এক সড়কেই দেড় হাজার কৃষ্ণচূড়াগাছ, কোথায় গেলে দেখা মিলবে

· Prothom Alo

সবুজ মাঠের বুক চিরে এগিয়ে গেছে আঁকাবাঁকা পিচঢালা একটি সড়ক। দুপাশে কোথাও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কোথাও ফলের বাগান, আবার কোথাও সবুজে ঢাকা পাহাড়ের পাদদেশ। তবে এই গ্রামীণ সড়কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় দেড় হাজার কৃষ্ণচূড়াগাছ। সড়কে ঢুকলেই পথচারীদের চোখ আটকায় লাল-কমলা রঙে রাঙা এসব গাছে।

Visit tr-sport.click for more information.

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার এই দৃষ্টিনন্দন সড়ক স্থানীয় লোকজনের কাছে ‘হাঙর সড়ক’ নামে পরিচিত। উপজেলা সদর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ধরে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে বার আউলিয়া গেট। সেখান থেকে বার আউলিয়া সড়ক ধরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার এগোলেই চরম্বা দিঘির কোণ এলাকা। সেখান থেকেই হাঙর সড়কের শুরু।

হাঙর সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। সড়কটি চরম্বা হয়ে লোহাগাড়াকে পার্বত্য বান্দরবান জেলার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এ সড়কের দুপাশে লাগানো হয়েছে কৃষ্ণচূড়াগাছ। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত দুটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এসব গাছ রোপণ করেছে। এ দুটি হলো ‘সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’ ও ‘স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুপাশে প্রায় প্রতি ১০ ফুট পরপর লাগানো হয়েছে গাছগুলো। এসব গাছের বয়স এখন তিন বছর। বর্তমানে বেশির ভাগ গাছই ডালপালা ছড়িয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে গাছগুলো আরও সতেজ হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই ফুটতে শুরু করেছে আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৩ সালের শুরুতে সড়কটি সংস্কারের সময় দুপাশের গাছ কেটে ফেলা হয়, ফলে এটি প্রাণহীন হয়ে পড়ে। সড়কের সৌন্দর্য ও প্রাণ ফিরিয়ে আনতেই আমরা বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিই। ঠাকুরগাঁও থেকে চারা এনে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়।

লাল কমলা কৃষ্ণচূড়ার ঢেউ দেখে মনে হবে আগুন লেগেছে পথের ধারে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নে

সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি আদনান শরীফ বলেন, দুটি সংগঠনের তিন শতাধিক সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীর অর্থায়নে এই উদ্যোগ সফল হয়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এখানে চারা রোপণ করা হয়। নিয়মিত পানি, সার ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় করে তোলা হয়েছে। তবে তিন শতাধিক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো আবার রোপণ করা হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেড় হাজার কৃষ্ণচূড়াগাছের চারা রোপণ করে দুটি সামাজিক সংগঠন যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। গাছগুলো পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন প্রথম আলোকে বলেন, কৃষ্ণচূড়াগাছসমৃদ্ধ সড়কটি পর্যটক ও পথচারীদের আকৃষ্ট করবে। এটি অনন্য একটি উদ্যোগ। আমরা চাই পরিবেশের স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ুক। এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকবে।

Read full story at source