (৪৫০ মিলিয়ন) ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।

আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

Read full story at source