শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফইএবি)
· Prothom Alo

ঈদুল আযহা মানেই দেশের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। নতুন পোশাক, ট্রেন্ডি সংগ্রহ আর পরিবারের জন্য বিশেষ কেনাকাটা। সব মিলিয়ে ঈদের আগে বাজারে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। কিন্তু এই ব্যস্ত মৌসুমেই শপিং মল খোলা রাখার সীমাবদ্ধ সময়সীমা হয়ে উঠছে বড় এক চ্যালেঞ্জ।
Visit moryak.biz for more information.
ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফইএবি) মনে করছে, বর্তমান বাস্তবতায় শপিং মলের নির্ধারিত সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে যখন দেশের বেশিরভাগ কেনাকাটাই এখন সন্ধ্যার পরেই জমে ওঠে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ বলছে, শপিং মলের মোট বিক্রয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই হয় সন্ধ্যার পর, আর দিনের বেলায় হয় মাত্র ৪০ শতাংশ। তীব্র গরম, যানজট আর কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেলায় ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে। ফলে সন্ধ্যার পরই বাজারে তৈরি হয় আসল ভিড়, কেনাকাটার আসল গতি।
কিন্তু বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই শপিং মল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের বড় একটি অংশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। যাদের জন্য ঈদের এই মৌসুমই বছরের বড় ভরসা।
অন্যদিকে পাড়া-মহল্লার দোকান, রেস্টুরেন্ট, খোলা বাজার কিংবা অস্থায়ী মেলাগুলো রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। ফলে শপিং মলগুলোর জন্য আলাদা সময়সীমা তৈরি করছে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা, যা ব্যবসার স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করছে।
এই প্রেক্ষাপটে এফইএবি একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব সামনে এনেছে। দুপুর ১টা থেকে শপিং মল খোলা রাখা এবং বন্ধের সময় রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো। এতে একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বজায় থাকবে, অন্যদিকে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়টুকুও ব্যবসার আওতায় আসবে।
এই পরিবর্তন শুধু বিক্রয় বাড়ানোর জন্য নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবিকা। দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড, নারী উদ্যোক্তা, দোকানের কর্মী সব মিলিয়ে একটি বড় কর্মসংস্থান খাত নির্ভর করে এই মৌসুমের ওপর।
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন কেনাকাটার অভিজ্ঞতাও হয় স্বাচ্ছন্দ্যময়। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শপিং মলের সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হলে, তা হতে পারে ব্যবসা ও ভোক্তা। দুই পক্ষের জন্যই এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।